follow us at instagram
Thursday, February 20, 2020

‘ল’রিয়েল-ইউনেস্কো’ পুরষ্কার জিতলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ডঃ ফেরদৌসী

বাংলাদেশের গবেষক ড. ফেরদৌসী কাদরী ল’রিয়েল-ইউনেস্কো উইমেন ইন সায়েন্স অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2019/09/firdausi-qadri_101204.jpg

প্রতিবছর ১১ই ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নারীর অবদানের জন্য ওমেন ইন সাইন্স পালন করা হয় বিশ্ব জুড়ে। ইউনেস্কো দিনটি বেশ ঘটা করেই পালন করে। এর ফলশ্রুতিতে প্রতিবছর ইউনেস্কো ল’রিয়েল ওমেন ইন সাইন্স পুরষ্কার প্রদান করে থাকে জ্ঞান বিজ্ঞানে অবদান রাখা নারীদেরকে সম্মান জানিয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রথিতযশা বিজ্ঞানী বিশিষ্ট ইমুনোলজিস্ট (রোগ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ) ও ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ ডঃ ফেরদৌসী কাদরীকে সংক্রামক রোগের জীবাণু নির্নয় ও ভ্যাকসিন তৈরিতে অবদান রাখার জন্য  ইউনেস্কো এ বছর এ পুরষ্কার প্রদান করে।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাসে এটি মাইলফলক।

মূলত বিশ্বজুড়েই STEM (Science, Technology, Engineering and Mathematics ) সংক্রান্ত বিষয় এবং ক্ষেত্রগুলোতে নারী শিক্ষার্থী ও কর্মী বিশেষজ্ঞদের সংখ্যা অনেক কম – মাত্র ৩০ শতাংশ (ইউনেস্কো ২০১৪-২০১৬ উপাত্ত অনুযায়ী)। এর পেছনে মূলত দেশে দেশে সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব, সুযোগের অভাবে, নারীদের আগ্রহ তৈরিতে বাধা ইত্যাদি কারণ দায়ী। এমনকি ইয়োরোপ আমেরিকার মত উন্নত মহাদেশের দেশগুলোতেও নারী বিজ্ঞানীদের সংখ্যা কম। যদিও তা এশিয়া বা সাউথ এশিয়ান দেশগুলোর তুলনায় ১০-১৫ গুন বেশি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে STEM বা বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়নের হার আশংকাজনক হারে কমেছে গত এক যুগ ধরে। নারী শিক্ষার্থী ও বিজ্ঞানীর হার আরও কম। ফলে ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG 2030) অর্জনে বাংলাদেশ এই ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে পিছয়ে থাকবে এবং এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনেক দেরী হবে। অথচ জ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক সমাজ নির্মাণে বিজ্ঞান বিষয়ে নারীদের বেশি বেশি অংশগ্রহণ এবং নারী বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞ তৈরি করে এসব ক্ষেত্রে তাদের অবদান নিশ্চিত করা অনিবার্য। ডঃ ফেরদৌস কাদরী এজন্যই আমাদের অনুপ্রেরণা ও গর্ব। কিন্তু তার মত ক্ষণজন্মা ও অসাধারণ এক বিজ্ঞানীর উঠে আসার গল্পটা একদমই সহজ ছিল না।

শুরুর গল্প

টাইম লাইন ১৯৭১। বছর বিশেকের এক তরুণীর দিন কাটছে শঙ্কা,হতাশা ও উৎকণ্ঠায়। সে কেবল স্নাতক ভর্তি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন বিভাগে (Biochemistry)। কিন্তু যুদ্ধের ডামাডোলে ঠিকমত ক্লাস হচ্ছেনা। যদিও প্রিয় বিষয় বলে পড়াশুনায় তাঁর উৎসাহের অন্ত নেই। সে আসলে পড়াশুনা ছাড়া আর কিছুতে উৎসাহও পায়না সাধারণত। কিন্তু যুদ্ধের ভেতর প্রচুর মানুষ খাদ্য, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও চিকিৎসার অপ্রতুলতার দরুন মারা যাচ্ছে, ধুকছে। জীবাণুর সংক্রমণে কলেরা, বসন্ত, ডায়রিয়া, আমাশয়ের মত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসের বেগে সর্বত্র। রাস্তায় বের হলেই গৃহহীন মানুষের রোগে শোকে ভোগা মৃত দেহ দেখতে হয়। গ্রামে, শহরে, শরণার্থী শিবিরে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে প্রতিদিন। সে প্রচণ্ড অসহায় বোধ করতে লাগল। এই সময়ে তাঁর কি কিছুই করার নেই?

সে ভাবল, সে যা সবচেয়ে ভাল পারে, তাই দিয়েই কিছু একটা করার চেষ্টা করবে। সে ভাবল, সে এমন কিছু করবে যাতে মানুষ ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবন বেঁচে যাবে একদিন। এই স্বপ্ন নিয়ে সে আরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞার সাথে পড়াশুনা করতে লাগল উপায় বের করতে।

ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিয়ে কাজ করেন ইমুনোলজিস্টরা। তারা মানব শরীরকে ক্ষতিকর ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য গবেষণা করেন। মেয়েটি শেষ পর্যন্ত একজন সফল ও পৃথিবী খ্যাত ইমুনোলজিস্ট হতে পেরেছিল। সেই মেয়েটিই আমাদের ডঃ ফেরদৌসী কাদরী ।

১৯৭৫ সালে ফেরদৌসী কাদরী স্নাতক ও ১৯৭৭ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। ১৯৮০ সালে যুক্তরাজ্যের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইমিউনলজিতে পি এইচ ডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। স্বাভাবিকভাবেই ঐসময়ে আমাদের মত সম্পূর্ণ দরিদ্র একটি দেশ থেকে নারী হিসেবে পি এইচ ডি ডিগ্রি সম্পন্ন করা অসাধারণ দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা ছিল।

লক্ষ্য যখন কোটি প্রাণ বাঁচানো

পিএইচডি শেষ করে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তিনি চাইলে বিদেশেই বিশ্ববিখ্যাত যেকোনো গবেষণাগারে চাকরি নিয়ে থেকে যেতে পারতেন। কিন্তু যুদ্ধের সময়ের দেশের জন্য কিছু করতে চাওয়া তরুণীর সেই স্বপ্নগুলো তাকে সবসময় হাতছানি দিয়ে ডাকত ঘুমে, জাগরণে।

১৯৮১ সালে ফিরে এলেন দেশে। দেশে ফিরে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের বিভাগের শিক্ষক হিসেবে। কিন্তু যিনি মনে প্রাণে গবেষক, তাঁর পক্ষে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস আর ল্যাবে সময় কাটানো সম্ভব না।

তাই পোস্ট ডক করেন আইসিডিডিআর’বি (আন্তর্জাতিক ডাইরিয়া রোগ গবেষণা কেন্দ্র)থেকে। পোস্ট ডক শেষে সেখানেই ১৯৮৮ সালে কর্মজীবন শুরু করেন। এভাবেই অবশেষে স্বপ্ন পূরণ করার সুযোগ পেয়ে যান, কেননা, আইসিডিডিআরবি হল তখন সংক্রামক রোগ এবং এসব রোগের সাথে সংশ্লিষ্ট জীবাণু নিয়ে কাজ করার উপযুক্ত প্লাটফরম। তাছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের লাখো কোটি মানুষকে সেবা দেয়া সম্ভব। ফেরদৌসীও নিজেকে নিবেদিত করেন, যেভাবেই হোক, লক্ষ্য তাঁর কলেরা-ডাইরিয়া-আমাশয় ইত্যাদি সংক্রামক রোগের জীবাণুর জীবন রহস্য উদঘাটন এবং সে অনুযায়ী প্রতিষেধক তৈরি করা। এতে বেঁচে যাবে কোটি প্রাণ।

কলেরার সুলভ ভ্যাকসিন তৈরি

কলেরা পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন ও ভয়ংকর সাতটি মহামারীগুলোর মধ্যে একটি যা এখন বলা যায় অতীত। এই ভয়ংকর রোগকে অতীত বানাতে অবদান রেখেছেন ফেরদৌসী কাদরী । তিনি কলেরার সুলভ ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। সেই প্রাচীনকাল থেকে কলেরার মহামারিতে কত মানুষ যে মারা গেছে তাঁর কোন সঠিক সংখ্যা নেই। তবে স্মরণকালের মধ্যে উনিশ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশ, রাশিয়া,স্পেন, আমেরিকাসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে কলেরা মহামারী দেখা দিয়েছিল এবং এতে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল- তর্ক সাপেক্ষে সে সংখ্যা দশ কোটিরও অধিক। কলেরা থেকে মুক্তির জন্য সারা পৃথিবীতে ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়েছিল গত শতকে।

১৮৯২ সালে ওয়াল্ডিমার হ্যাফকিন প্রথম কলেরার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছিলেন। পরবর্তীতে আরও অনেকেই ভ্যাকসিনের উন্নয়ন সাধন করেছিলেন, কিন্তু কোনভাবেই দাম ও পদ্ধতিতে তা সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আসেনি। বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী আবিষ্কার করেছিলেন কলেরার সেই ভ্যাকসিন যা সহজেই যে কেউ মুখে সেবন করতে পারে এবং দামে খুবই সস্তা। ফলে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতে সরকার বিনামূল্যে কলেরা রোগীদের মধ্যে কলেরার ভ্যাকসিন বিতরণে সক্ষম হয়। এভাবে কলেরার মহামারী চিরতরে বন্ধ হয়। এই ভ্যাকসিনের বদৌলতে উন্নত দেশ থেকে কলেরা এখন বিলুপ্ত। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশেও এখন কলেরা প্রায় নেই বললেই চলে। আফ্রিকার কিছু অতি দরিদ্র ও দুর্গম অঞ্চলে অবশ্য এখনও কলেরার কিছুটা প্রকোপ রয়ে গেছে যদিও সেসব নিয়ে এখন WHO বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনেক সচেতন ও প্রতিকারে প্রয়াসরত। সম্প্রতি বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের সহায়তায় ফেরদৌসী কাদরীর নেতৃত্বে আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানীরা কম দামে ও মাত্র ১৫ মিনিটে কলেরা নির্ণয়ের যন্ত্র কলকিট আবিষ্কার করেছেন৷

আরও গবেষণা

বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী সংক্রামক রোগ ও তার জন্য দায়ী জীবাণু অর্থাৎ ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করছেন। এবং সে অনুযায়ী সেসব রোগের ভ্যাকসিন তৈরিতেও কাজ করেছেন তিনি। বস্তিবাসী, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও সমাজের সুবিধা বঞ্চিতদের এসব সংক্রামক ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখার জন্য তৈরিকৃত ভ্যাকসিনের উন্নয়নের জন্যও তিনি তাঁর গবেষণা সবসময় জারি রেখেছেন। আইসিসিডিডিআরবি-তে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করছেন।

প্রসারিত কর্মক্ষেত্র

বর্তমানে তিনি এমিরিটাস বিজ্ঞানী হিসেবে আইসিসিডিডিআরবি-তে কাজ করছেন। এছাড়াও জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রফেসর হিসেবে কাজ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরের জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথ এর আন্তর্জাতিক গণস্বাস্থ্য বিষয়ে। অ্যাডজাঙ্ক প্রফেসর হিসেবে কাজ করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ও প্রকৃতি বিজ্ঞান বিভাগের প্রাণীবিদ্যা অংশে। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ হেলথ সাইন্স এর অ্যাডজাঙ্ক প্রফেসর হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

বয়ে এনেছেন দেশের জন্য সম্মান

তাঁর আবিষ্কার ও অবদান শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য নিবেদিত এবং প্রয়োজনীয়। তাই তাঁর অর্জনও কম নয়। তাঁর কাজ দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছে।

২০১২ সালে তিনি সম্মানজনক ক্রিস্টোফার মিরিয়েক্স প্রাইজ পান। এ পুরষ্কারের আওতায় তিনি ৫ লক্ষ ইউরোর একটি গবেষণা তহবিল পান। প্রথম কোন নারী এবং একমাত্র বাংলাদেশী নারী বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি এ পুরষ্কার জেতেন। এ পুরষ্কারের অর্থ দিয়ে তিনি ২০১৪ সালে ইন্সটিটিউট ফর ডেভেলপিং সাইন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভ প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেন।

ঐ বছরই অনুন্নত দেশগুলোর জন্য নির্মিত জাতিসংঘের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ও নব আবিষ্কার বিষয়ক সংস্থার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৩ সালে ইতালি ভিত্তিক সংস্থা দ্যা ওয়ার্ল্ড অ্যাকাডেমি অফ সাইন্স মর্যাদাপূর্ণ সি এন আর রাও পুরষ্কারে ভূষিত করে তাঁকে। এছাড়া তাঁকে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অফ সাইন্স দেশের বিজ্ঞানে অবদান রাখার জন্য থেকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। নারী বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি ২০১৩ সালে অনন্যা টপ টেন পুরষ্কারও পান।

বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী বলেন, বাংলাদেশের মত দেশে নারী বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করা অনেক কঠিন আর্থ সামাজিক অবস্থার জন্য। বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করতে হলে অনেক অধ্যবসায় ও একমুখী মনোযোগ প্রয়োজন যা বাংলাদেশের নারীরা ইচ্ছে করলেও অর্জন করতে পারেনা। কারণ, সংসার সামলানোসহ নানা রকম মাল্টিটাস্কিং দায়িত্ব স্ত্রী বা পরিবারের নারী সদস্য হিসেবে তাঁকে একাই পালন করতে হয়। সাংসারিক কাজ ও দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেবার সহমর্মীতা ও যুক্তি বোধ এখনও সমাজে সেভাবে তৈরি হয়নি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্রিক পড়াশুনা ও কেরিয়ার তৈরিতে নারীদের অংশগ্রহণ একারণেই কম। এত বাধা সত্ত্বেও নারীরা সবকিছু সামলেও এসব ক্ষেত্রে আসছে, এটাই আশার কথা। তবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতেই হবে। বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী এজন্য দারুণ অনুপ্রেরণাদায়ী। তিনি সবকিছু সামলেও ঐ আশির দশকে উঠে এসেছেন বিজ্ঞানী হিসেবে, দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন সারা বিশ্বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *