follow us at instagram
Monday, April 06, 2020

ডিজিটাল বাংলাদেশের নারীরা কোথায়?

নারী গ্র্যাজুয়েটদের আইসিটির চাকরিতে নিয়োগের হার তাদের পুরুষ সহপাঠীদের তুলনায় ২৩.৬% কম।  তাহলে এই নারীরা কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে?
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2019/12/2-1280x817.jpg

বিশ্বের প্রথম কোডার লেডি অ্যাডা লাভলেসের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার জন্য, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে যে সকল নারীরা কাজ করছেন, আমরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগগুলি নিয়ে একটি তিন খণ্ডের ফিচার করছি।

প্রথম খণ্ড- ওয়ান মিলিয়ন ডিজিটাল রাইজিং

“এই বিশাল, ঝকঝকে  কম্পিউটারের যুগ নারীদের জন্য সম্পূর্ণ এক নতুন ধরণের কাজের ক্ষেত্র এনে দিয়েছে: আর তা হচ্ছে প্রোগ্রামিং। যার মাধ্যমে এই অলৌকিক মেশিনগুলির  কী করা উচিত এবং কীভাবে করা যায় তা বলা হয়। যেমন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া থেকে শুরু করে স্থানীয় ডিপার্টমেন্ট স্টোরের বিলের নোটিশগুলি প্রেরণ করা ইত্যাদি । এবং যদিও এটি নারীদের কাজ বলে হয়ত মনে হচ্ছেনা – তবে, এটি তাদেরও করার মতন কাজ। – কসমোপলিটন ম্যাগাজিন, ১৯৬৭ 

এক মিনিট সময় নিয়ে একজন প্রোগ্রামারকে আঁকার চেষ্টা করুন। খুব সম্ভাবত, আপনি এমন একটি খামখেয়ালী পুরুষ আঁকবেন, যেখানে তার চোখে চশমা থাকবে, খোঁচা খোঁচা দাড়ি থাকবে, এবং তার শুচিবায়ুসহ বিভিন্ন মুদ্রাদোষ থাকবে। সে আসলে একজন ব্রোগ্রামার। এবং আপনার এই ধারণা ঠিক ভুল নয় কেননা এই বিশেষ স্টেরিওটাইপটি বিশ্বজুড়ে আপস্কিল্ড ডিজিটাল লেবারে যে লিঙ্গভিত্তিক অসমতা হচ্ছে, সে বিষয়ই তুলে ধরছে।  প্রযুক্তি খাতে অল্পসংখ্যক নারীরা কেন কাজ করছেন সে সম্পর্কে যদিও অনেকগুলি কারণ রয়েছে তবে দক্ষতা তাদের মধ্যে একটি নয়।

আমাদের প্রযুক্তি খাত পুরুষ-প্রভাবিত হবার পিছনে বিভিন্ন স্টেরিওটাইপ, জেন্ডার-ভিত্তিক তথ্যের অভাব, অনুকূল কাজের পরিবেশ এবং নীতিমালা ইত্যাদি কাজ করছে। এবং, এই বৈচিত্র্যের অভাবে পুরুষরাই এই ডিজিটাল স্পেসে কাজ করছে এবং এর ফলে শুধুমাত্র পুরুষদের জন্যই পরিষেবাগুলি ডিজাইন করা হচ্ছে- যা পরবর্তীতে এই অসমতাকে আর দৃঢ়  করে তুলছে। 

আমেরিকা ও ব্রিটেনের মতো অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশগুলি যখন প্রযুক্তি খাতে নারীদের অংশগ্রহণে অবনতি দেখছে, ভারত ও ইউক্রেনের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলি এ খাতে লিঙ্গ সমতার দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এখনও গঠনমূলক পর্যায়ে আছে, এই সময়টা আমাদের এমন নীতি ও পরিবেশ তৈরি করার সময় যা এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।

ভবিষ্যতে চাকরির ক্ষেত্রসমুহ

এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সময়ে, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এর শিক্ষার্থীরা তাদের গ্র্যাজুয়েশন শেষ হওয়ার পরে উচ্চ বেতনে এন্ট্রি-লেভেল চাকরি সহজে পেয়ে যাচ্ছে, এটা আশ্চর্যজনক কোন বিষয় না। এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক অনুযায়ী, দেখা গেছে যে, প্রযুক্তি খাতের গ্র্যাজুয়েটদের তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চাকরি পাবার সম্ভাবনা ৭৭% বেশি, যা সামগ্রিকভাবে অন্যান্য খাতের  গ্র্যাজুয়েটদের তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চাকরি পাবার সম্ভাবনার তুলনায় দ্বিগুণ, কারণ অন্যান্য ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৪০%। সদ্য পাশ করে বের হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটদের আইসিটি সেক্টরে গড় বেতন ৩৮,৭৮০ টাকা যেখানে জাতীয় গড় মাত্র ৩০,০০০ টাকা। এবং এটি একটি দুর্দান্ত ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা তৈরি করছে, তবে এটি নারীদের কাছে বাজারজাত করা হচ্ছে না।

আইসিটি বাংলাদেশের জন্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র, এবং আমাদের সরকার দেশের ‘ভবিষ্যত-সুরক্ষা’ নিশ্চিত করার জন্য অনেক ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে যার মাঝে একটি হচ্ছে ২০০৯ সালের জাতীয় আইসিটি নীতি যা শিক্ষার সকল স্তরে আইসিটি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়। তবে নারীদের পেশাগত ভূমিকা নিয়ে আমাদের বাঁধাধরা ধারণা, পর্যাপ্ত রোল-মডেলের অভাবের পাশাপাশি সীমিত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং এ খাতে শিক্ষার সুবিধার সীমাবদ্ধতা মেয়েদেরকে প্রযুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে তাদেরকে শিক্ষকতা বা অ্যাকাউন্টিংয়ের মতো স্বল্প বেতনের চাকরিতে যেতে প্রভাবিত করছে।

তারপরেও, নারীরা যখন সিএসই বা আইসিটি পড়ার জন্য সাবজেক্টটি বেছে নিচ্ছেন, গ্র্যাজুয়েশন এবং কর্মসংস্থানের সময়ের মাঝে কিছু একটা ঘটে যায় – কেননা নারী গ্র্যাজুয়েটদের এই ক্ষেত্রে চাকরিতে নিয়োগের হার তাদের পুরুষ সহপাঠীদের তুলনায় ২৩.৬% কম।  তাহলে এই নারীরা এখন কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে? তারা কি গৃহিণী হয়ে যাচ্ছে? পিতা-মাতারা কি তাদের মেয়ে সন্তানদের/কন্যাদের কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে সরিয়ে পারিবারিক দায়িত্বের প্রতি ঠেলে দিচ্ছে? আমাদের কর্মক্ষেত্রের বাস্তব পরিবেশ কি নারীদের জন্যে স্বাচ্ছন্দ্যকর নয়? নাকি উপরের সব?

হারিয়ে যাওয়া অতীত

মেধাবী পুরুষ প্রোগ্রামারের সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা গত কয়েক দশক ধরে স্থায়ী ছিল, তবে বিষয়টি সবসময় এরকম ছিল না। প্রকৃতপক্ষে, কসমোপলিটনে প্রকাশিত ‘কম্পিউটার গার্লস নিবন্ধ’ বের হওয়ার বহু আগে থেকেই প্রোগ্রামিংকে একটি প্রধানত নারীদের পেশা হিসেবে দেখা হতো।  বিশ্বের প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার (ইএনআইএসি-ইলেক্ট্রনিক নিউমেরিক্যাল ইন্টিগ্রেটর অ্যান্ড কম্পিউটার) ১৯৪৬ সালে উন্মোচিত হয়েছিল এবং এটা ৬ নারী বিশিষ্ট একটি দল এটি তৈরি করেছিল যারা প্রোগ্রাম ম্যাপিং এবং ডিবাগিংয়ের মতন জটিল পদ্ধতিগুলি ভালোমতন বুঝতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, আটলান্টিকের দু’দিকেই নারীরাই প্রধানত সফটওয়্যার খাতে নিয়োজিত ছিলেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৫১ সালে একদল নারী তাদের প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটারের জন্য হার্ডওয়্যার তৈরি করেছিলেন।

এবং তারও অনেক আগে, লেডি অ্যাডা লাভলেস ১৮৩৩ সালে বিশ্বের প্রথম অ্যালগরিদম কোড লিখেছিলেন। যদিও হার্ডওয়ারটি ফেইল করে এবং কোডটি কখনই আলোর মুখ দেখতে পারেনি, সম্ভবত লাভেলসও এটি নিয়ে পরবর্তীতে আর কাজ করার সময় আর পাননি কেননা তিনিও ৩৬ বছর বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে এখনও তাকে আধুনিক যুগের কম্পিউটিংয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়। 

ইলেকট্রনিক কম্পিউটারগুলির প্রাথমিক দিনগুলিতে, প্রোগ্রামিংয়ের চাহিদা সম্পর্কে খুব একটা বোঝা যাচ্ছিল না, হার্ডওয়্যারে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল এবং সেখানেই পুরুষরা নিযুক্ত ছিলেন। সফ্টওয়্যারে সে সময় তেমন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, এবং সেই তথ্যের অভাবেই এই জেন্ডার স্টেরিওটাইপস বিরাজ করেছিল। প্রোগ্রামিং পদ্ধতিগত এবং গঠনমূলক  ধরণের কাজ বলে এটাকে তখন দাপ্তরিক কাজ হিসেবে দেখা হতো। ১৯৬৮ সালে ‘ইয়োর ক্যারিয়ার ইন কম্পিউটার’ নামক একটি প্রকাশনায় লেখক ধারণা করেছিলেন যে, যে লোকেরা রান্নার বই দেখে রান্না করতে পছন্দ করেন তারাই প্রোগ্রামিংয়ে ক্যারিয়ারের জন্য উপযুক্ত।

জেন্ডার অসমতার কারণে, অনেকই এই কাজের আসল গুরুত্বকে তুচ্ছ করে দেখে। তবে, এটি নারীদেরকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এনে দেয়, এবং সেসময় সেই বিখ্যাত কসমোপলিটান প্রবন্ধে, এটি উল্লেখ করা হয়েছিল যে কম্পিউটারের কাজ করে নারীরা বছরে ২০,০০০ ডলার উপার্জন করতে পারেন (আজকের দিনে তা ১৫০,০০০ ডলারের সমতুল্য)।

এবং এরপরে এলো পারসোনাল কম্পিউটারের যুগ এবং প্রচলিত জেন্ডার স্টেরিওটাইপ এটিকে বিজ্ঞানবাক্স এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক্সের সাথে এটাকেও ছেলেদের ঘরে টেনে নিয়ে যায়। এর আগে, যারা প্রোগ্রামিং কোর্স করতে আসতেন, তারা প্রত্যেকে এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। যার ফলে এ ক্ষেত্রটি একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল। তবে প্রথম মেশিনগুলি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবার পরে, ছেলেরা এগুলোকে ঘাটাঘাটি করার সময় পেত। কেননা যুগ যুগ ধরে দেখা গেছে যে, সারা বিশ্বে সব সময় ছেলেদের হাতেই বেশি সময় থাকে। কারণ বিশ্বব্যাপী, বেতনবিহীন ঘরের ৭৫% কাজ নারীরাই করে, যেখানে পুরুষরা গড়ে ৩০-১২০ মিনিট ব্যয় করে তাদের তুলনায় নারীরা দিনে এ সকল কাজে ২-৬ ঘন্টা ব্যয় করে। ঘরে পুরুষদের হাতে অনেক ফ্রি সময় থাকে এবং এইভাবে একজন ব্রোগ্রামারের জন্ম হয়।

ইতিমধ্যে ৯০এর গোড়ার দিকে কম্পিউটার বিজ্ঞানের স্নাতক প্রোগ্রামে কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীদের অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে ১০ শতাংশের নীচেই থেকে যাচ্ছিল। এই জেন্ডার গ্যাপ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানী জেন মার্গোলিসের অনুসন্ধানমূলক কাজ থেকে জানা গেছে যে কম্পিউটিং এখন ইতিবাচকভাবে পুরুষদের কাজ হয়ে উঠেছে ।

একটি ব্যক্তিত্বের ধরণও এর ফলে উত্থাপিত হয়, এবং ম্যানেজাররাও এর ফলে এককমনস্ক, খামখেয়ালী এবং অসামাজিক প্রোগ্রামারদের নিয়োগ দেওয়া শুরু করলেন। ক্যারোলিন ক্রেইডো পেরেজ তার বই ‘ইনভিজিবল উইমেন’-এ উল্লেখ করেন যে এইধরণের পক্ষপাতগুলো এখন স্বয়ংক্রিয় এইচআর অ্যালগরিদমেও বিবেচনা করা হচ্ছে। গিল্ডের মতো নিয়োগদাতা প্ল্যাটফর্মগুলি আবেদনকারীদের সামাজিক তথ্য সংগ্রহ করে যা ডিজিটাল কমিউনিটিতে তাদের সামাজিক খ্যাতি র‍্যাঙ্কিং করতে ব্যবহৃত হয়। তারা কমিক সাইটগুলিতে, গেম খেলতে বা চ্যাট করতে এবং সামাজিক সাইটগুলিতে মন্তব্য করা ইত্যাদিতে যত বেশি সময় ব্যয় করে তাদের স্কোর তত বেশি। সমস্যাটি হল, এগুলি প্রধানত পুরুষদের আগ্রহের বিষয় এবং নারীদের যেহেতু পেশাগত কাজ ব্যতীত ঘরের অনেক দায়িত্ব থাকে যার ফলে তাদের অবসর সময় নাও থাকতে পারে এবং তাই তাদের এই ক্ষেত্রে অবস্থান এত নিচে।

এটি একটি বাস্তব এবং চিরস্থায়ী স্টেরিওটাইপ – একজন একরোখা ডেভেলপার তিনি, যিনি ফাস্ট ফুড খেয়ে বাস করেন, যিনি শুধু কম্পিউটারের স্ক্রিনের আলো দেখেন এবং বাস্তব জীবনে সামাজিকতা মেনে চলার প্রয়োজন বোধ করেন না। তবে তার মানে এই না যে তিনি খুব ভালো একজন ডেভেলপার। এগুলি কিন্তু ডেভেলপার হবার মৌলিক বিষয় নয়, ঠিক যেমন একজন ভাল শিল্পী হওয়া মানে এই না যে তারও শুধু অগোছালো চুল থাকে এবং সেও সারাদিন ছবি একে বেড়ায়। অনেক কিছুই আসলে এখানে হতে পারে এবং নারীদেরকে পেশাদার স্টেরিওটাইপে পুরুষ-প্রভাবিত যে  স্টেরিওটাইপগুলিতে আছে, সেগুলোতে খাপ খাওয়াতে হবে না।

ডিবাগিং দ্যা সিস্টেম

স্টেরিওটাইপের ব্যাপারটা হলও, এগুলো আমদানি করা সহজ, এগুলো আসে করমুক্ত এবং এগুলো সর্বত্র পাওয়া যায়। জেন্ডার বিষয়ক প্রচলিত ধারনার সাথে মিশে, আরও একটি অদৃশ্য ধারণা তৈরি হচ্ছে, যে আইসিটি পুরুষদের জন্য। এবং কর্মক্ষেত্রগুলি এই ধরণের কর্মচারী দিয়েই গঠন হচ্ছে।

এই মুহুর্তে বাংলাদেশের আইসিটি খাতে প্রায় ১৬% নারী কর্মী  রয়েছে। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের মতে, বর্তমানে এ খাতে শ্রমশক্তি প্রায় এক মিলিয়ন, যার মধ্যে ১৬০,০০০ জনই নারী। একটি সংখ্যা এত ছোট, যে এটি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে ।

মন্ত্রী তার মন্তব্যে প্রকাশ করেছিলেন যে, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি সেক্টরে মানবসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও দুই মিলিয়নকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এবং লক্ষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে এক মিলিয়নই নারী হবেন।

বাংলাদেশ যদি নারীদেরকে এ খাতে টেনে আনতে ব্যর্থ হয় তাহলে বুঝতে হবে যে আমাদের এই  ডিজিটাল স্পেসটি আমাদের ফিজিকাল স্পেসের মতনই পক্ষপাতদুষ্ট এবং আগ্রাসী। এবং দেখতে গেলে, আইসিটি ইন্ডাস্ট্রিতে লিঙ্গ সমতা আনতে পারলে তা থেকে দুর্দান্ত আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে। ৩৪টি ইউরোপীয় দেশের ৪.৪ মিলিয়ন বেসরকারী ব্যবসা নিয়ে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, হাই-টেক ও নলেজ-ড্রিভেন সংস্থাগুলিতে সিনিয়র পদে নারীদের সংখ্যার সাথে তাদের অ্যাসেটের উপরে রিটার্ন মধ্যে সুস্পষ্ট সম্পর্ক আছে। ৮ বছর ধরে করা ২৫০০ ড্যানিশ সংস্থাগুলি নিয়ে একটি ছোট্ট সমীক্ষায়ও কর্মক্ষমতা এবং লিঙ্গ-বৈচিত্রময় নেতৃত্বের মধ্যেও একই রকম সংযোগ দেখা গেছে ।

প্রোগ্রামিং একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং লাভজনক ক্যারিয়ার যা একটি সুরক্ষিত এবং বৃদ্ধিমূলক ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দেয়। বাংলাদেশে আজকের আইসিটি ইন্ডাস্ট্রিতে কোন ধরণের ইতিবাচক নীতি এবং অবকাঠামো বিদ্যমান? এবং কি পরিবর্তন প্রয়োজন?

আপনি যদি একজন নারী হয়ে থাকেন যিনি এখন এ লেখাটি পড়ছেন, আপনার কি কখনও মনে হয়েছে করেছিলেন যে আপনার হাতটি আপনার ফোনের জন্য খুবই ছোট? তার কারণ ফোনটি আসলেও অনেক বড়। গড়ে স্মার্টফোনগুলি ৫.৫ ইঞ্চি, বেশিরভাগই যা নারীদের হাতের তুলনায় বড়। পুরুষরা ডিজাইন প্রক্রিয়াতে আধিপত্য বজায় রাখে বলেই এমন হয়েছে। ৭০% অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলি কোনও পুরুষ ভয়েসকে চিনতে পারে । ফিটনেস মনিটরিররা বাড়ির কাজের সময় চলাফেরা করা বা বাচ্চাদের প্র্যাম ঠেলাকে হাটার স্টেপস হিসেবে গণনা করে না। জেন্ডারের উপর ভিত্তি করে পক্ষপাতিত্ব জেন্ডার অসম ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রাকৃতিক পরিণতি।

স্পষ্টতই এটি হিডেন হ্যান্ড বা ম্যাসনসদের কোনও খারাপ পরিকল্পনার অংশ নয়। পারভেজের বর্ণনা অনুযায়ী, এটি একটি ডিজাইন ফ্ল, একটি ব্লাইন্ড স্পট, একটি প্রচলিত ধারা। এই বিশ্ব চলে সক্ষম, ডান-পন্থি সাদা মানুষদের জন্যে এবং তারাই এটা এভাবে চালায়।

আইসিটি এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতে (স্টেম) নারীদের অংশগ্রহণ কম হবার পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে, তবে সবচেয়ে অবিচল একটি কারন হল, নারীরা গণিতে দুর্বল – এই স্টেরিওটাইপ। আইসিটি এবং স্টেমে নারী রোল মডেলের অভাব সেই ধারণাটিকে আরও দৃঢ় করে তোলে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং জেন্ডার নর্মস গ্র্যাজুয়েশনের পরে এই ক্ষেত্রে চাকরি ও ক্যারিয়ার বৃদ্ধিকে সীমাবদ্ধ করে।

জেন্ডার ব্যালেন্স এনে, ২০২১ সালের আইসিটি কর্মশক্তিতে ২ মিলিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য অর্জনের জন্য কী করা হচ্ছে এবং কী করা দরকার তা বোঝার প্রয়াসে তারামন ছোট-বড় বিভিন্ন আইসিটি সংস্থাগুলি যেখানে ১০০০ থেকে ১৪জন কর্মী আছে তাদের একটি ছোট নমুনা জরিপ করেছে যেখানে তারা কর্মক্ষেত্রে বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে বেসরকারী সংস্থাগুলি কী ধরণের পদক্ষেপ নেয় তা জেনেছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *