follow us at instagram
Tuesday, August 11, 2020

ছুটির দিনে মন ভরে শ্বাস নিতে বন-পাহাড়ী বান্দরবানে!

অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী মানুষগুলোর জন্যে বান্দরবানের ভেতরেই রয়েছে ঘুরে বেড়ানোর হরেক জায়গা।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/02/1080x720-blank-ban.jpg

লোকালয়ের যান্ত্রিকতায় কার না মন ছটফট করে একটুখানি মুক্তির আশায়? শহুরে কোলাহল থেকে দূরে কোথাও প্রিয় মুখগুলোর সাথে ঘুরে আসার জন্য বান্দরবান চমৎকার একটি স্থান। দেশের দক্ষিণ-পূর্বের পাহাড়ঘেরা এই এলাকাটিতে দেখা মিলবে সবুজ বনানী ও দৃষ্টিনন্দন সাঙ্গু নদের। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী মানুষগুলোর জন্যে বান্দরবানের ভেতরেই রয়েছে ঘুরে বেড়ানোর হরেক জায়গা। কোথায় যাবেন? আসুন, জেনে নিন।

বগা লেক
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০০ ফুট উপরে অবস্থিত এই প্রাকৃতিক লেকটিতে প্রতি বছর, বিশেষত শীতকালে পর্যটকদের সমাগম দেখা যায়। স্বচ্ছ পানির এই লেকটি রুমা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরেই। সূর্যের আলো আর মেঘের খেলায় লেকের পানির রঙের মাঝেও দেখবেন তারতম্য! লেকের পাশে খোলা আকাশের নীচে তারা দেখার অবর্ণনীয় অনুভূতি  অসাধারন। যেতে পারবেন রুমা বাজার থেকে কৈখং ঝিরি পর্যন্ত জীপ ভাড়া করে নিয়ে। থাকতে পারেন স্থানীয় লোকালয়ে।

তাজিনডং ও কেওক্রাডং:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যথাক্রমে ৪৫০০ ও ৪০০০ ফিট উপরে অবস্থিত এই পাহাড়ে ট্রেকিং হতে পারে জীবনের অমূল্য স্মৃতিগুলোর একটি। শহর থেকে প্রায় ৭০ কিঃমিঃ দূরে তাজিনডং এবং কেওক্রাডং যাওয়ার পথেই পড়বে বগালেক। পাহাড় দুটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নানান জনপদ, যাদের জীবনধারা এখনো স্পর্শ পায়নি যান্ত্রিকতার। খেয়াল রাখবেন, বগালেক থেকে খুবই সকালে রওনা দিতে হবে। বর্ষায় ট্রেকিং করা খুবই বিপদজনক, তাজিনডং ও কেওক্রাডং-এর পথে ট্রেকিং সবচেয়ে ভালো মৌসুম শীতকাল।

নীলগিরি ও নীলাচলঃ
শহরের কাছে-পিঠে ঘুরে স্বল্প সময়ে ঘুরে আসার জন্য নীলগিরি ও নীলাচল অনবদ্য দুটি পর্যটনকেন্দ্র। নীলগিরি বান্দরবান উপজেলা সদরদপ্তর থেকে ৪৭ কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত। শীত বা বর্ষার দিনগুলোতে নীলগিরির ৩৫০০ ফিট উচ্চতা থেকে অবলোকন করতে পারবেন দূরের পাহাড়চূড়ার অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্য।

নীলাচল শহর থেকে মাত্র ৫ কিঃমিঃ দূরেই। নীলাচলে সূর্যাস্তের স্বর্গীয় দৃশ্য বার বার ফিরিয়ে আনে পর্যটকদের। বর্ষায় হয়তো আপনাকে আলতো করে ছুঁয়ে যেতে পারে দলছুট কোন মেঘ।
হাতে সময় কম থাকলে জীপ ভাড়া করে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এই দুটি ভ্রমণস্থলে।


সাঙ্গু নদ
শীতে শুকিয়ে গেলেও বর্ষায় সাঙ্গু নদ জলে টইটম্বুর থাকে। স্থানীয় মানুষগুলো জীবন নির্বাহের জন্য সাঙ্গুর উপর অনেকটুকুই নির্ভরশীল।

বর্ষার খরস্রোতে সাঙ্গুতে বাঁশের ভেলা বয়ে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। সাম্পানে চড়ে ঘুরে দেখুন পাহাড়ের মাঝে বয়ে যাওয়া জলধারার সৌন্দর্য, সাথে আছে লোকালয়ের জীবন। নৌকা ভাড়া করতে পারবেন ক্যাচিংঘাটা বা পুরাতন সাঙ্গু ব্রিজের ঘাট থেকে।

নাফাকুমঃ
বান্দরবান শহর থেক ৭৯ কিঃমিঃ দূরের এই জলপ্রপাতটি দেশের সর্বোচ্চ জলধারা। থানচি উপজেলার রেমাক্রিতে অবস্থিত নাফাকুম ঘুরে আসতে গেলে বান্দরবান থেকে থানচিগামী বাসে উঠে পড়ুন। থানচি নেমে স্থানীয় আর্মি ক্যাম্পে নাম রেজিস্টার করুন এবং একজন গাইড ভাড়া করুন। এরপর ইঞ্জিনের নৌকা ভাড়া করে রেমাক্রির পথে রওনা দিন। সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে রাত কাটিয়ে দিতে পারেন স্থানীয় বাসিন্দাদের আবাসস্থলে। এতে তাদের আতিথেয়তার চমৎকার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ধারণা পাবেন তাদের জীবনপদ্ধতিরও। ভোরে নাফাকুমের উদ্দেশ্যে ট্রেকিং শুরু করুন। নাফাকুম পৌছাতে ২ ঘন্টার মত সময় লাগতে পারে। শহর থেকে নাফাকুমের যাত্রাটি সময়সাপেক্ষ হলেও জলপ্রপাত ও পথের সৌন্দর্যের কাছে তা হার মানতে বাধ্য।

শৈলপ্রপাতঃ
শীতল জলের এই ঝর্ণাধারার সত্যিকার রূপ ফুটে ওঠে বর্ষা নামার সাথে সাথেই। জলপ্রপাতের স্বচ্ছ পানির সাথে উপভোগ করুন এর আশেপাশের বম নৃগোষ্ঠীর জীবনপদ্ধতি। তাদের বুননে গড়া কাপড়, চাদর বা অন্যান্য হস্তশিল্প কিনতে পারবেন কাছের দোকানগুলো থেকেই।

স্বর্ণমন্দির/ বৌদ্ধ ধাতু জাদিঃ
পাহাড়ের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা মন্দিরটি শহর থেকে মাত্র ৩কিলোমিটার দূরে। আরাকানের স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মন্দিরের চারপাশ ঘুরে দেখতে পারবেন বুদ্ধের মূর্তিগুলো। সাথে আছে নীচের বালাঘাটা গ্রামের সবুজঘেরা দৃশ্যপট ও সাঙ্গুনদ।
এই স্বর্ণমন্দিরটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধবিহার। খেয়াল রাখবেন, পা উন্মুক্ত থাকে, এমন পোশাক পড়ে মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ।

মেঘলাঃ
পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে মেঘলা সকলের কাছেই সমাদৃত। মেঘলায় রয়েছে মিনি সাফারি পার্ক, ঝুলন্ত ব্রিজ, কেবল কার এবং পাহাড়ের পাদদেশে দেখতে পাবেন কৃত্রিম হ্রদ। হ্রদে নৌকা নিয়ে পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের নিয়ে সুন্দর সময় কাটাতে পারবেন। শহর থেকে কেরানিহাট যাওয়ার পথে ৪ কিঃমিঃ দূরত্বেই অবস্থিত চমৎকার এই পর্যটনকেন্দ্রটি।

বান্দরবানে ট্রেকিং করতে চাইলে আগে পথের ব্যাপারে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে আসা দরকারি, এবং লাগেজ হতে হবে হালকা। শুকনো খাবার ও পানি সাথে রাখুন সবসময়। বান্দরবান ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকা, তাই প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক রাখুন সাথে। দরকারি ঔষধ নিতে ভুলবেন না। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না। স্থানীয় মানুষদের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন এবং অনুমতিসাপেক্ষে তাদের ছবি তুলবেন।দুর্গম স্থানগুলো ভ্রমণে গাইডের সহায়তা নিন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *