follow us at instagram
Monday, April 06, 2020

আইসোলেশনে যেসব নিয়ম পালন করতে হবে করোনা আক্রান্তের

আইসোলেশন হল কোয়ারেন্টাইন বা হোম কোয়ারেন্টাইনের চেয়ে আরেক ধাপ এগিয়ে।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/03/Capture.png

করোনা ভাইরাস নিয়ে আমাদের দেশে আতঙ্ক শুরু হয়েছে প্রতিদিনই কোয়ারেন্টাইন এমনকি আইসোলেশন থেকে পালানোর ঘটনা ঘটা শুরু হয়েছে এছাড়া যাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা তারা বেশিরভাগই নিয়ম মানছেন না ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এই সচেতনতার অভাব খুবই আত্ম বিধ্বংসী কেননা যারা নিয়ম ভাঙ্গছেন, মূলত না জানা অধৈর্য হবার কারণে নিয়মের মধ্যে আসতে চাইছেন না কিন্তু সকলের জানা দরকার, করোনা ভাইরাস ভয়ংকর রূপ ধারণ করে শুধুমাত্র অসচেতনতার কারণে আর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথম দুই বা তিনদিন পর্যন্ত ব্যক্তি শারীরিকভাবে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হননা, ফলে যারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে নিয়ম ভাঙছেন বা এখনই সচেতন হচ্ছেন না তাদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি এবং তাদের ফলে অন্যদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করার সম্ভাবনা খুবই কম যদি কেবলমাত্র সঠিক নিয়ম কানুন ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা যায় নিয়ম কানুনের মধ্যে না থাকলে, স্বেচ্ছাচারিতা করলে এবং রোগীর যদি অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থাকে যেমন ডাইবেটিস, রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং শ্বাসকষ্ট বা নিদেনপক্ষে শ্বাসকষ্ট হবার প্রবণতা, তাদের মৃত্যু হার বেশি এই কারণে বৃদ্ধদের মৃত্যু হার করোনা ভাইরাসে বেশি। নিয়ম কানুন কম বয়ষ্করা না মানলে, একই পরিনতি মেনে নিতে হবে তাদেরও। তাছাড়া কোন ভ্যাকসিন ঔষধ এখনও তৈরি হয়নি রোগের, ফলে শুধু সচেতনতা ও সঠিক পরিচর্যার অভাবেই আমাদের দেশের মানুষের মৃত্যুর হার আরও বেশি হতে পারে বলে আশংকা করছেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। 

আইসোলেশন কি

আইসোলেশন হল কোয়ারেন্টাইন বা হোম কোয়ারেন্টাইনের চেয়ে আরেক ধাপ এগিয়ে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে যাদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের আপাত উপসর্গ নেই, কিন্তু যারা বিদেশ থেকে এসেছেন কিংবা ছোট খাট উপসর্গ যেমন সর্দি হালকা জ্বর বোধ করছেন আমরাতো খুব সাধারণ ভাইরাস সর্দিতেও এই রকম সচেতনতা পালন করি অন্যদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা, নিজের ব্যবহার্য জিনিসপত্র পৃথক করে ফেলা কঠিন কিছু নয় এটা খুব সাধারণ সহজ পালনীয় কর্তব্য সর্দি জ্বরের সময় 

উপসর্গ যখন আরও বেশি এবং তীব্র হয়, তখন আইসোলেশনে চলে যেতে হয় রোগীকে এসময় রক্ত শরীরের রস পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হয় যে শরীরে ভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে কিনা যদি পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ হয় তাহলে আইসোলেশননে আরোগ্য লাভ করা পর্যন্ত বা শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে

আইসোলেশনে যা যা করণীয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইসোলেশন মানেই অচ্ছুৎ হয়ে থাকা নয় বরং কিছু দিন শুধু নিয়ম মেনে চলা

১। একা থাকলে এই সময় নিজের রান্নাবান্না নিজেই করে নিতে হবে। অসুস্থতার কারণে সেটা না পারলে খাবার ডেলিভারি করে এমন কোনও সংস্থাকে অর্ডার করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ফোন করে দরজার কাছে খাবার নামিয়ে রেখে যেতে বলা যেতে পারে। অনলাইনে আগেভাগে পরিশোধ করতে হবে সেক্ষেত্রে।

২। একা না থেকে পরিবারের সাথে থাকলে তাঁরা যাতে সারা ক্ষণ সার্জিক্যাল মাস্ক পরে থাকে সে ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে হবে। রোগীর জন্য রান্নাবান্না করা বা তাঁদের খেতে দেওয়ায় কোন সমস্যা নেই। এন ৯৫ মাস্ক এক্ষেত্রে খুব কার্যকর। মাস্ক পরা থাকলে ও ঘন ঘন হাত ধুলে ভাইরাসে আক্রান্ত হবেনা কেউ।

কোনভাবেই বাইরে বের হওয়া যাবেনা একমাত্র চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হবার সুযোগ থাকলে ভাল না থাকলেও বাসায় আইসোলেশনে চিকিৎসকের পরামর্শ আইসোলেশনের নিয়মানুযায়ী চলতে হবে খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজে একান্তই বেরতে হলে রোগী রোগীর সঙ্গে কেউ গেলে দুজনেই মাস্ক পরতে হবে ফিরে এসে সাবান বা ইথাইল অ্যালকোহল মেশানো হ্যান্ডওয়াশে পানিতে গোসল করতে হবে

প্রতিদিনের কাপড় প্রতিদিন সাবান গরম পানিতে ধুতে হবে বাইরে থেকে এসেও ধুতে হবে  বিছানা বালিশ প্রতি তিন দিন পর পর গরম পানিতে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ভাল করে রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করতে হবে 

যেহেতু করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির ডাইরিয়া বমি হয় সেহেতু গরম পানি, তরল খাবার ওরস্যালাইন  স্বাভাবিক খাবারের সাথে বেশি খেতে হবে তবে এসময় ভারী মশলা যুক্ত খাবার খাওয়া যাবেনা ভিটামিন সি যুক্ত যেকোন ফল বেশি বেশি খেতে হবে এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাল থাকবে

যোগাসন শরীরচর্চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে যা করোনায় আক্রান্ত রোগীর একমাত্র ভরসা তবে তাঁর মানে এই নয় জিমে যেতে হবে ঘরেই হালকা ব্যায়াম করা সম্ভব হাটাহাটি, ওয়ার্ক আউট ইত্যাদি করা যায় রুমে বসেই  এছাড়া ফোনে যোগাযোগ করে নেয়া যায় কোনও ফিটনেস বিশেষজ্ঞের সঙ্গে তার পাঠানো সাজেশন (ছবি/ভিডিও বা নির্দেশনা) অনুযায়ী ব্যায়াম করলেই ভাল হয় 

নিজের মুঠোফোন নিজের কাছেই রাখতে হবে কারণ মুঠোফোনের স্ক্রিন খুবই স্পর্শকাতর মুঠোফোন হাতে থাকায় এবং সর্বদা খোলা অবস্থায় থাকায় মুঠোফোনের শরীরে প্রচুর ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া থাকে তাই আইসোলেশনে থাকা ব্যক্তির মুঠোফোন অন্যদের সংস্পর্শে যাতে না আসে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে একই ভাবে, ব্রাশ, তোয়ালে,গামছা, চিরুনি, সাবান সব ব্যবহার্য জিনিসপত্র পরিবারের অন্যন্য সদস্যদের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে এগুলো প্রতিদিন ফোটানো গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে

রোগীর ঘরে অন্যদের প্রবেশ করা যাবেনা রোগীর জন্য ঘর আলাদা রাখা এই কদিন বাঞ্ছনীয় রোগীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জীবন বাঁচানোর জন্য এই কদিন একটু কষ্ট করে হলেও দূরে থাকতে হবে বা সহ্য করতে হবে   

যে বা যারা রোগীর দেখভাল করতে ঘরে ঢুকবে, তাদের অবশ্যই মাস্ক পরে থাকতে হবে সময় এবং ঘর থেকে বেরিয়ে ভাল করে হাত পা ধুতে হবে চীনে রোগীর দেখভাল করা নার্স চিকিৎসকদের চুল ফেলে দেবার ঘটনাও ঘটেছে কেননা, করোনা ভাইরাস বাতাসে ভাসতে পারে, ফলে রোগীর পরিচর্যাকারীদের চুলের নাগাল পাওয়া খুবই সহজ তাদের জন্য তাই মাস্কের সাথে সম্ভব হলে হেড মাস্কও পরে থাকতে হবে 

১০ রোগীকে গোসল করানোর দরকার পরলে তাঁকে গোসল করানোর পর পরিচর্যাকারীকেও পানিতে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে গোসল করতে হবে রোগীর বেশির ভাগ পরিচর্যা হাতে গ্লাভস পরে করতে হবে সেই গ্লাভসও প্রতি দিন গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে তাই একাধিক গ্লাভসের সেট রাখতে হবে ঘরে

১১ এত সব সচেতনতামূলক ব্যবস্থা চালু রাখতে পারলে রোগীর সঙ্গে গল্প করা বা একসঙ্গে বসে টিভি দেখায় কোনও বাধা নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা শুধু সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরে থাকতে হবে এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে  এতে রোগীর মন স্বাভাবিক উৎফুল্ল থাকবে এবং তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে ফলে করোনা থেকে মুক্তি মেলা সহজ। 

তথ্যসূত্রঃ বিবিসি, আনন্দ বাজার, ঢাকা ট্রিবিউন, যুগান্তর। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *