follow us at instagram
Wednesday, February 19, 2020

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে যেসব সতর্কতা জরুরী

করোনা ভাইরাসের পুরো নাম নভেল করোনা ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে সারা বিশ্ব জুড়ে জরুরী অবস্থা নেয়ার কথা বলেছে।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/02/Capture.PNG-korona.png

করোনা ভাইরাসের পুরো নাম নভেল করোনা ভাইরাসে (20120192019-nCoV). চীনের উহান শহরে এ ভাইরাস প্রথম ছড়িয়ে পড়ায় উহানেই মৃতের সংখ্যা বেশি। উহান ও পার্শ্ববর্তী শহর হুয়াংগাং শহর এর সাথে অন্যান্য সমস্ত শহরের যান যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই দুই শহরের মোট  ১ কোটি ৮৫ লক্ষ মানুষ এখন শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। চীনের রাজধানী ও অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক শহর যথাক্রমে বেইজিং ও সাংহাইতেও ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। ধীরে ধীরে সংক্রমিত মানুষ চিহ্নিত হচ্ছে দেশে দেশে এবং বৃদ্ধ পাচ্ছে এই সংখ্যা। বিশ্বজুড়ে ১৭টি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে সারা বিশ্ব জুড়ে জরুরী অবস্থা নেয়ার কথা বলেছে। এই সংক্রমণ মহামারি আকারে হলে বিশ্বজুড়ে মানুষের মৃত্যুর আশংকা করা হচ্ছে সাড়ে ৬ কোটি। যদি এমন কিছু ঘটে তা হবে সমরণকালের সবচেয়ে বড় ভাইরাস আক্রান্ত মহামারীগুলোর একটি। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সচেতন ও সতর্ক হতে হবে।

এই ভাইরাসের সংক্রমণ হল খুব  খারাপ সময়ে। শীত শেষে এখন বসন্ত প্রায় সমাগত। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে যেকোনো  জীবাণু ও ভাইরাসের সংক্রমণ এই সময়ে বৃদ্ধি পায়। ঋতু পরিবর্তনের সময় তাই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। এসময়ই অনেকের বায়ু ও পানি বাহিত রোগ হয়ে থাকে, যেমন- সর্দি, কাশি , হাঁচি, জ্বর, আমাশয়, ডাইরিয়া ইত্যাদি। যাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁরা সহজেই সংক্রমিত হয়ে যায়।  সমস্যা হচ্ছে এমন সংক্রমণ অনুকূল সময়ে করোনা ভাইরাস দেখা দিয়েছে এবং ছড়াচ্ছে। তাই প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা।  

করোনা ভাইরাসের লক্ষণ

বাড়তি সতর্কতার জন্য বুঝতে হবে এর ভাইরাস দ্বারা সংক্রমণের লক্ষণ ও প্রকৃতি। এই ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণগুলো হল:

  • জ্বর
  • সর্দি
  • শ্বাসকষ্ট
  • শুষ্ক ও খুসখুসে কাশি
  • গলা ব্যথা
  • অবসাদ
  • অসুখ আরও বাড়লে কিডনি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে

করোনা থেকে বাঁচার উপায়

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে যে সতর্কমূলক ব্যবস্থাগুলো নিতে হবে তা হল: 

  • হাঁচি বা কাশির পরে হাত ধুয়ে নিতে হবে
  • কাশি বা হাঁচির আগে মুখ ঢেকে নিতে হবে
  • রান্না না করা মাংস ও ডিম খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে
  • বেশি করে পানি পান করতে হবে
  • ধুলো বালি যুক্ত ধোঁয়াটে এলাকায় যাওয়া যাবেনা
  • ধূমপান করা যাবেনা
  • যথাযথ বিশ্রাম নিতে হবে
  • ভিড় থেকে দূরে থাকতে হবে
  • করমর্দন, আলিঙ্গন ইত্যাদি করা যাবেনা
  • মাস্ক ব্যবহার করতে হবে ঘরের বাইরে গেলে
  • বারবার হাত মুখ ধুতে হবে
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে কমপক্ষে দুই হাত দূরে থাকতে হবে।
  • চীনে ইতিমধ্যে বন্যপ্রাণী বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে, তাই আমাদের দেশেও বন্য প্রাণী ধরা ও বিক্রি বন্ধ করতে হবে। আইনগত ভাবে এটা কার্যকর না হলেও ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হয়ে এটা করবেন না কেউ। 
  • যেহেতু বাদুড় ও পাখি থেকেও ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে সেক্ষেত্রে পাখি ও বাদুর ধরা, বিক্রি ও মাংস খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
  • ব্যথা ও জ্বরের চিকিৎসার জন্য ওষুধ বা গলা ব্যথা নিরাময়ের জন্য গরম পানি, ইত্যাদি নেয়া যেতে পারে অবস্থা যাতে গুরুতর না হয়।
  • করোনা ভাইরাসের জন্য সুনির্দিষ্ট ভ্যাকসিন ঔষধ এখনও  গবেষণাধীন, তাই চিকিৎসকরা সাধারণত বেশ কিছু সহায়ক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করে থাকেন। উপসর্গ দেখা দেয়া মাত্র তাই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। 
  • তাছাড়া জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা বিষয়ক সহায়তার জন্য চারটি হট লাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব নম্বর হচ্ছে- ০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫।

ভাইরাসের উৎপত্তি ও ছড়াল যেভাবে

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০৩ সালে ৮০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু ও হাজার হাজার মানুষের আক্রান্ত হওয়ার কারণ ‘সার্স’ (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম) ভাইরাসের পরিবার থেকে এসেছে এই নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসটি চীনের বাজারে পাওয়া প্রাণীজ পণ্য বা সামুদ্রিক খাবার থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। 

ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটিও এক ধরণের করোনাভাইরাস। করোনা ভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ছয়টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে নতুন ধরণের ভাইরাসের কারণে সেই সংখ্যা এখন থেকে হবে সাতটি। ১৯৬০ সালে প্রথম করোনা ভাইরাস সনাক্ত করা হয়।

এই ভাইরাস যেন বাংলাদেশে ছড়াতে না পারে এজন্য হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশে প্রবেশের সব পথে করোনা ভাইরাস স্ক্রিনিং এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেউ জ্বর নিয়ে দেশে ঢুকছে কিনা তা সনাক্ত করতে বিমানবন্দরসহ দেশের সাতটি প্রবেশ পথে ডিজিটাল থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে ভ্রমণকারীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এমন রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসার জন্য তৈরি রাখা হয়েছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ড ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, প্রথম আলো, যুগান্তর, মানবজমিন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *