follow us at instagram
Monday, April 06, 2020

করোনা থেকে বাঁচতে সঠিক নিয়মে থাকুন হোম কোয়ারেইন্টাইনে

বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে দেবার আগে নিজেরাই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকাটা ভাল সচেতন হয়ে।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/01/Capture.PNG-kitchen.png

এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৩৩ জন মানুষ বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু বরণ করেছেন ৬ হাজারের বেশি। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৭৭ হাজার ৭৫৩ জন। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যের মত দেশগুলোর উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, তৎপর প্রশাসন এবং সচেতন জনগণের মধ্যেও এই ভাইরাসে মৃত্যু হার অতীতের নভেল ভাইরাসগুলোর তুলনায় ছাড়িয়ে গেছে। এবং সবচেয়ে ভয়ের ব্যপার হল, এর ভ্যাকসিন এখনও গবেষণাধীন এবং যদি এই মুহূর্তেও ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়, বাজারে আসতে সময় লাগবে আরও এক বছর। বাংলাদেশে আসতে সময় লাগবে তারও বেশি সময়। অতএব, এই মুহূর্তে করোনার মত দ্রুত সংক্রমণ শীল রোগ থেকে দূরে থাকার জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকর।

করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হবার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। শুধু সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নয়, আমাদের দেশেও। এমন পরিস্থিতিতে কে কখন কিভাবে সংক্রমিত হবে, এটা আগে থেকে বলা যায়না। তাই দেশের সবাইকে ভিড়, আড্ডা  জনসমাগম স্থল এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে আশা করা হচ্ছে সংক্রমণের হার কিছুটা কম হবে। তবে আমাদের দেশের মানুষের স্বেচ্ছা সচেতনতা খুব কম। 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে করোনা সংক্রমণ থেকে দূরে থাকার মূলত উপায় এখন পর্যন্ত দুইটি। এক. করোনা হয়েছে এমন সন্দেহজনক ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেনন্টাইনে রাখা এবং দুই. করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা। আমাদের দেশে এখনও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়েনি, কিন্তু আক্রান্ত হতে পারে এমন মানুষদের সংখ্যা দুই হাজার অতিক্রম করেছে। এবং নতুনরা যুক্ত হচ্ছে প্রতিদিন। অতএব, এ বিষয়ে গভীরভাবে জানা এখন বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। 

হোম কোয়ারেনন্টাইন কি? 

কোয়ারেন্টাইন শব্দের অর্থ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পৃথক থাকা। কোয়ারেন্টাইন মানে এই নয় যে, ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহজনক ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয়া । যদি কোনও ব্যক্তির করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে তাকে জনবহুল এলাকা থেকে দূরে রাখতে এবং ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কিছুদিন আলাদা রাখা হয়। এটাই কোয়ারেন্টাইন পদ্ধতি। হোম কোয়ারেনন্টাইন হচ্ছে পৃথকভাবে নিজের বাসায়ই অবস্থান করা। হোম  কোয়ারেনন্টাইন নিয়ে আমাদের দেশের মানুষরা অহেতুক আতঙ্কে ভুগছেন। হোম কোয়ারেন্টাইন হচ্ছে, করোনা হতে পারে এমন সন্দেহজনক ব্যক্তিকে বাসায় কোন একটি কক্ষে একা রাখা। এবং এই একা থাকার সময়টা নূণ্যতম ১৪ দিন। এসময় ঐ ব্যক্তি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথেও যেকোনো শারীরিক সংসর্গ ও দেখা সাক্ষাৎ থেকেও দূরে থাকবেন এবং পৃথক জিনিসপত্র ও টয়লেট ব্যবহার করবেন নিজেকে ও অন্যদের নিরাপদ রাখার জন্য। 

হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে যেসব নিয়ম মানতে হবে:

১. নিজের বাসার একটি কক্ষে একা থাকতে হবে।

২. যে টয়লেট ব্যাবহার করবে করোনা সন্দেহে আক্রান্ত ব্যক্তি, ঐ টয়লেট অন্য কেউ পারত পক্ষে ব্যবহার না করাই ভাল। করলেও ফিনাইল, সেপ্নিল ইত্যাদি দিয়ে ভালভাবে পরিষ্কার করে ব্যবহার করতে হবে। 

৩. পৃথক তোয়ালে, গামছা, ব্যবহার করতে হবে। 

৪. যথাসম্ভব সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলতে হবে, এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও।

৫. অন্য ব্যক্তির সামনে মাস্ক পরতে হবে।

৬. ৩ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে কথা বলা যাবে। 

৭. ঘন ঘন হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। যেসব জায়গায় বারবার স্পর্শের সম্ভাবনা আছে, সেগুলো দিনশেষে ভালো করে জীবাণুনাশক দিয়ে মুছে ফেলতে হবে। যেমন দরজার হাতল, কম্পিউটার, ফোন, টয়লেট ইত্যাদি।

৮। বার বার মুখমণ্ডল স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে

৯। ঘরের বাইরে ১৪ দিন পর্যন্ত বের হওয়া যাবেনা।

১০। পরিধানের কাপড় প্রতিদিন ভাল করে গরম পানিতে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে পুনরায় পরা যাবে। বিছানা বালিশ কভারও দুই-তিনদিন পর পর গরম পানি-ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে ব্যবহার করতে হবে।

১১। গরম পানি, ভিটামিন সি যুক্ত খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঔষধ পথ্য খেতে হবে।

তাই পুলিশ-প্রশাসন বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে দেবার আগে নিজেরাই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকাটা ভাল সচেতন হয়ে। এতে নিজের যেমন উপকার হবে তেমনি অন্যরাও নিরাপদে থাকবে। সংক্রমণ ছড়ানোর আশংকা কমে যাবে। এছাড়া যাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা তারা সেই নিয়ম পালন না করলে জরিমানা ও মামলা হবার সম্ভাবনা থাকে। এলাকাবাসী এবং প্রতিবেশীর ক্ষোভের মুখেও পড়তে পারেন অনেকে। তাই নিয়মগুলো জেনে নিজে থেকে স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকাটা লাভজনক।  

তথ্যসূত্রঃ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ওয়েবসাইট, কালের কণ্ঠ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *