follow us at instagram
Wednesday, February 19, 2020

ন ডরাই- সব বাধা পেরিয়ে এক সাগরকন্যার এগিয়ে যাবার ছবি

সাগরপাড়ের এক সার্ফার কন্যার সব প্রতিবন্ধকতা গুড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার সাহসীকতার এক নতুন গল্পের উত্তাপ নিয়ে আসছে নতুন বাংলা ছবি ‘ন ডরাই।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2019/11/images-6-1.jpg

একটি মেয়ে লাল বেনারসি পড়ে মাথা উঁচু করে হেটে আসছে। পেছনে তার অবারিত সমুদ্র, উদাত্ত আকাশ, চোখে মুখে তার দীপ্তি, দুর্দমনীয় আকাঙ্ক্ষা। এক হাতে তার সার্ফিং বোট। এমন জ্বলজ্বলে পোস্টার শুধু নয়, সাগরপাড়ের এক সার্ফার কন্যার সব প্রতিবন্ধকতা গুড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার সাহসীকতার এক নতুন গল্পের উত্তাপ নিয়ে আসছে নতুন বাংলা ছবি ‘ন ডরাই’ যার অর্থ ‘ভয় পাই না’ বা ‘Dare to Surf’। 

২০ জুন বিশ্ব সার্ফিং দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির পোস্টার উন্মোচন হয়েছে।

ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে ২৯ নভেম্বর শুক্রবার। তবে মুক্তি নিয়ে ব্যাপক দৌড় ঝাপ করতে হয়েছে। ছবিটি মুক্তির কথা ছিল গত ৮ই অক্টোবর। কিন্তু সেন্সরবোর্ড আটকে দেয় ছবিটি। স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মুক্তি পাবার কথা ছিল। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনাও করেছিল দেশের সর্বাধুনিক এই প্রেক্ষাগৃহ। সেন্সর বোর্ডের আটকে দেবার কারণ ছিল ছবিতে ব্যবহৃত আপত্তিকর সংলাপ। পরে সেটি বাদ দেবার পরে সেন্সরবোর্ড ছাড়পত্র পায় ছবিটি।

‘ন ডরাই’ পরিচালনা করেছেন তানিম রহমান অংশু। ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন পিংক খ্যাত চিত্রনাট্যকার শ্যামল সেনগুপ্ত। এর আগে তিনি দেব অভিনীত ‘বুনোহাঁস’ এবং অমিতাভ বচ্চন ও তাপসী পান্নু অভিনীত ‘পিংক’ ছবির চিত্রনাট্য লিখে প্রশংসিত হন। অতএব চিত্রনাট্য, কাহিনী ও সংলাপ যে দারুণ কিছু হতে যাচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। সঙ্গীতে আছেন মোহন শরীফ ও জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী জেফার। 

ছবির প্রধান পাত্র পাত্রী চরিত্রে অভিনয় করেছেন শরিফুল রাজ, সুনেরা বিনতে কামাল, পার্শ চরিত্রে আছেন সাইদ বিপু। শরিফুল রাজ এর আগে ২০১৫ সালে রেদওয়ান রনী পরিচালিত প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘আইসক্রিম’ এ অভিনয় করেছেন। তিনি মডেল এবং ভাল অভিনেতা। এছাড়া তিনি মডেলিং ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত। পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময় এ অভিনেতা বাংলাদেশের বড় বড় সব ব্র্যান্ডের সাথে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। ‘ন ডরাই’তে সার্ফার হিসেবে কাজ করার জন্য তিনি সার্ফিং এর উপর তিন মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। 

প্রধান নারী চরিত্র  সুনেরার বড় পর্দায় এই ছবির মাধ্যমে প্রথম আগমন। আর প্রথম ছবিতেই নিজের সবটা ঢেলে দিয়ে অভিনয় করতে চেয়েছেন তিনি। সার্ফার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শরিফুলের মত তিন মাস সার্ফিং শিখেছেন। স্থানীয় সার্ফারদের কাছ থেকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নিজের অভিনয় কেরিয়ার সম্পর্কে বলেন

 ‘ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের শখ ছিল। কিন্তু এমন একটি চিত্রনাট্য চেয়েছি, যা সবার মন ছুঁয়ে যাবে। এই ছবির গল্প আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। কাজটি করে খুব ভালো লেগেছে। আশা করছি, দর্শক আমাকে গ্রহণ করবেন।’

ছবিটির প্রায় ৯০ ভাগ দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে কক্সবাজারে। ছবিতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে সহজবোধ্য ভাষাই ব্যবহার করা হয়েছে।

ছবিতে সমাজ ও পরিবারের ভয়কে জয় করে সার্ফার হিসেবে এক নারীর প্রতিষ্ঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যা নারীদের উৎসাহিত করবে। গল্প সম্পর্কে পরিচালক অংশু বলেন, 

একজন নারী সার্ফারের জীবন থেকে উৎসাহিত হয়ে এ ছবির জন্ম। গল্পটি গড়ে উঠেছে একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে। নারীর এগিয়ে যাওয়ার একটা বার্তাও থাকবে এতে। সিনেমার প্রায় নব্বই শতাংশ দৃশ্য ধারণ করেছি কক্সবাজারে। এতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার করেছি বেশি। কারণ, গল্পটা ওই অঞ্চলের। তবে তা সবাই যেন বুঝতে পারে, সেভাবেই ব্যবহার করা হয়েছে।‘

ছবিটির ট্রেইলার, গান সবকিছু মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুক ও ইউটিউবে সারা ফেলেছে। বাংলা ছবি হিসেবে নতুন অনেক কিছু দেখবে প্রথম বারের মত দর্শক ‘ন ডরাইতে’। সাপোর্টিং নারী চরিত্রে থাকবেন ডেনিশ অভিনেত্রী জশেফিন লিন্ডগার্ড। সার্ফিং নিয়ে এর আগে আমাদের দেশে কোন ছবি হয়নি। আইডিয়া হিসেবে নতুন। তাছাড়া নারী সার্ফার নাসিমার জীবনের সত্যি ঘটনার উপর নির্মিত বলে বিষয়টি বেশ আগ্রহ জাগানিয়া। ট্রেইলার এবং গানের সিনেমাটোগ্রাফি ও পরিচালনা ইতিমধ্যেই সে আগ্রহকে আরও শতগুণ উসকে দিয়েছে।

’ন ডরাই’ এর মূল বিষয় নিয়ে কমিক বই ও প্রকাশ করেছে এর প্রযোজনা সংস্থা। কমিক বইয়ের পরিকল্পনায় ছিল ‘কার্টুন পিপল’ নামে একটি সংগঠনের।

কার্টুনিস্ট সৈয়দ রাশাদ ইমাম তন্ময় এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা করেন। তিনি তার একটি পোস্টে সিনেপ্লেক্সকে পরিকল্পনাটিকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

’ন ডরাই- অ্যাডভেঞ্চার অব আয়েশা’ কমিক বইয়ে আরও যারা কাজ করেছেন তারা হলেন মোরশেদ মিশু, সিদ্দিক আহমেদ, মোহাম্মদ আয়ান, রাকীব রাজ্জাক, ঐশিক যাওয়াদ, জুনায়েদ ইকবাল ইশমাম, রেহনুমা প্রসূন, মাহতাব রশীদ, সৈয়দ নাফিস, আবিদ রেজা রঙ্গন, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এবং তামিম আনজু।

সব মিলিয়ে ‘ন ডরাই’ নিয়ে প্রত্যাশার পারদ ঊর্ধমূখী। সামাজিক যোগাযোগে ‘ন ডরাই’ নিয়ে যে উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে তাতে সহজেই বোধগম্য ছবিটির জন্য দর্শক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে। বাংলা ছবির সুবাতাসের পালে হাওয়া আরও ভাল করে লাগুক ‘ন ডরাই’য়ের মাধ্যমে এই প্রত্যাশা আমাদের। ‘ন ডরাই’ এর জন্য শুভ কামনা।

তথ্য সূত্র: প্রথম আলো, ঢাকা ট্রিবিউন, বিডি নিউজ, একুশে টিভি, ফিল্মসিটি।   

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *