follow us at instagram
Monday, April 06, 2020

করোনা মোকাবেলায় শিশুদের জন্যে বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরীর বার্তা

চিন্তা কোরোনা। আমাদের মত মানুষরা মানুষের জন্যে কাজ করছে।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/03/ferdousi-qadri-tramon-1280x771.jpg

প্রিয় শিশুরা, 

আজ তোমাদের সাথে এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলবো যা সারা বিশ্বকে বেশ ভাবাচ্ছে। পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নেই যাদের এই সমস্যাটি নেই। আর এই বিপদের কারণ হচ্ছে ছোট্ট একটি অণুজীব যাকে বলে ভাইরাস। এই ভাইরাসটির নাম করোনা ভাইরাস, কেননা ইংরেজি crown শব্দ থেকে এসেছে বা মুকুট এর মত দেখতে। এই ভাইরাসটি নিউক্লিক এসিড নামে কিছু জিনিস বহন করে। এটি ঠাণ্ডা ও সর্দি কাশির কারণ ঘটায় এমন ভাইরাসের মতই। তবে এটির সাথে সেই ধরণের ভাইরাসগুলোরও মিল রয়েছে যেগুলো সারা পৃথিবীতে মহামারীর কারণ ঘটিয়েছে। এই ভাইরাসটি ছোট মাইক্রোস্কোপ দিয়েও দেখা যায়না। এই ভাইরাস দেখার জন্য বিশেষ ধরণের মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করতে হয় যে জন্য বস্তুকে এক হাজার গুণ বড় দেখা যায়। এটা খুবই বিপদজনক পৃথিবীর সব কিছু থামিয়ে দিয়েছে এই  ভাইরাস। জীবনের গতি থেমে গেছে।

কিভাবে আমরা আমাদের নিরাপদ রাখতে পারি ?

আমাদের কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে সাবধানে থাকো। কারও খুব কাছে গিয়ে কথা বোলোনা, হ্যান্ড শেক করা, আলিঙ্গন করা ও চুম্বন করা থেকে বিরত থাকো। যখনই কোন কিছু স্পর্শ করবে, হাত ধুয়ে ফেলবে। মুখমণ্ডল থেকে হাত দূরে রাখবে এবং তোমাদের যদি মাস্ক থাকে, অবশ্যই নিরাপদে থাকার জন্য মাস্ক পরবে, কারণ নিরাপত্তার জন্য সেগুলো ভাল। কেন আমাদের কোন কিছু স্পর্শ করা উচিৎ নয় এবং হাত ধোয়া উচিৎ? কারণ ভাইরাস আমাদের হাতের মাধ্যমে ছড়িয়ে পরতে পারে। ছোট ছোট জলকণা এই ভাইরাসকে বহন করে যা আসলে রোগ ছড়ায়। তাছাড়া সর্দি পরিষ্কার করার পর তুমি যদি হাত না ধুয়ে থাকো, সেক্ষেত্রে খুব সহজেই রোগ ছড়িয়ে যাবে। মানুষের থেকে দূরে থাকলে এই ভাইরাস বৃদ্ধি পায় না এবং ছড়াতে পারেনা। ভাইরাস এর বেঁচে থাকার জন্য বাহক দরকার হয়। করোনা ভাইরাস বেঁচে থাকার জন্য এবং বংশ বৃদ্ধির জন্য মানুষ দরকার।

একারণে এসময়, যদি তুমি বাইরের সব কিছু মিস করেও থাকো, মানুষের ভিড় থেকে দূরে থাকো, পার্ক, মসজিদ এবং যেকোনো উৎসব উদযাপন থেকে দূরে থাকো। কেননা এই ভাইরাস মানুষের মাধ্যমেই দ্রুত ছড়ায়। তাই যেসব দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার বেশি  যেমন চীন, ইটালি, যুক্তরাজ্য, এসব দেশ থেকে আসা প্রবাসীদের থেকে দূরে থাকো। মূলত ভিড়ের মধ্যে যাওয়া যাবেনা এবং বাসে চড়া যাবে না এখন। এছাড়া তোমাদের দাদা-দাদী বা নানা নানীদের মত বয়স্কদের থেকে দূরে থাকবে কেননা, তারা যদি সংক্রমিত হন, তাদের জন্য পুনরায় সুস্থ হওয়া কঠিন হয়ে যাবে। আমি জানি, বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা না করা হয়তো কঠিন হয়ে যাবে তোমাদের জন্য। কিন্তু তোমরা প্রচুর বই পড়া শুরু করতে পারো, ছবি আঁকা বা ঘরের মধ্যেই কিছু খেলতে পারো।

তবে চিন্তা কোরোনা। আমাদের মত মানুষরা কাজ করছে। যারা সংক্রমিত হয়েছে তাদের যত্ন নেবার জন্য কাজ করছে কিছু মানুষ। ২০টি নতুন প্রতিষেধক সারা বিশ্বের দেশে দেশে তৈরি হবার পথে। এই প্রথম বারের কোন প্রতিষেধক এত কম সময়ে তৈরি করা যাচ্ছে। এর পরের বছর যখন আবার এই ভাইরাস ছড়াবে তখন আমরা এই প্রতিষেধকগুলো ব্যবহার করবো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *