follow us at instagram
Thursday, April 09, 2020

ব্যর্থতাকে পরিণত করুন সার্থকতায়, জীবন হবে সুন্দর

ব্যর্থতাকে পরাজয় নয় বরং অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা গ্রহণের পন্থা হিসেবে দেখা উচিৎ।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2019/10/Capture4.png

ব্যর্থতা জীবনেরই একটি অংশ। স্বীকার না করলেও ব্যর্থতা সফলতারই একটি শক্তিশালী ভিত্তি।
অসফল হওয়া ব্যর্থতা নয় বরং ব্যর্থতার কাছে হার মেনে তা স্বীকার করাই হচ্ছে আপনার ব্যর্থতা। ব্যর্থতার প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। ব্যর্থতাকে পরাজয় হিসেবে না দেখে মূল্যবান অভিজ্ঞতা হিসেবে নিলে এর মাঝেই আমরা সফলতার পথ খুঁজে পাবো।

ব্যর্থতা স্বীকার করুন
ব্যর্থতাকে ব্যর্থতা হিসেবে নয় একটি সাধারন ঘটনা হিসেবে নিন।
বর্তমানকে মেনে নেওয়া না পর্যন্ত আপনি সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন না। যা ঘটে গিয়েছে তা আপনি কখনো বদলাতে পারবেন না। আর বার বার অতীতের দিকে ফিরে তাকালে সময় শুধু নষ্টই হবে।
অতীতকে নয় বরং বর্তমানকে সামনে রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা নিন
ব্যর্থতা বলে কিছু নেই, আছে শুধু সফলতা ও অভিজ্ঞতা। প্রতিটি ব্যর্থতার পেছনে একটি গল্প থাকে।যেখানে অভিজ্ঞতা ও অনেক কিছু শেখার থাকে। ব্যর্থতা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাকে কাজে লাগাতে হবে। আপনি ব্যর্থ হয়ে বসে না থেকে খুঁজে বের করুন ব্যর্থ হওয়ার কারণ। সেই কারণটা কাজে লাগিয়ে নিজেকে উন্নত করুন। নিজেকে এমনভাবে তৈরি করুন যেন দ্বিতীয়বার এই একটি ভুলের কারণে অন্তত আপনি আর ব্যর্থ না হোন।

পরিবর্তন নিয়ে আসুন
ব্যর্থ হয়েছেন বলে হার মেনে নিবেন না। উপসংহার না টেনে এখনো যা পরিবর্তন নিয়ে আসা যায় নিয়ে আসুন। আপনার চিন্তাধারা, লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ অথবা প্রয়োজনে আপনার লক্ষ্য পরিবর্তন করে নতুন এক যাত্রা শুরু করুন। এর মাধ্যমে  নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ আসবে যা আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বাড়িয়ে দিবে।

সংশয় কাটিয়ে উঠুন
ব্যর্থতার ক্ষেত্রে দেখা যায় আমাদের মানসিকতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
পুনরায় ব্যর্থ হওয়ার সংশয় কাজ করে। এর ফলে আমরা ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে নতুন কিছু করতে পারি না।
ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি তো থাকবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই! তাই বলে জীবন তো থেমে থাকবে না।

ভয় কে সাহসে পরিণত করুন। কোন কাজ অসম্ভব বলে মনে হলেও চেষ্টা করতে হবে। যেন ব্যর্থ হলেও অন্তত নিজেকে বলতে পারবেন যে আপনার চেষ্টা করার মত সাহস ছিল। এক্ষেত্রে ব্যর্থতা আসলেও তা পরবর্তীতে আপনাকে প্রেরণা যোগাবে।

নিজেকে প্রেরণা দিন
পারিপার্শ্বিক প্রেরণা ও মতামতের পাশাপাশি আপনার নিজেকে নিজের দেওয়া উপদেশ ও পেপ-টক অনেক বেশি জরুরি। সময় বের করে নিজের সাথে কিছু কথা বলুন।  ভয় ও বিষণ্ণতা দূর করতে নিজেকে বুঝাতে হবে যে এটাই শেষ নয়। ব্যর্থতার আলোকে নিজের যোগ্যতা বিবেচনা করবেন না।
বরং ব্যর্থতার ইতিবাচক দিকগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। এই ব্যর্থতার ফলে অন্তত আপনি জানতে পেরেছেন আপনার ভুলটা কোথায়? কোন পথে গেলে আপনি লক্ষ্যে পৌঁছাবেন না? ও পুনরায় চেষ্টা করার জন্য নিজেকে আবারো নতুন করে প্রস্তুত করে নিতে পারছেন।

ব্যর্থতাকে দেখুন নতুন আলোকে
সফলতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় ব্যর্থতাকে একটি ধাপ হিসেবে বিবেচনা করুন।
মনে করুন ব্যর্থতা আপনার লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি সিঁড়ি ছিল। যা আপনি অবশেষে পার করে ফেলেছেন। অর্থাৎ আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে আরও একটি ধাপ সামনে গিয়েছেন।
তাছাড়া সফলতা উদযাপনের তুলনায় আমাদের ব্যর্থতা থেকে আমরা কি শিখতে পাই তা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যর্থতাকে পরাজয় নয় বরং অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা গ্রহণের পন্থা হিসেবে দেখা উচিৎ। আপনার ব্যর্থতা থেকে আপনি কি শিখেছেন? এবং আপনার ব্যর্থতাকে সফলতায় পরিণত করার পেছনের গল্প শেয়ার করুন আমাদের সাথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *