follow us at instagram
Wednesday, September 23, 2020

শুধুই মেয়েদের জন্য নিরাপদ আবাসিক হোটেল করছে বিদ্যানন্দ!

অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসার পর এবার মেয়েদের জন্যে আবাসিক হোটেল তৈরি করছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/02/sRcAi9uME3NqvoFYp6Wu544TKJiSAdpHh5VKnGAc.jpeg
Image Source: egiyecholo.com

মুন্নি ব্যাংকে পরীক্ষা দেবে। ব্যাংকের পরীক্ষাগুলো সাধারণত ঢাকায় হয়ে থাকে। স্নাতক পড়া শেষে চাকরির পড়া এবং বিভিন্ন জায়গায় আবেদনেই ব্যস্ত থাকে সে। ঢাকায় তেমন কোন আত্মীয় স্বজন নেই, এর আগের বার এসে এলাকার এক পরিচিত বড় আপুর বাসায় থেকেছিল সে। কিন্তু এবার তারা বাসায় নেই, ঘুরতে গেছে পরিবার সহ ঢাকার বাইরে, তাছাড়া বাসাটাও ছোট। প্রাইভেসি বা পড়াশুনার পরিবেশ নেই তেমন সেখানে। ঢাকার বাইরে পড়াশোনা করায় বন্ধু বান্ধবীও নেই যে এক দুদিনের জন্য থাকা যাবে। এখন সে কি করবে?  

পরীক্ষা দেবার আগে এই রকম  বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করা বেশ বিব্রতকর। শেষ পর্যন্ত সে পরীক্ষা দিতে পেরেছিল, নিরাপত্তার জন্য তার বাবা তার সাথে ছিলেন এবং হোটেলে একটি কক্ষ ভাড়া নিতে হয়েছিল যার ভাড়া তার বাজেটের বাইরে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেবার জন্যও এভাবে হাজার হাজার মেয়েদের দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত, বিভিন্ন শহরে ছুটতে হয়। কিংবা নিতান্ত ভ্রমণের জন্যও নারীদের থাকার একটি নিরাপদ কক্ষের দরকার হতে পারে। কিন্তু স্বল্প সময়ের জন্য আবাস খুঁজতে  বেশ বেগ পেতে হয়। কারণ কেউ স্বল্প সময়ের জন্য একা বা একাধিক নারীকে রুম ভাড়া দিতে চায়না। তাই এসব কারণে দেখা যায় আত্মীয় স্বজন, পরিচিতের বাসা ছাড়া তাদের আর কোন গত্যন্তর থাকেনা। এটা কিন্তু খুব ছোট কোন সমস্যা নয়। নারীর জন্য নিরাপদ আবাসের এই সমস্যাটি নিয়ে ভাবছে বিদ্যানন্দ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

বিদ্যানন্দ এর আগেও দৃষ্টি কেড়েছে দারুণ সব প্রয়োজনীয় উদ্যোগের সারথি হয়ে।

সুবিধা বঞ্চিত ও পথ শিশুদের জন্য স্কুল, ‘এক টাকায় আহার’ প্রকল্প, সুবিধা বঞ্চিত ও শ্রমজীবী নারী ও কিশোরীদের জন্য ৫ টাকায় স্যানিটারি প্যাড এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শেষে পরিত্যক্ত পোস্টার দিয়ে শিশুদের জন্য খাতা তৈরি, বইমেলায় পুরনো মোবাইল, অব্যবহৃত ল্যাপটপ এবং মেয়াদ আছে এমন ওষুধের বিনিময়ে বই বিক্রির মত অভিনব সব উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সেই বিদ্যানন্দ এখন ভাবছে নারীদের জন্য হোটেল তৈরির কথা। শুধু ভাবনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তাঁরা, কাজেও নেমে পড়েছে। তাদের প্রত্যাশা তাদের অনুসরণ করে বাণিজ্যিকভাবেও শুরু করুক এটি কেউ কেউ ভবিষ্যতে। 

একা বা নারীদের জন্য সাময়িক নিরাপদ আবাস বা হোটেলের ধারণা নতুন কিছু নয়। তবে আমাদের দেশে একেবারেই নতুন। শুধু নারীদের জন্য হোটেল বলে কিছু আমাদের দেশে নেই। থাকার মধ্যে আছে এক গার্লস হোস্টেল যেখানে কেউ ১/২ রাত নিজ প্রয়োজনে গিয়ে থাকতে পারে, প্রতি সিটের জন্য রাত প্রতি নূন্যতম ২৫০ টাকা বা কোথাও কোথাও এর চেয়ে বেশি ভাড়া গুনতে হয়। তবে তাও যদি সৌভাগ্যক্রমে সিট খালি থাকে। সিট খালি না থাকলে থাকা যাবে না। আরেক হোস্টেলে তখন খোজ নিতে হবে। তাও যদি হোস্টেলের ঠিকানা না জানে কেউ, তখন খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তথ্য ও উদ্যোগের অভাবে নিরাপদ আবাস তৈরি হচ্ছেনা নারীর জন্য দেশের কোথাও। 

বিদ্যানন্দ তাই কর্মজীবী নারীদের প্রয়োজন ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিদ্যানন্দের এই হোটেলটি হবে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন এবং স্বাস্থ্যকর। এসি থাকবে এবং টাইলস ফিটিংস সম্পন্ন। তবে বিদ্যানন্দ কর্তৃপক্ষ স্বল্প অর্থে যাতে কর্মজীবী নারীরা এই হোটেল কক্ষ ভাড়া নিতে পারে সেদিকেই বেশি প্রাধান্য দেবে। বাসন্তী নিবাসের ফেসবুক পেজ থেকে বলা হয়েছে:

মেয়েদের জন্য হোটেল !! হ্যাঁ, আবাসিক হোটেল। চাকরীর ইন্টার্ভিউ, ভর্তি পরীক্ষা কিংবা চিকিৎসার কারণে এক রাত, দুই রাত থাকার দরকার হয় অনেক নারীর।

কিন্তু ঘরের বাইরে মেয়েদের নিরাপদ আবাসন কই? ছেলেরা বোর্ডিং খুঁজে নিলেও মেয়েদের ভরসা শুধুমাত্র আত্মীয় কিংবা দামী হোটেল।

বিদ্যানন্দ – Bidyanondo তাই কাজ করে যাচ্ছে নারীদের জন্য আবাসিক হোটেল তৈরি করার। অবকাঠামো নির্মানের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করছি এই মাসের মাঝে শুরু করতে পারবো হোটেলটি। আমাদের উদ্দেশ্য, সামাজিক সমস্যার সমাধানের পথ দেখানো। আশা করি শিল্পপতিরা এই উদ্যোগকে আরো বড় স্কেলে নিয়ে যাবেন।

আপনার পরিচিত কারো ঢাকাতে থাকার দরকার হলে বাসন্তী নিবাস পেজে যোগাযোগ করতে হবে।

[অর্থ সংকটের জন্য আমরা কাজটি শেষ করতে পারছি না, তাই দাতাদের সদয় দৃষ্টি প্রার্থনা করছি]অনেকেই জানতে চেয়েছেন বাসন্তী নিবাসের ঠিকানা জানতে চেয়ে।

ঠিকানা: বাসা নং: ১৩ (তৃতীয় তলা), রোডঃ ২/বি, পল্লবী আবাসিক এলাকা, মিরপুর সাড়ে এগারো, ঢাকা।

নারীদের জন্য বিদ্যানন্দের এই উদ্যোগ সাধুবাদ পাবার যোগ্য। কেননা এখন দিন বদলেছে। নারীরা চার দেয়ালের বাইরে বের হয়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। কর্মজীবী, শ্রমজীবী এমনকি পরিব্রাজক নারীর সংখ্যাও বেড়েছে। ফলে নারীর জন্য নিরাপদ সমাজ ও মুক্ত পরিবেশ সময়ের দাবী। কিন্তু নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত সহজ নয়। শুধু নারীদের জন্য তাই নিবাস বা হোটেল নির্মাণ আমাদের দেশে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। 

মজার বিষয় হল, এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও অসীম। যেকেউ সীমিত ভাড়ায় মানসম্পন্ন সেবা সরবরাহ ও প্রচারণা  করতে পারলে শুধু নারীদের জন্য হোটেল বা নিবাস উদ্যোগ সফল হবার সম্ভাবনা শতভাগ। শুধু ঢাকাতেই নয়, এই উদ্যোগ চালু করা যেতে পারে দেশের যেকোনো শহরে। নিঃসন্দেহে তা দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক হবে। 

তথ্যসুত্রঃ বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন, চ্যানেল আই অনলাইন, এগিয়ে চলো ডট কম। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *