follow us at instagram
Tuesday, September 22, 2020

ডিভোর্সের পর নতুন জীবনকে সাজিয়ে নিন নিজের মত

জীবনে একটা দূর্ঘটনা মানেই জীবন শেষ নয়। একটু অন্য ভাবে দেখলে নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ থাকেই।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2019/12/Capture.PNG-ddd.png

আমার ডিভার্সের পরে আমার একটা বড় ভুল ধারনা ভেঙ্গে যায়, তা হল আমার পরিবার আমার পাশে থাকবে কিনা? আমরা শেষের দিকে আমরা কক্সবাজার থাকতাম। আমি যখন ঝামেলার পরে ঢাকায় চলে আসি তখন আমার পরিবার আমাকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছে।

আমি দিনের পর দিন ঘুমাতে পারতাম না । বাইরে যেতাম না। মনে হত আমার জীবন শেষ। এখানেই ফুল ষ্টপ। সারাক্ষন আমার সংসারের কথা ভাবতাম। আমার সাথে যেগুলো হয়েছে ওগুলো ভাবতাম। মানুষ কি বলবে ? এগুলো চিন্তা করতাম।

আমার মনে আছে, আমি আমার ভাইকে প্রতিদিন একটাই প্রশ্ন করতাম,”কেন এমন হল?” ও বলত,”কিছুই হয়নি ! কয়টা মানুষ জীবনে দ্বীতিয়বার শুরু করার সুযোগ পায় ? তুই পেয়েছিস। তুই তো অনেক লাকি।“

আমি বলতাম, “সব শেষ হয়ে গেছে।“ ও বলত, “সব নতুন করে শুরু হচ্ছে।“ আমার মাঝে মাঝে মনে হত , “আমি মরে গেলাম না কেন ?”আমার ভাই আমাকে বলত, “কি কি তোর করতে ইচ্ছে করত কিন্তু করা হয়নি? ওগুলো খুঁজে বের করে ওগুলো কর।“

ছাত্র জীবনে আমার খুব কারাতে শিখতে ইচ্ছে করত গিটার বাজাতে ইচ্ছে করত। হ্যাঁ আমার ৩০ বছর বয়সে আমি আমার আমার ভাইয়ের কথামত কারাতে ক্লাসে জয়েন করলাম, গিটার ক্লাসে জয়েন করলাম।

আমার মা কে বললাম সাইকেল চালানো শিখতে ইচ্ছে করে। আম্মা কোথা থেকে একটা সাইকেল যোগাড় করে দিল। আমরা দুই বোন মিলে সাইকেল শিখলাম।

এর পর ধিরে ধিরে আমার মনে হল কিছু করা দরকার।

তখনই আসলো আসল চ্যালেন্জ। আমি যা কাজ পাই সবই  প্রায় শুরুর দিকের কিন্তু বয়স হয়ে যাচ্ছে। কি করব? ভাবছিলাম একটা ফেলোশিপ এর জন্য চেষ্টা করব। কিন্তু যত ভাল প্রতিষ্ঠান আছে তারা চায় প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী বা লম্বা সময়ের কাজের অভিজ্ঞতা। যা কোনটাই আমার নাই। লম্বা সময়ের অভিজ্ঞতা অল্প সময়ে সম্ভব না। কিন্তু ভাল একটা ইউনিভার্সিটি ডিগ্রির জন্য চেষ্টা করা যায়।

কিন্তু আমি পড়ালেখা শেষ করেছি প্রায় ৫ বছর হয়ে গেছে। আমার পক্ষে সম্ভব না।পরিবারের সবাই বলল “চেষ্টা তো কর !” আমি পড়া শুরু করলাম। ওহ্ অসহ্য এই পড়ালেখা। সম্ভব না। পারব না। অনেক কষ্ট হচ্ছিল পড়ালেখা করতে।

হঠাৎ একজন সেলিব্রেটির সাক্ষাৎকার দেখছিলাম। সে বলছিল, “সফল হওয়ার কোন শর্টকার্ট রাস্তা নেই। পরিশ্রম করতেই হয়।“ আমি পড়া শুরু করলাম ভালভাবে। ২য় মাষ্টার্স করার জন্য প্রথমে ঢাকা ইউনিভার্সিটি তে পরে জাহাঙ্গীরনগরে পরিক্ষা দিলাম।

হ্যাঁ আমি জাহাঙ্গীরনগরে চান্স পেয়ে গেলাম। ভর্তি হলাম। নতুন বন্ধু হল। পাশাপাশি ছোটখাটো কাজ করা শুরু করলাম। সামনে হয়ত আরও ভাল কিছু করব। আমার মনে আছে একদিন জাহাঙ্গীরনগর বেড়াতে গিয়ে বলেছিলাম ,”জানো আমার এখানে পড়তে  ইচ্ছে করে।“ সে বলেছিল, “নিজের যোগ্যতার কথা ভাবো। এখানে পড়তে যোগ্যতা লাগে।“

হ্যাঁ, আমি পেরেছি !

জীবনে একটা দূর্ঘটনা মানেই জীবন শেষ নয়। একটু অন্য ভাবে দেখলে নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ থাকেই। দূর্ঘটনাগুলোতে সবসময় আমাদের হাত থাকে না। দোষও থাকে না। তাই থেমে না যেয়ে ওই দূর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে শুরু করা উচিত। পজেটিভলি চিন্তা করা উচিত। শুরু করার জন্য আসলে কখনো দেরি বলে কিছু নেই।

** এই লেখা তারামনের  একজন পাঠকের একান্ত নিজস্ব অনুভূতি থেকে লেখা। তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *