follow us at instagram
Monday, April 06, 2020

চিকিৎসকদের জন্যে ৪ লাখ সুরক্ষা পোশাক তৈরি হচ্ছে স্বপ্নার উদ্যোগে

বৈশ্বিক মহামারীতে চিকিৎসকরা ও স্বাস্থ্য-কর্মীরা তাই আক্রান্ত হবেন এবং হচ্ছেন। তাঁদের সুরক্ষা প্রয়োজন।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/03/swopna_ch_corona_ppe_deshru.jpg
Image Source: deshrupantor.com

যুদ্ধ চলছে এক অন্যরকম যুদ্ধ। টিকে থাকার যুদ্ধ। রোগ, অসচেতনতার বিরুদ্ধে লড়ে যাবার যুদ্ধ। এবং সে যুদ্ধেও এদেশের কিছু মানুষ তাঁদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন লড়ে যেতে। স্বপ্না তাঁদেরই একজন।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রতিদিনই একটু একটু করে নাজুক অবস্থার দিকে যাচ্ছে আমাদের দেশে। কেননা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি যেমন নেই, তেমনি অসচেতনতা ও অব্যবস্থাপনার তীব্রতা সীমাহীন। নেই রোগ পরীক্ষা করার যন্ত্রপাতি, নেই চিকিৎসকদের জন্য যথেষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা।

যেকোনো মহামারীতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা।

এমন তীব্র ও বৈশ্বিক মহামারীতে চিকিৎসকরা ও স্বাস্থ্য-কর্মীরা তাই আক্রান্ত হবেন এবং হচ্ছেন। এবং সুরক্ষা না থাকলে তারাই হবেন সংক্রামক রোগের শক্তিশালী বাহক। কেননা তাদেরকে প্রতিদিন হাজারও রোগী এবং সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয় পেশাগত কারণে। ফলে তারা যদি সুরক্ষিত না থাকেন , সব দিক দিয়েই ক্ষতি। ইতিমধ্যেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন চীনের ৩৩৮৭ জন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মী, মারা গিয়েছেন ৩জন। ইতালিতে করোনায় ১৮ চিকিৎসকের মৃত্যু, ৩৬৫৪ স্বাস্থ্যকর্মী। এবং WHO (ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন) এর মতে,  আমাদের মত দেশ যাদের পূর্ব প্রস্তুতি এক প্রকার নেই এবং তাদের কোন সুরক্ষা পোশাক ও উপাদানের সরবরাহও নেই, তাদের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক তৃতীয়াংশই আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা আছে।

ঢাকা মেডিকেল ইতিমধ্যেই লিখিতভাবে করোনা প্রতিরোধে তাদের সবরকম উপকরণাদি স্বল্পতার কথা জানিয়ে দিয়েছে যা শুধু ঢাকা মেডিকেলের কর্মী ও চিকিৎসকদের জন্যই না, সারা দেশের মানুষের মধ্যেই ভীতির সঞ্চার করেছে। কেননা এই মহামারীতে আক্রান্ত হলে বিনা চিকিৎসায়ও মরতে হতে পারে এমন বিদ্যমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে।

এই অবস্থায় স্বপ্না ভৌমিক শোনালেন সুখবর। তিনি মার্ক্স অ্যান্ড স্পেন্সারের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর। ডাক্তার ও নার্স, অন্যান্য জরুরী সেবার সদস্যদের জন্য চার লাখ পিপিই (পারসোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট) তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে গতকাল থেকে। বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় নকশা করা হয়েছে পোশাক ও উপকরণাদির। সন্ধ্যার মধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এখন প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা করোনায় প্রতিদিন বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। ইয়োরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন যেখানে অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সুরক্ষা কৌশল অবলম্বন করেও করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমাতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে পূর্ব প্রস্তুতি হীন বাংলাদেশের অবস্থা কি হবে তা অকল্পনীয়। তাই স্বপ্নার এমন তৎপর উদ্যোগ এবং তাঁর বাস্তবায়ন প্রশংসনীয়। এই সুরক্ষা পোশাকগুলো তৈরি হবে মার্ক্স অ্যান্ড স্পেন্সারের সাথে নিয়মিত কাজ করা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোতে। ১০-১২ দিনের মধ্যেই চার লাখ তৈরি হয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করছে মার্ক্স অ্যান্ড স্পেন্সার।

এবং এই পিপিইগুলো বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের ভেতর। এর আগে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনও একই উদ্যোগ নিয়েছিল। তাঁরা তাঁদের নিজস্ব বাসন্তী গার্মেন্টস থেকেও সুরক্ষা পোশাক তৈরি করছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের ভেতর এবং বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে যা প্রশংসনীয়। তবে দেশের মোট চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং প্রশাসনিক কর্মীদের যে পরিমাণ সুরক্ষা পোশাকের প্রয়োজন তা মেটানো একটি বা দুইটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আদৌ কতটা সম্ভব তা বলা যাচ্ছেনা। তবু এধরণের উদ্যোগগুলোতে একটি সিংহভাগ অংশের প্রয়োজন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে বলেই স্বস্তি।

এর মধ্যে সরকারী অনুদান ও সরকারী ব্যবস্থাপনায় আরও প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ কিছুটা এগিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। তবে শুধু কর্তৃপক্ষ নয়, ব্যক্তি পর্যায় থেকেও করোনা থেকে নিরাপদ থাকতে সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে হবে, প্রস্তুত থাকতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ যুগান্তর, ডেইলি স্টার, প্রথম আলো। 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *