follow us at instagram
Wednesday, February 19, 2020

শরীরে তিল বা আঁচিল বেড়ে গেলে হতে পারে ক্যান্সারও

মানুষের শরীরে গড়ে দশ থেকে চল্লিশটি তিল থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত তিল বা আঁচিল হতে পারে বিপদের কারণ।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/02/Capture.PNG-final-mole.png
 শরীরের এই তিল সম্পর্কে আমরা কতটা জানি? তিল বা আচিঁল আসলে এক ধরনের ‘বিনাইন টিউমার’ যে টিউমার মারাত্মক নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যাকে বলা হয়‘মেলানোসাইটিক নিভাস (Melanocytic nevus)। সাধারণত, ত্বকের রঞ্জক পদার্থ মেলানিন উৎপন্নকারী কোষ ‘মেলানোসাইট’ ত্বক জুড়ে সমানভাবে বিস্তৃত হয়ে ত্বকের রং তৈরি করে। তবে কোথাও কোথাও এরা গুচ্ছবদ্ধ হয়ে সংখ্যা বৃদ্ধি করার ফলে উৎপন্ন হয় মেলানোসাইটিক নিভাস। এগুলো চামড়ার সঙ্গে সমতল বা উঁচু হয়েও থাকতে পারে, হতে পারে গোলাকৃতির বা ডিম্বাকৃতির, কোন কোনটিতে আবার লোম গজাতেও দেখা যায়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে গড়ে দশ থেকে চল্লিশটি তিল থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু এর চেয়ে বেশি বা মাত্রাতিরিক্ত তিল বা আঁচিল হতে পারে বিপদের কারণ।
তিল বা আঁচিলকে  আমরা সাধারণত খুব একটা গুরুত্ব দেই না।
মানুষের শরীর পরিপূর্ণভাবে বিকাশের সাথে সাথে এদের গঠিত হয়। তবে সৌন্দর্য্যবর্ধক দেখতে নির্দোষ  এই তিল কিংবা আঁচিলই অনেক সময় ত্বকে মেলানোমা নামক মারাত্মক ক্যান্সারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে আর দেরি না করে চলুন জেনে নেয়া যাক তিল কিংবা আঁচিল থেকে ত্বকে ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ সম্পর্কে।
লক্ষণ ১ঃ সাধারণ ও স্বাস্থ্যকর তিল বা আঁচিলগুলো সাধারণত একই রঙের হয়ে থাকে কিন্তু যখনই এগুলো মেলানোমায় রুপান্তরিত হতে থাকে তখন এর রঙের গাড়ত্বের পরিবর্তন হতে শুরু করে।
লক্ষ্মণ ২ঃ তিল বা আঁচিল সাধারণত গোলাকৃতির হয় অন্যদিকে মেলানোমার নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি থাকে না।
লক্ষ্মণ ৩ঃ তিল বা আঁচিলের আকার খুব বেশি হলে ৬মিমি বা পেন্সিলের মাথায় লাগানো রাবারের সমান হয়ে থাকে কিন্তু এর চেয়ে বড় হলেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
লক্ষ্মণ ৪ঃ তিলে চুলকানি, প্রদাহ বা রক্তপাত দেখা দিলে তা পরবর্তীতে মেলানোমায় রুপ নিতে পারে।
লক্ষ্মণ ৫ঃ সমতল কোনো তিল হঠাৎ উঁচু পিন্ডের মত হয়ে যাওয়া, আগের চেয়ে শক্ত হয়ে যাওয়া বা কিনারা উঁচু, এবড়োখেবড়ো অথবা আঁকাবাকা হলে সেটা মেলানোমার লক্ষ্মণ হতে পারে।
লক্ষ্মণ ৬ঃ নিভাস বা জন্মদাগের  মাঝ বরাবর যদি একটা রেখা কল্পনা করা যায় তার এক অংশের সাথে যদি অন্য অংশের মিল না থাকে তবে তা বিপদের লক্ষ্মণ হতে পারে।
যাদের হতে পারে এই ক্যান্সারঃ নিরীহ এই তিল গুলো  কেনো তার ক্যান্সারে রুপ নেয় তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও  চিহ্নিত করা যায়নি তবে যেসব কারণে মেলানোমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। যেমন-
  • মেলানোমা বা ত্বকের ক্যান্সারের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে  সবচাইতে বেশি দায়ী ‘আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি’। সুর্যের আলো আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রধান উৎস। মানবসৃষ্ট বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মাধ্যমেও মানুষ অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসতে পারে। এই রশ্মি চামড়ার কোষের ডিএনএ-এর ক্ষতিগ্রস্থ করে, ফলে মেলানোমায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • ‘কনজেনিটাল মেলানোসাইটিক নিভাস (Congenital Melanocytic Nevus)’ বা জন্মদাগ পরবর্তিতে পরিবর্তন হয়ে  ক্যান্সারে রুপ নিতে পারে, যার হার ০-১০%। তাই শিশুর বয়স বাড়ার সাথে সাথে নিভাসের  কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কিনা, সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখা প্রয়োজন। নিজের বা বংশের নিকটাত্মীয়দের কারো পূর্বে মেলানোমার ইতিহাস থাকলে এটিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • যাদের একটু বেশি ফর্সা চামড়া অর্থাৎ যাদের শরীরে মেলানিন কম, সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মিতে তাদের ত্বকের ক্ষতি হয় তুলনামূলক বেশি। শরীরে গড়ে দশ থেকে  চল্লিশটির  বেশি তিল থাকলে বা তা সংখ্যায় বাড়তে থাকলে ঝুঁকি বাড়তে থাকে।
প্রতিরোধের  উপায়ঃ
  • সকাল দশটা থেকে চারটা পর্যন্ত বাইরে থাকতে হলে সানস্ক্রিন,ছাতা অথবা,হ্যাট, হাত  ঢাকা জামা,বড় ওড়না  ব্যবহার করা উচিৎ , কারণ এই সময় সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির তেজ বেশি ও সক্রিয় থাকে।শীত বা বৃষ্টির দিনেও এই নিয়ম মেনে চলতে হবে।
  • ২.দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। কড়া রোদে যাওয়ার সময় হাত ঢাকা পোশাক পরুন।
  • ট্যানিং বেড এড়িয়ে চলতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি ডায়েট অথবা ভিটামিন সাপ্লিমেন্টারির মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ খাবার যেমন গ্রিন টি, তরমুজ,গাজর, পালংশাক,পাতাকপি, সামুদ্রিক মাছ,টকদই,অলিভ অয়েল,বাদামইত্যাদি বেশি পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।
  • শরীরের কোনো অংশে নতুন তিল দেখা দিলে  বা পুরনো তিলের রঙ, আকার বা অন্য কোনো ধরনের পরিবর্তন, ত্বকের কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলে দ্রুত ডাক্তারের শরনাপন্ন  হবে।
কথায় আছে নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধ ভাল।তাই আমাদের  উচিৎ শারীরিক যে কোনো সমস্যা বা পরিবর্তন প্রথম থেকেই লক্ষ্য রাখা এবং কোনো সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়েই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেয়া।নিজেকে সুস্থ,সুন্দর ও আনন্দে রাখতে পারলেই তো অন্য সবাইকে, পরিবারকে ও সমাজকে ভাল রাখা সম্ভব।
তথ্যসূত্রঃ মোহাম্মদ মাহির আঞ্জুম, এম.বি.বি.এস(কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ)। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *