follow us at instagram
Thursday, April 09, 2020

ভালোবাসার নেই কোন বয়স, তাই সম্মান করুন সব সম্পর্ককে

বেশি বয়সের কোন বিয়েকে সমালোচনা না করে শুভকামনা জানানোটা উত্তম।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/02/Screenshot_5.png
Image Source: bengali.news18.com
মাঝে মাঝে কিছু বাস্তব ঘটনা জীবনকে অন্য ভাবে জানতে সুযোগ করে দেয়। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হিসেবে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে কেন বেছে নেয়া হয়েছে তা সুস্পস্টভাবে এখনো জানা যায়নি। শত শতাব্দী ধরে পালন করা এই উৎসবের বিষয়ে কোন নথি বা দলিলপত্রও পাওয়া যায় না। এমনকি সাহিত্যেও ভালোবাসা দিবসের ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য কোন উল্লেখ নেই। মূলত কিছু উপকথার ভিত্তিতেই বর্তমানে সারা বিশ্বে পালন করা হয় এই দিবসটি। এ প্রসংগে  কম বেশি সকলের জানা।
ভালোবাসা কোন নিয়ম, সমাজের অনুশাসন বা বয়সের হিসাব মানে না৷। তবে সম্পর্ককে সুন্দর আর সজীব রাখতে  পারস্পরিক বোঝা পড়া  থাকাটা খুব জরুরি। তাহলেই  ভালোবাসা দুজন মানুষকে  চির বন্ধনে আবদ্ধ রাখতে পারে।    ভালোবাসা  কেবল  যৌবনের  আবেগ উচ্ছাস নয় । বরং ভালোবাসা আর মনের টানে দুজন মানুষ বয়সের সীমা ছাড়িয়ে নিজেকে উজাড় করে দিতে পারে। এমনি এক উজাড় করা  মনের ভালোবাসাকে সত্যতে পরিনত করেছে কলকাতার দীপংকর দে আর দোলন রায়। ৭৫ বছরের দীপংকর দে আর  ৪৫ বছরের দোলন রায়  বন্ধুত্ব, প্রেম ভালোবাসাকে এক সূতায় বেঁধেছে   বয়সের গন্ডি এড়িয়ে বিবাহ বন্ধনে  আবদ্ধ  হয়ে৷। একই সাথে প্রমান করেছে বেশি বয়সে বিয়ে করা যায় না এটা ভুল।
আমাদের সমাজে প্রৌঢ় বা মধ্য বয়সে একজন নারী পুরুষ বিয়ে করাটা বিস্ময়কর হয়। মনে করা হয় ৫০ /৬০ এর পর আত্মিক ভাবনা বলে কিছু  থাকতে পারে না।আর প্রেম ভালোবাসাটা তো অবান্তর বিষয়। এ বয়সে আবার  প্রেম ভালোবাসা কি।  কিন্তু একজন মানুষের মনের কোন বয়স নাই। শরীর বয়সের ভারে নুজ হয়ে যায়। মন তা হয় না। সে কারনে মনের সাত রং দিয়ে   বয়সকে জয় করতে পারলে ভালোবাসার  প্রকৃত  আস্বাদন করা সম্ভব।
ভালোবাসা দিবসের লাল রংয়ের অন্তরালে কাহিনি কে স্মরণ করলে অনেক বেশি অর্থবহ হয় জীবনের সম্পর্কগুলো।
মূলত প্রাচীন খ্রিস্টান ও রোমান ঐতিহ্যের ভিত্তিতে আধুনিক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন দিবস পালন করা হয়ে থাকে। একটি উপকথায় আছে, প্রতিবছর ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রাচীন রোমানরা লুপেরক্যালিস বা লুপেরক্যালিয়া নামে নবান্ন উৎসব উদযাপন করতো। কিন্তু ইউরোপে খ্রিস্টান ধর্ম প্রসারের সাথে সাথে পৌত্তলিক উৎসবগুলোকে খ্রিস্টান প্রচারক শহীদদের নামে নামকরন করতে থাকে। ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ গ্যালাসিআস ‘লুপেরক্যালিয়াকে’ ৩য় শতাব্দীতে রোমান শহীদ সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামে নামকরন করে একে খ্রিস্টান উৎসবে পরিনত করেন। একই সঙ্গে আগে যেদিনে উৎসবটি পালন করা হতো তার একদিন আগেই অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি এই উৎসব উদযাপনের ঘোষনা দেয়া হয়। এই সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের স্মরনেই আধুনিক ভ্যালেন্টাইন দিবস পালন করা হয়।
প্রেমকে সামাজিক স্বীকৃতি দিতে পারার জন্য শুধু সাহসের দরকার। সেখানে বেশি বয়সের হিসাবটা বড় তুচ্ছ। আর এ কথাটা মেনে নিলে একাকীত্ব জীবনে আপন সাথী হয়ে থাকতে পারে দুজন মানুষ। সুতরাং বেশি বয়সের কোন বিয়েকে সমালোচনা না করে শুভকামনা জানানোটা উত্তম।
**এই লেখাটি লেখিকার একান্ত মতামতের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে।                 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *