follow us at instagram
Wednesday, February 19, 2020

দেশের ঐতিহ্য বাঁচাতে জামদানীকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছেন যারা

শাড়ির সাথে পরার উপযোগী জ্যাকেট, কোট, ছেলেদের পাঞ্জাবি, কুর্তা, ইত্যাদিতে জামদানির ব্যবহার ট্রেসেমে বাংলাদেশ ফ্যাশন উইক এর অন্যতম আকর্ষন।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/02/0M8A6677-1280x853.jpg

কলকাতা থেকে বন্ধুরা এসেছে। তাদের সাথে দেখা হলে প্রথমেই বলল জামদানী শাড়ি নিতে হবে, এ বিষয়ে সাহায্য চাই। নিউইয়র্ক থেকে এক বড় বোনের ফোন পেলাম কিছুদিন আগে। তিনি বললেন, এক আত্নিয় আসবে, তার হাতে যেন দেই কয়েকটা জামদানী শাড়ি। ‘জামদানী’ মানেই যেন বাংলাদেশ। যে কোন দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হয় সেখানকার জীবনযাপনের অনুষঙ্গ। আমাদের দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে যেন মিশে আছে জামদানী।

যে কোন উৎসব, পার্বনে জামদানী শাড়ি ছাড়া যেন চলেই না।

তবে এসব চিত্রের পাশাপাশি আরও কিছু অজানা সত্য হয়ত আমাদের জানা নেই। দিন দিন তাঁতশিল্প তার জৌলুস হারাচ্ছে। তাঁতিরা তাঁদের পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। কারণ পোশাক শিল্পে আধুনিকতার প্রভাব, ভিনদেশি পোশাকের আধিপত্য বাড়ছে। তাই মসলিনের মত জামদানিও হারাতে পারে তার স্থান। তবে বাংলাদেশের ফ্যাশন ডিজাইনাররা কিন্তু ঠিকই এ বিষয়ে সচেতন হয়ে কাজ করছেন। চেষ্টা করছেন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে। তেমনি একজন নওশিন খায়ের। অরণ্য ক্র্যাফট ও বেঙ্গল ক্রাফট সোসাইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছেন তিনি। ট্রেসেমে বাংলাদেশ ফ্যাশন উইক ২০২০ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জানুয়ারিতে। এবারের ট্রেসেমে বাংলাদেশ ফ্যাশন উইক এর স্লোগান ছিল ‘রানওয়ে অব লাইফ’। অর্থাৎ ফ্যাশন শুধু নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই নয়, দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই ফ্যাশনের অংশ।

আয়োজনের প্রথম দিনেই নওশিন খায়ের এর ডিজাইনে র‍্যাম্পে হাটেন মডেলরা। সেখানে জামদানীকে যেন আমরা নতুন রুপে, নতুন আবহে দেখতে পাই। এবারের আয়োজনে নওশিন জামদানীকে মাথায় রেখেই কাজ করেছেন। তার মতে, জামদানী শাড়ি ছাড়া অন্য ভাবে ব্যবহৃত হয় না সাধারনত। অথচ ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে, একসময় বিয়ের শেরওয়ানি ও ছেলেদের পাঞ্জাবিতেও কাপড় হিসেবে আলাদা মোটিফের জামদানী ব্যবহৃত হত। যা সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে গেছে।

তাই জামদানির বহুমুখি ব্যবহারই নওশিন এর মূল লক্ষ্য বলে জানালেন। শাড়ির সাথে পরার উপযোগী জ্যাকেট, কোট, ছেলেদের পাঞ্জাবি, কুর্তা, ইত্যাদিতে জামদানির ব্যবহার ট্রেসেমে বাংলাদেশ ফ্যাশন উইক এর অন্যতম আকর্ষন। এর সাথে পরিবেশ বান্ধব প্রাকৃতিক রঙ এর ব্যবহার ছিল নওশিন এর বরাবর অন্যান্য সব ডিজাইনের মতই। নওশিনের মতে, জামদানির যত বেশি বহুমুখি ব্যবহার হবে ততই এই খাত ভাল থাকবে। বেঁচে থাকবেন তাঁতিরা, ভালো থাকবেন তাঁরা।

এর আগে খাদি কাপড় নিয়েও কাজ করেছেন নওশিন। পরিবেশ রক্ষা করেই ফ্যাশন শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার তাগিদেও নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। ফ্যাশন রেভ্যুলুশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে পরিবেশ বান্ধন ফ্যাশন শিল্পের প্রসারে কাজ করছেন তিনি। দেশিয় শিল্প রক্ষায় এই ফ্যাশন ডিজানারদের প্রচেষ্টা নতুন প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করবে। দেশের শিল্প রক্ষা পাবে। জামদানী, খাদিসহ দেশিয় ফ্যাশন নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এগিয়ে যাবে দেশের গন্ডি ছেড়ে বহুদুর, এটাই প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *