follow us at instagram
Monday, April 06, 2020

করোনায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খেয়ে মৃত্যুও হতে পারে

করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা নিজে নিজে নয়, দ্বারস্থ হোন চিকিৎসকের।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/03/Corona-3-e1585055495300-980x490.jpg
Image Source: ingenieur.de

সারা পৃথিবীজুড়ে আতঙ্কের নতুন নাম নোভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯। Worldometers এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত পৃথিবীর ১৬০টির ও বেশি দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। এই ভাইরাসের ডেথ রেট বা মৃত্যুহার অন্যান্য সাধারণ ফ্লু এর থেকেও তুলনামূলক বেশি। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক বা ভয় ছড়াচ্ছে । এ অবস্থায় কেউ করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে মেডিকেশন বা ঔষধপত্র কি হবে সেটা জানতে সবাই আগ্রহী। কিন্তু এর কোন কার্যকরী প্রতিষেধক বা ঔষধ এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করতে পারেননি। যদিও গবেষণার কাজ থেমে নেই।  

করোনাভাইরাস এমন একটি ভাইরাস যা মানুষের রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়।

করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগীর প্রথমদিকে জ্বর, সর্দি,কাশি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলেও পরবর্তীতে শ্বাসপ্রশ্বাসে তীব্র সমস্যা দেখা দেয় যা দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাক্তির জন্য মরণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। যেহেতু এই উপসর্গগুলো আমাদের পরিচিত সাধারণ রোগবালাই এর মধ্যেই পড়ে তাই অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ সাধারণ উপসর্গ দেখা দিতেই নানা ধরণের পরিচিত ঔষধ খেয়ে নিচ্ছেন কিছু যাচাই না করেই। অনেকে আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা লোকমুখে শুনেও নানা ধরণের ঔষধ গ্রহণ করছেন। এতে করে হিতে বিপরীত এর মতন ঘটনাও ঘটছে। 

সম্প্রতি ডাক্তারের কোন পরামর্শ ছাড়াই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা প্রদেশের ষাটোর্ধ এক দম্পতি করোনার হাত থেকে বাঁচতে ক্লুরোকুইন গ্রহণ করেছিলেন যা তাদের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে এনেছে। ফলাফলস্বরূপ স্বামী ইতিমধ্যেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন এবং স্ত্রীও হাসপাতালে ভর্তি। তবে স্ত্রীর অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন ডাক্তাররা এমনটাই আশা করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এই দম্পতি করোনাভাইরাসের কোন টেস্ট করাননি। শুধুমাত্র ঝিমুনি এবং বমিভাবের মত উপসর্গের কারণে সন্দেহের বশে ইন্টারনেট ঘেঁটে ক্লুরোকুইন সম্পর্কে জানেন এবং এটি গ্রহণ করেন। দ্যা ব্যানার পয়জন এন্ড ড্রাগ ইনফরমেশন সেন্টারের মেডিকেল ডাইরেক্টর ডঃ ড্যানিয়েল ব্রুক্স বলেন, “মানুষের এ ধরণের নিজে নিজে ঔষধ সেবনের অভ্যাস নেহাৎ বোকামি এবং নিঃসন্দেহে বিপদজনক”। 

কিছুদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এক বক্তব্যে দাবি করেন যে ক্লুরোকুইন  এবং হাইড্রোক্সি ক্লুরোকুইন করোনার চিকিৎসায় কার্যকরী। এই ক্লুরোকুইন বাজারে ক্লুরোকুইন ফসফেট নামেও পরিচিত। ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় এর স্বল্পমাত্রার ব্যবহারের পাশাপাশি বানিজ্যিকভাবে একুরিয়াম পরিস্কারের কাজেও এর ব্যাবহার হয়ে থাকে। ঘটনার পর থেকে তার এ ধরণের বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

করোনাভাইরাসের সাথে আমাদের দেহ আগে থেকে পরিচিত নয়, তাই সব ঔষধ সবসময় সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে, এমনকি ডেকে আনতে পারে অনাকাঙ্খিত বিপদও। আমাদের অনেকের মাঝেই একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় যে, আমরা ডাক্তারের কাছে না যেয়ে নিজেরাই নিজেদের রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার কাজটি করি। অনেক সময় আমরা আমাদের পূর্বপরিচিত বা এই রোগের বহুল প্রচলিত ঔষধ গ্রহণ করি। কিন্তু আমরা ভুলেই যাই যে, আমাদের সবার শারীরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং ক্ষমতা একইরকম নয়। সব ঔষধ সবসময় সঠিকভাবে কাজ করবে সেটাও আশা করা ভুল। আর করোনা ভাইরাসের মতন নতুন কোন অবস্থাতে তো নয়ই। তাই নিশ্চিত না হয়ে ঔষধ বা চিকিৎসা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। 

করোনা ভাইরাস আমাদের কাছে প্রায় অপরিচিত একটি ভাইরাস। তাই গুজব কিংবা ভুল তথ্য দ্বারা প্রণোদিত হয়ে কোন পদক্ষেপ নিলে তা থেকে ঝুঁকির সম্ভাবনাই বেশি। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও গরুর মুত্র সেবন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খোদ আমাদের দেশও কিন্তু এসব থেকে পিছিয়ে নেই কোন অংশে। গুজবের বশে থানকুনি পাতাও খেয়েছেন অনেকে, অনেকে আবার না জেনে দ্বারস্থ হচ্ছেন ভুয়া কবিরাজের। আমাদের এইসব অসচেতন কাজের ফলাফল হতে পারে ভয়ানক। তাই গুজব বা ভুল তথ্যে কান দেবেন না, বরং দায়িত্বশীল হোন। করোনার প্রতিকার এখন নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও প্রতিরোধ আপনি করতেই পারেন সচেতন কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে। আর তবুও যদি কোন কারণে বা উপসর্গের ফলে আপনার সন্দেহ তৈরি হয় পরামর্শ নিন স্বীকৃত কোন ডাক্তারের। তথ্যের জন্য দ্বারস্থ হোন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মত নির্ভরযোগ্য সূত্রের। আমাদের সবার সচেতনতা আর সম্মিলিত প্রচেষ্টা না থাকলে কখনোই এই মহামারীর মোকাবেলা সম্ভব নয়। 

তথ্যসুত্রঃ নিউইয়র্ক টাইমস, ডেইলি স্টার।  

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *