follow us at instagram
Wednesday, February 19, 2020

ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা যমজ বোন শেলী ও মিলি সবার গর্ব

জমজ বোন আয়েশা সিদ্দিকা শেলী অতিরিক্ত কর কমিশনার এবং আসমা সিদ্দিকা মিলি ডেপুটি পুলিশ কমিশনার পদে কর্মরত।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/01/image-139969-1578983500.jpg
Image Source: sheershakhobor.com

পরিবারে কন্যা সন্তান মানেই আশীর্বাদ। যমজ কন্যা সন্তান যেন দ্বিগুণ আশীর্বাদ। বিজ্ঞানীদের মতে, যেসব পরিবারে যমজ ভাইবোন থাকে, সেসব পরিবারে নিঃসন্দেহে অনেক আনন্দ বিদ্যমান। তবে বাবা-মায়ের চ্যালেঞ্জ থাকে সমান সুযোগ সুবিধা ও ভালবাসা দিয়ে যমজ সন্তানদের মানুষ করার। তাদের সাফল্য-ব্যর্থতা, আনন্দ হতাশা সবকিছুকেই বাবা মাকে একসাথে গ্রহণ করতে হয়।  

সেদিক থেকে যমজ বোন আয়েশা সিদ্দিকা শেলী ও আসমা সিদ্দিকা মিলির গড়েছেন এক অভূতপূর্ব সাফল্যের দৃষ্টান্ত। মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ হামিদ ও রিজিয়া খানমের সন্তান তাঁরা।

বর্তমানে আয়েশা সিদ্দিকা শেলী ঢাকা কর অঞ্চল ১১ পরিদর্শী রেঞ্জ-২-এর অতিরিক্ত কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এবং আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম, পিপিএম ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডেপুটি পুলিশ কমিশনার পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

নয় ভাই-বোনের মধ্যে সর্বশেষে তাদের একসাথে আগমন। আয়েশার এক মিনিট ব্যবধানে পৃথিবীতে এসেছেন আসমা। মজার ব্যাপার হল তাঁরা দেখতেও একই রকম। স্কুল কলেজের পরে বিশ্ববিদ্যালয়েও একসাথে পড়ার সুযোগ হয়েছে দু বোনের। আয়েশা সিদ্দিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে এবং আসমা সিদ্দিকা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। 

আয়েশা সিদ্দিকা শেলী’র কর্ম জীবন

আয়েশা সিদ্দিকা শেলী ১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী কর কমিশনার পদে নিয়োগ লাভ করেন। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ডেপুটি কমিশনার এবং তারপর এক বছর যুগ্ম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর পাঁচ বছর সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম ও কল্যাণ শাখার কূটনৈতিক কাউন্সিলর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দেশে এসে দুই মাস ট্যাক্স একাডেমীর যুগ্ম পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে অতিরিক্ত কর কমিশনার হয়েছেন।

আসমা সিদ্দিকা মিলি’যা করছেন

অন্যদিকে আসমা সিদ্দিকা মিলি ২০০৫ এ ২৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার পদে নিয়োগ পান। তিনি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), রাজবাড়ির পুলিশ সুপার ও বেশ কয়েক বছর ইমিগ্রেশন নিয়ে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে  সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) পেয়েছেন। ২০১৮ সালেও তিনি প্রশংসনীয় অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ পদক বিপিএম -সেবাপদকে ভূষিত হন।

নিজ পেশার কর্মকর্তাদের কল্যাণ ও স্বার্থরক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোট যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা।  আয়েশা সিদ্দিকা শেলী অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাকসেশন) এসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে মহাসচিব পদে আর ছোট বোন ডিএমপির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার আসমা সিদ্দিকা মিলি (বিপিএম, পিপিএম) অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচনে যুগ্ম সম্পাদক পদের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।। এর আগে অফিসার্স ক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি সদস্য পদে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় এবার যুগ্ম সম্পাদক পদে লড়াই করছেন। 

কর্মজীবনের বাইরেও আছে জীবন…

পেশা জীবনের বাইরেও রয়েছে দু বোনের বর্ণাঢ্য জীবন। আয়শা সিদ্দিকা শেলী নিজেকে বিভিন্ন ধরণের সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেছেন। রোটারি ইন্টারন্যাশনাল সিঙ্গাপুর, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি, মাগুরা জেলা সমিতি, ঢাকা অফিসার্স ক্লাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ঢাবির পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাসোসিয়েশন ইত্যাদির সম্মানিত সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের ২০১৪-১৬ মেয়াদের নির্বাহী সদস্য এবং ঢাকার অ্যারোমা রোটারি ক্লাবের আসন্ন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া স্তন ক্যান্সারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের সহযোগিতা এবং তাদের অনুপ্রাণিত করতে প্রতিষ্ঠা করেছেন দ্য ব্লু স্কাই চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন। 

এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পেছনের গল্পটা অবশ্য দুঃখজনক। তাদের বড় বোন আইরিন পারভিন বাঁধন ছিলেন ১১তম বিসিএস এর একজন ক্যাডার। তিনি বাংলাদেশ সরকারের উপ সচিব এবং নব্বই দশকের ছাত্রলীগের ডাকসু নির্বাচনে শামসুন্নাহার হলের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে অদম্য মেধাবী আইরিন পারভিন স্তন ক্যান্সারের কারণে চিরবিদায় নেন পৃথিবী থেকে। এই ফাউন্ডেশন পরিচালনায় বেশি সময় ব্যয় করেন আসমা সিদ্দিকা মিলি। মূলত বড় বোনকে ক্যানসারে হারানোর পরে স্তন ক্যান্সার বিষয়ক সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর বিরুদ্ধে লড়তেই ঐ বছর ২৬ জানুয়ারি দ্য ব্লু স্কাই চ্যারিট্যাবল ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। পরিবারের অধিকাংশ সদস্যরাই সরকারী চাকুরী করায় তাদের শৈশব থেকেই দেশসেবায় ব্রতী হবার মনোভাব গড়ে উঠেছে। তারপরও পুলিশের মত চ্যালেঞ্জিং পেশা গ্রহণ করায় নারী হিসেবে কম বাধা পেরোতে হয়নি। সকলের সহযোগিতায়ই আজ তাঁরা এমন অবস্থানে পৌঁছেছেন বলে জানালেন দুজনেই। 

তথ্যসূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন, জুম বাংলা, পূর্ব পশ্চিম নিউজ। 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *