follow us at instagram
Monday, April 06, 2020

ছোট থেকে বড় পরিবারের সবার সহায়তায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ

পরিবার, সমাজ একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2019/12/1080x720-blank-gp.jpg
নিজে বাঁচুন, অন্যকে বাঁচতে দিন’ – এ কথাটাকে সবার আত্মস্থ করতে হবে এখন। সারা বিশ্ব করোনা ভাইরাস নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতি মুহুর্তের খবর জানতে উদগ্রীব সবাই। চীনের উহান শহরে থেকে  ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস এখন আমাদের দেশে। আতংকিত মানুষ। উন্নত বিশ্ব এর প্রতিরোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে আমাদের প্রস্তুতি আশানুরূপ হবার কথা নয়। রাজনৈতিকভাবে  যাই বলুক বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র। করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংকিত হবেন না এটা বলা অযৌক্তিক। তবে আতংকিত হবার সাথে সাথে সচেতনতা সবার আগে জরুরি।
দুঃখজনক হল বাংলাদেশের মানুষ কোন আইন বা নিষেধ মানতে জানে না। এখন পযর্ন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির  সংখ্যা কম। কিন্তু  সচেতন না হলে এ সংখ্যা যে বাড়বে তা ইতালির থেকে ধারণা করা যায়। কম বেশি সকলের জানা হয়ে গেছে কি ধরনের  সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ছাড়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের বিকল্প কোন ব্যবস্থা আপাতত নাই প্রাথমিকভাবে। আর এ পরিস্কার থাকার কাজটা করতে হবে পরিবার থেকে।
পরিবারের সকল সদস্যকে সচেতন হতে হবে নিজেদের বিষয়ে।
কারন একজন সদস্য আক্রান্ত হলে অন্যরাও ঝুঁকিতে থাকবে। ঘর বাথরুম পরিস্কার,কাপড় ধোয়া,  রাখার বিষয়টি শুধুমাত্র  গৃহকর্মী বা কর্ত্রীর দায়িত্ব নয়। আবার ঘরের বাইরে থেকে এসে হাত ধোয়া, জুতা নিয়ে ঘরে প্রবেশ না করা এ কথাগুলো ভুলে গেলে চলবে না।
নিজেদের সাবধানতা নিজেরা অবলম্বন করলে পরিবার নিরাপদ থাকবে। এ কথাটা বুঝে বাড়িতে কোন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে বিরত থাকতে হবে। ক্ষনিকের আনন্দ সারাজীবনে বিষাদের ছায়া হয়ে থাকার চেয়ে এ মুহুর্তে পরস্পরকে ভালো রাখার চেষ্টা করতে হবে। নিজেরা দাওয়াত পার্টি বন্ধ রাখার সাথে অন্যরা আমন্ত্রণ জানালে বিনয়ের সাথে তা প্রত্যাহার করা উত্তম। এতে করে আপনার থেকে অন্য জন হয়ত শিখবে পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে।
দেখা যায় প্রায় প্রতিটি ঘরে হার্ট ডায়েবেটিকস, উচ্চরক্তচাপ, এজমা রোগী   বা বয়স্ক ব্যক্তি থাকে। করোনা ভাইরাস এদের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক।  এ ভাইরাসকে প্রতিরোধ  করার ক্ষমতা এসব রোগী আর বয়স্কদের নাই। আবার ৬০ এর বেশি বয়স্ক ব্যক্তিরাই এ ভাইরাসে  বেশির ভাগ মারা গিয়েছে বিভিন্ন দেশে।  যদি ঘরে এজমা বা শ্বাস কস্টের কেউ থাকে তার দিকে বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। পরিস্কার থাকার সাথে  ঘরের সবাই এসময় হালকা গরম পানি খাওয়া উচিত। ঠান্ডা জাতীয় খাবার পানি এড়িয়ে যেতে হবে।   ঋতু পরিবর্তনের এ সময় সাধারণত সর্দি জ্বর ঠান্ডা কাশি হয়ে থাকে। বিশেষ করে বাচ্চাদের বেশ ভোগান্তি হয় এসব অসুখে। সাধারণ অসুখ মনে করে  ফ্লুকে অবহেলা করা যাবে না।  যতটা সম্ভব এ ধরনের অসুস্থতায় আলাদা থাকার চেষ্টা করতে হবে। এটাও সত্য যে, সব পরিবারে একদম আলাদা থাকার ব্যবস্থা নাই। কিন্তু অসুস্থতা বুঝে সাময়িক ভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে।
বাচ্চার স্কুল নাই এসুযোগে ঘুরে আসার চিন্তাটা অভিভাবকদেরই বেশি বলে সরকার বাধ্য হয় নিয়ম করে পর্যটন স্থানে ভ্রমন বন্ধ করতে।
প্রয়োজনকে অস্বীকার করার উপায় নাই। তাই কাজের বাইরে বাড়তি কিছু করা আপাতত বন্ধ থাকাটা পরিবার থেকে সিদ্ধান্ত হলে এমনিতেই ঘরের বাইরে লোকজনের চলাচল কমবে। অনেকই জেনে বা না জেনে বলছে এ দেশে কিছু হবে না। এসব বড়লোকদের অসুখ। কিন্তু এমন ভ্রম ধারণা থেকে লোকজন  ঘরে বাইরে অসচেতন  ভাবেই স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করছে। এটা পরিবারের যে বুঝতে চায় তাকে বুঝাতে হবে। কারন তার অসাবধানের কারনে যে কোন দূর্ঘটনা পরিবারে ঘটতে পারে।
যে  মৃত্যু  যখন অন্যের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখন তা অনেক বেশি বেদনার  হয়। প্রবাসে থাকা আপনজন ঘরে ফিরে আসা আনন্দের। তবে যে সময় সে আসছে তা একটু বিবেচনা করতে হবে  মানবিক দৃষ্টি দিয়ে। তার আর পরিবারের অন্যদের ভালোর জন্য ১৪টা দিন হোম কোয়েন্টারাইন করতে সহযোগিতা করলে বিপদমুক্ত হবে সবাই। আবেগ দিয়ে বাস্তবতাকে বিচার করার সময় নয় এটা।
বাংলাদেশের সক্ষমতা নেই কানাডার মত। সারাদেশ লক ডাউন হলে কাজের অভাবে মারা যাবে মানুষ।এখন যারা দীর্ঘ সময়ের জন্য খাবার মজুদ করছেন, তারা ভাবুন না বুঝে কি করছেন আপনারা। নিজের পরিবারকে খাবার  দিতে গিয়ে হত দরিদ্র মানুষদের অসহায় করে তুলছেন।  অসাধু ব্যবসায়ীরা সময়ের সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াচ্ছে জিনিশের। কিছু খাবার মজুদ রাখার আর ৪/৫ মাসের বাজার করা এক নয়। আসলে করোনা ভাইরাস নিয়ে  ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তার ভয়াবহতা  অর্থনৈতিক ধসকে  ছড়িয়ে যেতে সুযোগ করছে। কারন এর মাধ্যমে অসৎ ব্যক্তিরা ফায়দা নিতে শুরু করেছে ইতমধ্য।
সুতরাং করোনা ভাইরাসে আতংকিত হয়ে মনোবল হারানো বা প্রকৃতির হাতে সব ছেড়ে খুশিমত চলা যাবে না। সব দায় দায়িত্ব সরকারের এমন ভাবনাটা বুমেরাং হবে যদি  পরিবার থেকে সচেতনা ও সাবধানতা না আসে। পরিবার, সমাজ একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হবে রাষ্ট্রের এটা মনে রাখতে হবে ঘরের সব সদস্যকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *