follow us at instagram
Monday, April 06, 2020

মানসিক নির্যাতন সহ্য করে মুখে হাসি নিয়ে চলে অনেক মেয়ে

নারীদের প্রতি মানসিক নির্যাতন  প্রতিরোধ করতে  হলে সবার আগে সমাজ ও পরিবারের  মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2019/11/manoshik.png
বিত্তশালী পরিবারে  সুশিক্ষিত  বউ সূচনার সুখ দিকে অনেকেরই হিংসে হয়। স্বামী সন্তান নিয়ে বাহ্যত সুখী এক পরিবার। শফিকের আচার ব্যবহার সবাই মুগ্ধ। তাকে নিয়ে অভিযোগের  কোন সুযোগ নেই। কিন্তু সূচনা এক নীরব যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছে বিবাহিত জীবনের ১৫ বছর ধরে। ভদ্র মার্জিত শফিকের চুন থেকে পান খসলেই তার দায় গিয়ে পড়ে সূচনার ঘাড়ে। গায়ে হাত তোলার চেয়ে অনেক বেশি আঘাত লাগে তার অকথ্য ভাষার  ব্যবহার। লোক দেখানো সুখের আড়ালে মানসিকভাবে সূচনা কতটা যন্ত্রণাতে আছে তা কেবল সে জানে। শারিরীক নির্যাতন নিয়ে সমাজে প্রতিবাদ প্রতিকার বা আইন ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব। এমনকি পারিবারিক আইনে মানসিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ থাকলেও এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলা দুস্কর হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সূচনার  মত শিক্ষিত নারীদের পক্ষে মানসিক নির্যাতনের প্রতিকার পাবার পথ রুদ্ধ হয়  তাদের সামাজিক, পারিবারিক মর্যাদার কারনে।
শারীরিক  নির্যাতন চাক্ষুষ হলেও মানসিক নির্যাতন অনেকটা অন্তরালের ঘটনা। এর দাগ পড়ে মনে। আর মানসিক দহন মিথ্যে হাসির আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। নারী নির্যাতন বিষয়ক এক জরিপে দেখা গেছে, স্বামীর দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয় ৬৫ শতাংশ নারী। আর মানসিক নির্যাতনের শিকার হয় ৮২ শতাংশ নারী। এর মধ্যে  বিবাহিত নারীরা   সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়। তবে বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষাপটে মানসিক নির্যাতনকে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব  হয় না।  যার কারনে সামাজিক এবং   আইনীভাবে  মানসিক বিষয়গুলোকে স্বামী স্ত্রীর নিজস্ব বিষয় বলে ধরে নিয়ে নিজেদের সমাধান করতে বলে।
মানসিক নির্যাতনের ধরনটা ব্যক্তিভেদে নানা ধরনের হয়।
কটুক্তি,  টিটকারী,  হেয় প্রতিপন্ন করা,  খবরদারি মূলক আচরণ,  ব্যক্তি স্বাধীনতা হস্তক্ষেপ,  পৌরুষত্ব দেখাতে বিকৃত আচরণ, ঘরের বাইরে কাজ না করতে দিয়ে স্ত্রীকে অকর্মন্য প্রমাণ করা, সন্দেহপ্রবনতা ইত্যাদি বিষয় মানসিকভাবে নারীকে বিপর্যস্ত করে। পারিপার্শ্বিক কারনে নারী নিজের অবস্থান থেকে এ ধরনের মানসিক নির্যাতনকে সহ্য করে মানসিকভাবে নিজে সবল নয় বলে। তবে মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে যে আইনি প্রতিকার রয়েছে তা অনেকে জানেনা। পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইনে এ বিষয়ে  মামলা  করা গেলেও  দেশে এ ধরনের   মামলা করার হার মাত্র ৩ শতাংশ।
পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ এর ধারা ৩-এ মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি আইন দ্বারা একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। যার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে মানসিক নির্যাতন পারিবারিক সহিংসতার সংজ্ঞায় পড়ে এবং দেশের আইন অনুযায়ী এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধারাতে  বলা হয়েছে –  ‘পারিবারিক সহিংসতা বলতে পারিবারিক সম্পর্ক আছে এমন কোনো ব্যক্তি দ্বারা পরিবারের অপর কোনো নারী বা শিশু সদস্যের উপর শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন অথবা আর্থিক ক্ষতিকে বুঝাবে।’
আবার ধারা ৩(খ)-তে মানসিক নির্যাতন কিভাবে হতে পারে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে – ‘ যেমন—মৌখিক নির্যাতন, অপমান, অবজ্ঞা, ভীতি প্রদর্শন বা এমন কিছু বলা, যা দ্বারা একজন ব্যক্তি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা হলে তা পারিবারিক সহিংসতার সংজ্ঞায় পড়বে। এছাড়াও কাউকে হয়রানি করা, তাঁর ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা, স্বাভাবিক চলাচল, যোগাযোগ বা ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা মতামত প্রকাশের উপর হস্তক্ষেপ করাও মানসিক নির্যাতন হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনো শিশু বা নারী যিনি পারিবারিক সম্পর্ক থাকবার কারণে পরিবারের অপর কোনো সদস্য কর্তৃক মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বা সহিংসতার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, এই আইন অনুযায়ী তারা প্রতিকার চাইতে পারবেন।’
আইনগত ভাবে  মানসিক নির্যাতনের মত অপরাধের শিকার হয়ে  একজন নারী   স্বাভাবিক জীবনে প্রান চঞ্চলতা হারিয়ে ফেলে। নির্জীব জীবনটা বয়ে বেড়াতে গিয়ে শারিরীক ও মানসিক অসুস্থতাতে ভুগে।   তবু ও   বেশিরভাগই  মানুষ  শারীরিক ও অর্থনৈতিকসহ অন্যান্য নির্যাতনকেই অপরাধ মনে করেন। এমনকি  নারীরাও  সামাজিক লোকলজ্জার কারণে  মানসিক নির্যাতনকে অপরাধ বলে গন্য করে না। বরং প্রানান্ত চেষ্টা চালায় স্বামীর সাথে মানিয়ে নিতে।
মানসিক নির্যাতন সমাজের সকল স্তরে  একটি  ব্যাধি। যা প্রকট আকার ধারণ করছে ক্রমশ।  এক সময় নারীর প্রতি নির্যাতন সমাজের নিম্ন শ্রেণির বা কম শিক্ষিত মানুষের পারিবারিক বর্বরতার ঘটনা বলে মনে করা হতো।  কিন্তু বর্তমান সময়ে এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সচ্ছল স্বাধীন শিক্ষিত পরিবারেও নারীরা নির্যাতনের শিকার হয় প্রতিনিয়ত। পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থায় অগ্রসর নারীদের দমিয়ে রাখার প্রবনতার কারণে ঘরে ঘরে  নারীদের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এর মাধ্যমে। তাই এ বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত।
নারীদের প্রতি মানসিক নির্যাতন  প্রতিরোধ করতে  হলে সবার আগে সমাজ ও পরিবারের  মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। একজন স্বামীকে তার স্ত্রীর প্রতি  মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করতে হবে। দাম্পত্য জীবনে নিজেদের বুঝাপড়ার ক্ষেত্রে দৃষ্টিভংগীর পরিবর্তন করতে হবে। অধিকার বা কর্তৃত্ববোধের অহমিকা পারিবারিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দুজনের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা থেকে সন্তানরা পাবে সুষ্ঠুজীবন এ কথাটা বুঝতে হবে। পরিবারের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রকে মানসিক নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ে আরো বেশি সচেতনতা মূলক প্রচারণা চালাতে হবে। এছাড়া নারীর অধিকার সুনিশ্চিত করতে আইন ব্যবস্থায়  আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সূত্র – পারিবারিক আইন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান গবেষণা, ডেইলি স্টার।     

3 comments

  • Avatar
    Farjana Alam

    November 17, 2019 at 11:56 am

    Aigulet sathe jodi kono husband extra marital affair e joray wife k children dare torchure korey physically metally as well as wife k force korey divorce dewar jonno bachhadare humki dei porashuna bandho korey dibo.Din r por din girl friend k niye masti oi janower ter ki kono bicher nai?

    Reply

  • Avatar
    মো আবু হেলাল

    November 19, 2019 at 9:58 am

    মানুষ হিসাবে আমরা স্বঘোষিত সৃষ্টি শ্রেষ্ঠ জীব এবং সর্বনিকৃষ্ট ও বটে। লেখকের লেখাটা একপাক্ষীক /একপেশে হলে কিছুটা সত্য। এই সত্যটা পুরুষদের ক্ষেত্রে ও প্রযোজ্য। চাই মানুষ হিসাবে মানুষের পক্ষে লেখা। নারী, পুরুষের বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে একতরফা লেখা, একপেশে অবস্থানের বর্হি প্রকাশ।

    Reply

  • Avatar
    Md. Mirazul Islam

    November 23, 2019 at 12:57 am

    আজ আমাদের দেশে নারী আইন তো খুবই কম শক্তিশালী যার কারনে আজ নারীদের মধ্য অধিকাংশ নারীই আজ ডিভোর্স এর সম্মুখীন হচ্ছে। হাইরে নারীবাদী। আজ নারীদের বিবাহ হয়ে গেছে এক প্রকার ব্যবসা। আইন অত্যাদিক শক্তিশালীর কারনেই আজ পুরুষাই মানষিক বিপর্যয়ের মধ্য পরিণত হচ্ছে সেটা বলার আজ কেউ না।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *