follow us at instagram
Monday, April 06, 2020

বাড়ি ভাড়া মওকুফ করেছেন এক নারী, বিপদে পাশে থাকি সবাই

সবার প্রচেষ্টায় বৈশ্বিক মহামারীকে মোকাবেলা অনেক সহজ হবে বলে আশা করা যায়।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/03/buliding-risingbd-220200321191033.jpg
Image Source: chattogramnews.com

ধারণা করা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বেশ বড় ধরণের অর্থনৈতিক মন্দার দিকে যাচ্ছে সমগ্র বিশ্ব। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটবেনা। ইতিমধ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শপিং মল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একটি একটি করে অঞ্চল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে। এই স্থবিরতা নূন্যতম দুই সপ্তাহ চলবে। প্রাদুর্ভাব বাড়লে সবকিছু বন্ধ হবার স্থায়িত্ব আরও বাড়বে। শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। এরই মধ্যে পরিবহন শ্রমিকসহ অন্যান্য প্রান্তিক ও দরিদ্ররা বিপদে পরে গেছে। দ্রব্যমূল্যের দামও বসে নেই। ফলে মধ্যবিত্তের গায়েও আঁচ লাগবে। এই সময়ে বাড়ি ভাড়া যেন এক বোঝা। 

এমন জটিল পরিস্থিতিতেও মানুষ আশার আলো পায় যখন একজন আরেকজনের বিপদে এগিয়ে আসে তারা। করনা ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃতের সংখ্যা যখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, অর্থনৈতিক দুরবস্থা যখন সর্বস্তরে ঘনিয়ে উঠতে শুরু করেছে, তখন কিছু মানুষের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড মানুষকে মানবিক হতে সাহায্য করছে। 

এমন একজন মানুষ শেখ শিউলি হাবিব। ভবন মালিক হিসেবে তিনি তাঁর সব ভাড়াটিয়াদের মার্চ মাসের বাড়িভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন। ঢাকার জুরাইনের বাসিন্দা তিনি। নিজের সামাজিক যোগাযোগ অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন,

“করোনাভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করার কারণে বাংলাদেশের সবকিছুই স্থগিত হয়ে গেছে। কর্মজীবী মানুষ কর্মস্থলে যেতে পারছে না, তাই আমি এদেশের একজন ক্ষুদ্র নাগরিক হিসেবে আমার বাসার সকল ভাড়াটিয়াদের মার্চ মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিলাম। আমি আশা করি বাংলাদেশের সকল বাড়িয়ালাদের এই দুর্যোগের সময় ভাড়াটিয়াদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের সকল নাগরিককে ঘরে বসে থেকে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করুন। আল্লাহ এই দুর্যোগ থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন। আমিন।”

তিনি আশা করছেন, অন্যান্য বাড়িওয়ালারাও মানবিক এই দিকটি বিবেচনা করবেন। বাড়ির মালিকরা তাঁর মত দৃষ্টান্ত স্থাপন করলে করোনা প্রতিরোধে অনেক মানুষই শক্তি পাবে, সাহস পাবে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে। 

সামাজিক যোগাযোগে তাঁর পোস্টটি ভাইরাল হয় এবং অনেকেই তাঁর প্রশংসা করেছেন। একজন লিখেছেন, “মাশাল্লাহ, আপনাকে দেখে এই দেশের বাড়িওয়ালাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। ঢাকা শহরের কিছু বাড়িওয়ালা আছে যারা পশুর থেকেও অধম। আল্লাহ আপনাকে এই মহৎ কাজের উছিলায় সব সময় ভালো রাখুক।”  

“স্যালুট আপনাকে। এমন মহৎ উদ্যোগ নেয়ার জন্য। এমন মানসিকতার বাড়িওয়ালা বিরল। আল্লাহ্‌ আপনার মঙ্গল করুন। আপনার পরিবারের সবাইকে হেফাজত করুন।”

উল্লেখ্য শেখ শিউলি হাবিব একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাঁর একটি ট্রাভেল এজেন্সিও রয়েছে। গৃহকর্মদেরকেও তিনি ১ মাসের ছুটি দিয়ে দিয়েছেন বেতন ও এক বস্তা চালসহ। তিনি জানান, গৃহকর্মীদের মাধ্যমেও করোনা ছড়াতে পারে, কারণ, গৃহকর্মীদের বাসায় কাজের জন্য প্রতিদিন আসতে হয়, ফলে তাদের আক্রান্ত হবার এবং তাদের মাধ্যমে ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। 

দৃষ্টান্ত বাড়ায় ভাল কাজ, আবার প্রমাণিত

এইধরনের ভাল কাজ আরও বাড়িওয়ালাদের উৎসাহিত করেছে। মুহিব রহমান নামের ওই বাড়িওয়ালা তার ফেসবুক ওয়ালের স্ট্যাটাসে ভাড়া মওকুফের কথা বলেন। এরকম কঠিন জাতীয় দুর্যোগের সময়ে শিউলির এসব কর্মকাণ্ড অনুসরনীয়। তবে শুধু শেখ শিউলি হাবিবই নয়, তাঁর মত কয়েকজন সুনাগরিক বাড়ি ভাড়া মওকুফ করে দিয়ে একই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা আশার কথা।

দেশের সব বাড়িওয়ালা, শিল্প কারখানার মালিক ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের এখন ভাড়াটিয়া, পেশাজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াবার সময়। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ নিলে অর্থনৈতিকভাবে নাজুক অবস্থার মধ্যে পরতে হবে না কাউকে। ফলে করোনা প্রতিরোধ আরও গতিশীল হবে এবং এই বৈশ্বিক মহামারীকে মোকাবেলা করা আরও অনেক সহজ হবে বলে আশা করা যায়।  

তথ্যসুত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন, বাংলা ইনসাইডার, বাংলা নিউজ ২৪। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *