follow us at instagram
Wednesday, February 19, 2020

যেসব খাবার আমাদের শরীরের অকালে বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে

কিছু খাবার রয়েছে যা নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখার মাধ্যমে আমরা আমাদের বুড়িয়ে যাওয়াকে ধীর করে।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2019/11/images-9.jpg
খাবারের ভেজাল, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ( ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড), ব্যস্ত জীবনের প্রেশার ও প্রকৃতির বিরুপ প্রভাবে ইদানিং সময়ে আমাদের শরীরে বয়সের ছাপ যেন নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই দেখা যায়। অন্য সব কিছু হয়ত আমরা তেমন কোন প্রকারেই খুব একটা বদলাতে পারিনা। কিন্তু আমাদের নিজেদের ভালোর জন্যেই আমরা খাবারদাবারের ক্ষেত্রে কিছুটা  পরিবর্তন আনতে পারি।
কিছু খাবার রয়েছে যা নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখার মাধ্যমে আমরা আমাদের বুড়িয়ে যাওয়াকে ধীর করে।
আমরা অনেকেই হয়তো এসব খাবার খাই কিন্তু এসবের উপকার সম্পর্কে অবগত নই। তাই আজ জানাবো এসব খাবার সম্পর্কে।
১.ডিমঃ শরীরে তারুন্য ধরে রাখতে প্রয়োজন প্রোটিন। ডিমে এমন প্রোটিন থাকে যা দেহকে পরিপুষ্টতা দেয়। প্রোটিনের ব্লক তৈরি হয় যা দেহে তারুন্য ধরে রাখে।
২.পালং শাকঃ পালং শাকে প্রচুর ভিটামিন থাকায় এটি শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সক্ষম এবং শরীরে পুষ্টি ও শক্তির যোগান দিতে পারে।এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লুটেইন যা শরীরের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে তারুন্য ধরে রাখতে সহায়ক।খাবারে রোজ পালং শাক রাখলে তা চোখ ও ত্বকের বয়সজনিত সমস্যা কমায়।
৩.পাতাকপিঃ এই সবজি সবুজ হওয়ায় এতে রয়েছে ভিটামিন কে। খাবারে আয়রনের অভাব দেখা দিলে ত্বকে ম্লান ভাব চলে আসে এই সবজিটি এই ত্বকের এই মলিনতা দূর করে।
৪.সামুদ্রিক মাছঃ সামুদ্রিক মাছ তারুন্য ধরে রাখতে সহায়তা করে। যদি কেউ খাদ্য তালিকা থেকে লাল মাংস বাদ দিয়ে সামুদ্রিক মাছ যোগ করে নেয় তাহলে তার শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে এবং এতে তারুন্য বজায় থাকবে অধিক সময়।
৫.গাজর ও টমেটোঃ এই দুইটি সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এছাড়াও রয়েছে বিটা ক্যারোটিন ও লুটেইন যা দীর্ঘসময় তারুন্য ধরে রাখতে সক্ষম।
৬.ডালিমঃ ডালিমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি বিদ্যমান। আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনের এক গবেষণায় বলা হয় আবহাওয়ার প্রভাবে ত্বকে যে বয়সের ছাপ ফেলে ডালিমের উপাদান তা নিরাময় করতে সক্ষম।
৭.তরমুজঃ এই ফলে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপেন উপস্থিত।বিশেষজ্ঞ ড.কেরি গ্লাসম্যানের তথ্যানুযায়ী এটি এমন একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বককে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাব থেকে বাঁচতে সহায়তা করে।এতে ত্বকের সজীবতা অটুট থাকে।
৮.আঙ্গুরঃ আঙ্গুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ফলে রোজ আঙ্গুর খেলে ত্বক ও দেহ সুন্দর ও সুস্থ থাকে। তাই বলা যায় বয়স ধরে রাখতে আঙ্গুরের জুড়ি নেই।
৯.টক দইঃ টক দইয়ে প্রচুর প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকায় তা শরীরের গঠন ভাল রাখে এবং হাড় ক্ষয় রোধ করে। টক দই মেদ ও কোলেস্টেরল কমাতেও সহায়ক।
১০.ব্রকলিঃ ব্রকলিতে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বিভিন্ন বয়সজনিত রোগ থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয় এবং শরীরের বুড়িয়ে যাওয়ার গতিকে ধীর করে।
১১.অলিভ অয়েলঃ রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহারে শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম থাকে এবং সহজে মেদ জমে না।
১২.ডার্ক চকলেটঃ ডার্ক চকলেটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যেখানে চকলেট শরীরে বুড়িয়ে যাওয়া ও মেদ জমার জন্য দায়ী সেখানে যাদের প্রতিদিন এক টুকরো ডার্ক চকলেট খাওয়ার অভ্যাস আছে তা তাদের শরীরের তারুন্য ধরে রাখতে সহায়তা করে।
১৩.গলদা চিংড়িঃ এতে প্রচুর জিঙ্ক থাকায় এটি ত্বকের ক্ষতিগ্রস্থ কোষগুলোকে নিরাময় করে। এতে বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।
১৪.কফিঃ আমেরিকার জার্নাল অব দ্য ন্যাশনাল ক্যান্সার ইন্সটিটিউটে বলা হয়, প্রতিদিন এক কাপ ব্ল্যাক কফি দেহে ২০শতাংশ কম মেলানিন উৎপন্ন করে। এতে চেহারায় দ্রুত বয়সের ছাপ ফেলা রোধ করে।
১৫. বাদামঃ চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে বাদাম অত্যান্ত কার্যকরী। বাদামে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। যা ত্বককে মসৃণ করে ভিতর থেকে উজ্জ্বল করে তোলে।
এছাড়াও আরও কিছু খাবার রয়েছে যা তারুন্য ধরে রাখতে সহায়তা করে সেগুলো হচ্ছে ওয়ালনাট, অ্যাভোকাডো, ফ্রুটি, ব্লুবেরি, আপেল, কলা, মাছের তেল বা তেল যুক্ত মাছ, গ্রিনটি, মিষ্টিকুমড়ার বিচি, হলুদ, থানকুনি পাতা, শিম, কড়াইশুঁটি, মটরশুঁটি, সয়াবিন, ফুলকপি, মুলা, কমলা, লেবু, জাম্বুরা, বিশুদ্ধ পানি।
এ খাবার গুলি খাবারের তালিকায় রোজ ঘুরেফিরে থাকলে তারুন্য স্থায়ী হবে বহুদিন এবং শরীরের সুস্থতাও বজায় থাকবে।এছাড়াও মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম।যেমন বয়সানুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুম,খাবার গ্রহণের নির্দিষ্ট একটা সময়,পরিস্কার পরিচ্ছনতা, বয়সানুযায়ী শরীরচর্চা। কথায় বলে “যতনে রতন মেলে”। তাই শরীরকে যত্ন করলেও থাকা যাবে সুস্থ এবং সতেজ।
তথ্যসূত্রঃ মোহাম্মদ মাহির আঞ্জুম, এম.বি.বি.এস(কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ)। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *