follow us at instagram
Wednesday, February 19, 2020

মাতৃগর্ভে শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধে হাইকোর্টের রুল

সন্তানের জন্মের আগে তার লিঙ্গ পরিচয় শনাক্ত রোধে আইন ব্যবস্থা গ্রহন অত্যাবশ্যক
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2019/10/mom-1.png

ফরিদপুরের আলেয়া খালা চৌধুরী বাড়ির বউ। এক সময় তার রূপের কথা ছিল মানুষের মুখে মুখে। অল্প বয়সে বিয়ে হয়।  এখন ৬ মেয়ে ১ ছেলের মা। ৩৪/৩৫ এর আলেয়া খালাকে দেখলে মনে হয় বয়স ৫০ পেরিয়ে গেছে।  মানসিক  ও শারিরীক কারণে সুন্দরী আলেয়া খালার এ হালের অন্তরালে রয়েছে বংশের প্রদীপ জন্ম দেয়ার ঘটনা।

বাংগালী সমাজে ছেলে সন্তান জন্ম দিতে না পারলে নারীদের জীবন বৃথা৷ এ ধারণার কারণে পরিবারে নেমে আসে যন্ত্রনা৷ ছেলে না থাকলে  ঘরের বাতি কে জ্বালাবে  – এমন দুশ্চিন্তা থেকে আলেয়া খালা বছর বছর সন্তান জন্ম দেয়। এমন কি সপ্তম সন্তানটি যদি ছেলে না হতো তাহলে তার স্বামীকে আবার বিয়ে করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত  হয়েছিল পারিবারিক ভাবে।
আলেয়া খালার মত হাজারো নারী এ সমাজে রয়েছে৷ যারা সন্তানের মা হতে গিয়ে মানসিক সংকটের শিকার হয়।
গর্ভজাত সন্তানটি কি ছেলে না মেয়ে – এ নিয়ে সংশয় থাকে৷ ছেলের আশায় বারবার সন্তান প্রসব করে৷ আধুনিক কালেও এ সমস্যা একেবারে দূর হয়ে যায়নি। বরং চিকিৎসা  ব্যবস্থার আধুনিকতার কারনে জন্মের আগেই অনাগত সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় জানতে আগ্রহী হয় মানুষ। আর এতে করে বিশেষভাবে পুত্র সন্তান না হলে তা নিয়ে শুরু হয় নতুন মায়ের প্রতি অবহেলা। এমনকি গর্ভের সন্তান ছেলে না হলে  গর্ভপাত ঘটায়।
দীর্ঘ সময় ধরে সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশের বিরোধিতা করে আসছে বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশেও এ সমস্যা নিয়ে  কথা বলেছে সমাজের ভিন্ন স্তর থেকে। তবে তার সফলতা শতভাগ আসেনি।  যার কারনে দেখা যায়, আলট্রাসনোর মাধ্যমে গর্ভজাত সন্তানের সুস্থতা সম্পর্কে জানার চেয়ে বেশি আগ্রহ থাকে তার লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে। কারণ মনের ভেতর সুপ্ত বাসনা থাকে, যদি সন্তানটি ছেলে হয়। বিশেষ করে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে  বেশির ভাগ পরিবার চায়, ছেলে হোক। তাহলে নিজেদের বংশ পরিবার এগিয়ে নেয়ার বিষয় নিশ্চিত। কন্যা সন্তান তো বংশের ধারক, বাহক হয় না। বিয়ে হয়ে অন্যের ঘরে চলে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে  আইন করে গর্ভজাত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ প্রকাশ নিষিদ্ধ  করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান আদালতে এক রিট আবেদন করেন। এ রিট প্রসংগে তিনি বলেন,  ভারতে  আইন করে গর্ভজাত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ প্রকাশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গর্ভের শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ করা হলে প্রসূতি মায়ের মানসিক চাপ তৈরি হয়।  অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক চাপে গর্ভপাত করার ঘটনাও ঘটে।  এ অবস্থার প্রতিকার দরকার।
আইনজীবী ইশরাত হাসানের করা রিটের শুনানিতে  বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি  মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ   এক রুল জারি করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ‘২০২০ এ । রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম ও  ইশরাত হাসান।
 হাইকোর্ট   অনাগত শিশুর লিংগ পরিচয় শনাক্ত রোধে নীতিমালা বা নির্দেশনা তৈরি করতে রুল জারি করেছেন। একই সাথে  অনাগত শিশুর লিংগ পরিচয় রোধে নীতিমালা বা নির্দেশনা তৈরি করতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব  বর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না এবং অনাগত লিংগ পরিচয় নির্ধারণে নীতিমালা তৈরি করতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে  স্বাস্থ্য সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব,সমাজ কল্যাণ সচিব,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালকসহ সাত বিবাদীকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নারীদের জীবনে মার্তৃত্ব হলো চরম প্রাপ্তি। কিন্তু সে প্রাপ্তিতে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে  ছেলে সন্তান নিয়ে  অন্ধ ধারণাকে বদলাতে হবে৷ একই সাথে সন্তানের জন্মের আগে তার লিঙ্গ পরিচয় শনাক্ত রোধে আইন ব্যবস্থা গ্রহন অত্যাবশ্যক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *