follow us at instagram
Wednesday, September 23, 2020

সাবান-ডিটারজেন্ট দিয়ে না, পানিতেই সবজি ও ফলমূল পরিষ্কার হবে

বাজার থেকে কিনে আনা সবজি ও ফল পরিস্কার করুন সঠিক উপায়ে।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/04/Every-day-tips-for-washing-vegetables-and-fruit-resized.jpg
Image Source: unlockfood.ca
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর বহু দেশে। সম্পূর্ণ বা আংশিক লকডাউনে রয়েছে অনেক দেশ।আমাদের দেশও হয়েছে আংশিক লক ডাউন।কিন্তু খাবার তো খেতে হবেই। পরবর্তীতে খাবার কতটা পাওয়া যাবে এবং নিজেদের ইমিউনিটি বাড়াতে আমরা প্রচুর সবজি, ফল (Fruit And Vegetable) কিনে আনছি। কিন্তু কিনে আনার পর সেসব খাবার কি  সঠিক ভাবে পরিষ্কার করে নিচ্ছি? হয়তো হচ্ছে হয়তো হচ্ছে না। করোনা ভাইরাস যদিও এখন পর্যন্ত খাবারে থাবা বসায়নি। তবু কিছু সতর্কতা পালন করা জরুরি ।তাই বাজার থেকে কিনে আনা সবজি ও ফল পরিস্কার করার কিছু সঠিক উপায় আজ আলোচনা করবো।
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সঠিক নিয়মে ফল ও সবজিসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য কেনা, কাটা, ধোয়া ও সংরক্ষণ করা জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে কিভাবে পরিবারের সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা সম্ভব, এর কিছু উপায় নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের প্রধান পুষ্টিবিদ ও বিভাগীয় প্রধান শামসুন্নাহার নাহিদ মহুয়া।
★বাজার থেকে ফিরেই নিজের হাত ২০সেকেন্ডের জন্য ভালভাবে ধুয়ে পরিস্কার করে নিন।তারপর সবজি ও ফল বের করে ধোয়া শুরু করুন।
★চলমান পানির নিচে নিয়ে শাক সবজি ও ফল ধুয়ে নিন।এভাবে কলের পানির নিচে ফেলে শাক সবজি ও ফলমূল ধুয়ে নেয়ার সুপারিশ করে এফডিএ।এতে করে জীবাণু সংক্রমণের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
★কিছু সবজি রয়েছে যেসব একটু রগড়ে ধুয়ে নিতে হয় যেমনঃআলু,গাজর এসব ধোয়ার জন্য ব্রাশ বা স্পঞ্জ ব্যবহার করা যেতে পারে।এই পদ্ধতি এফডিএ অনুমোদিত।
★আঙুর জাতীয় ফল বা সবজি পরিষ্কারের সময় বাড়তি যত্ন নিতে হয়। সেজন্য এসব ফল বা সবজি একটি বাস্কেটে রেখে কলের নিচে রেখে ধুয়ে নিতে হবে।অন্যদিকে লেটুস এবং পাতাযুক্ত শাকগুলি এক বাটি ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এফডিএ পরামর্শ অনুযায়ী বাড়তি পাতা সরিয়ে কাগজের তোয়ালে দিয়ে মুছে রাখলে অনেক সময় পর্যন্ত ভালো থাকে।লেটুস বা তরমুজের টুকরো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ফ্রিজে রাখলে ভালো থাকে।টমেটো ধুয়ে মুছে রাখলে ভালো থাকবে বেশি সময়।
★লবন অথবা ভিনেগার পানিতে দিয়ে সব সবজি বা ফলমূলই ধুয়ে নিতে পারেন তবে সেটা ১০মিনিটের বেশি রাখার প্রয়োজন নেই।তারপর সাধারণ কলের পানিতে ধুয়ে নিলেই পরিস্কার হয়ে যাবে শাক সবজি বা ফলমূল।
★হালকা কুসুম গরম পানিতে একবার শাক সবজি বা ফলমূল ডুবিয়ে তুলে নিয়ে কলের পানিতে ধুয়ে নিলেই এসব খাদ্য উপাদান পুরোপুরি পরিস্কার হয়ে যাবে।সেক্ষেত্রে কাজটা খুব দ্রুততার সাথে করে নিতে হবে কারণ বেশি সময় গরম পানিতে রেখে দিলে এসব খাদ্যের পুষ্টি উপাদান নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকবে।
★ফল ও শাক-সবজি কেনার সময় নষ্ট, পচা, আধা পচা বা খারাপ ফল, সবজি ও শাক বাদ দিয়ে কিনতে হবে।বাঁধাকপি ও মোচার মতো যেসব ফল-সবজি কয়েকটি লেয়ারের, সেগুলোর বাইরের অংশ ফেলে দিতে হবে।
এসব তো গেলো কোন কোন পদ্ধতি মেনে শাক সবজি ও ফলমূল পরিস্কার করতে হবে। এখন জেনে নেয়া যাক কোন কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
*করোনা ভাইরাসের ভয়ে অনেকেই বাজার থেকে কিনে আনা শাক সবজি বা ফলমূলের উপর ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি ছিটাচ্ছেন বা ডুবিয়ে রাখছেন।যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর।
*অনেকেই কাঁচা খাবার অর্থাৎ শাক সবজি অতি তাপমাত্রায় রান্না করছেন।এতে খাবারের পুষ্টিগুণ অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়।অথচ করোনা ভাইরাস এখনও পর্যন্ত খাবার বাহিত কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।তাই স্বাভাবিক তাপমাত্রায়  খাবার রান্না করে খাওয়া উচিৎ।
*সাবান বা ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানি কোনোভাবেই শাক সবজি বা ফলমূল ধোয়ার জন্য ব্যবহার করা উচিৎ নয়।শুধু মাত্র পরিস্কার পানি ব্যবহার করতে হবে এসব ধোয়ার জন্য।কোথাও কোনো পঁচা বা দাগ ধরা অংশ থাকলে সেটি কেটে ফেলে দেয়া উচিৎ।
*ডব্লিউএইচও এর নির্দেশনা হচ্ছে ফ্রিজে কাঁচা খাবারের সাথে রান্না করা খাবার একসাথে কখনোই রাখা উচিৎ নয়। বিশেষ করে কাঁচা মাংস এবং তাজা শাক সবজি ও ফলমূল।
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
একজন মানুষকে প্রতিদিন ৪০০গ্রাম শাক সবজি ও ফলমূল খাওয়া উচিৎ। তাই শাক সবজি ও ফলমূল খাওয়া বাদ দেয়া যাবে না। মানতে হবে এসব নিয়ম সমূহ। এছাড়াও এসব সব খাবারই বাজার থেকে এনে নিজে ২০সেকেন্ড সময় নিয়ে হাত ধুতে হবে এবং এসব খাবার পরিস্কার করার পরও আবার ২০সেকেন্ড সময় নিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। এছাড়াও মেনে চলুন ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা। আমাদের একটু সচেতনতাই পারে আমাদের সাহায্য করতেএই সময় কাটিয়ে উঠতে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন,ঘরে থাকুন ও সুস্থ থাকুন।
তথ্যসূত্রঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি বাংলা, ইউএনবি, যুগান্তর (অনলাইন সংস্করণ) 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *