follow us at instagram
Tuesday, September 22, 2020

দেহ ও মনকে স্থির ও সুস্থ রাখতে শুরু করুন ইয়োগা

যোগব্যায়াম হলো শরীর ও মনের ব্যায়াম। এটি শরীর ও মন উভয়েরই উপকার করে।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/04/mother_daughter_yoga_home.jpg
Image Source: heart.org
করোনা যার সাথে সাথে আমাদের জীবণে আরও কিছু নতুন শব্দ হোম কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন, লকডাউন। লকডাউন নামক চাপানো ছুটিতে আর করোনার ভয়াবহতায় আমরা অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছি। সময় থেকে পালিয়ে থাকা যায় না মেনে নিচ্ছি, কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে চলাটাই মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ। তাই এ সময়টা কাজে লাগানোর জন্য যোগব্যায়াম বা ইয়োগা একটি ভাল মাধ্যম হতে পারে।
প্রথমেই জেনে নেয়া যাক যোগব্যায়াম আসলে কি? যোগব্যায়াম হলো শরীর ও মনের ব্যায়াম। এ ব্যায়াম শরীর ও মন উভয়েরই উপকার করে। বিশেষজ্ঞরা মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম চর্চার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ ব্যায়াম শরীরকে নমনীয় করে তোলে ফলে শরীর  যেকোনো কাজ সম্পাদনের জন্য প্রস্তুত করতে পারে। এছাড়া যোগব্যায়ামের অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক উপকারিতাও রয়েছে।
যোগব্যায়ামের জন্য সবচেয়ে ভাল সময় হলো সকাল। তবে সময় মেলাতে না পারলে সন্ধ্যায় করা যেতে পারে।
এবার আসুন জেনে নেই বাসায় বসে অনায়াসে করতে পারবেন এমন কয়েকটি যোগব্যায়াম সম্পর্কে-
১.যোগব্যায়াম বলতেই অনেকের মনে একটি আসনকেই বোঝেন তা হলো পদ্মাসন। পদ্মাসন করার সময় একটি পা অন্যটির উপর এমনভাবে থাকে দেখে অনেকটা পদ্ম ফুলের মত লাগে। এটা মনকে শান্ত করে। বলা হয় নিয়মিত এই যোগব্যায়াম করার ফলে আপনি পদ্ম ফুলের মত ফুটে উঠবেন। এই ব্যায়াম করলে বাতের ব্যথা দূর হয়। তবে  যদি পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা থাকে, তবে এই যোগব্যায়াম করার আগে সতর্ক থাকতে হবে।
২.ধনুকের মত বাঁকা হয়ে এই যোগব্যায়ামটি করতে হয় বিধায় একে ধনুরাসন বলা হয়ে থাকে। এটি সম্পূর্ণ শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে,ত্বককে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ যাদের রয়েছে তারা এই ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকবেন। এছাড়াও গর্ভবতী বা কোনো অপারেশন করা থাকলে এই যোগব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩.গভীরভাবে শ্বাস গ্রহণ করে তারপর নাক দিয়ে আস্তে আস্তে শ্বাস ছাড়তে হবে। নিঃশ্বাস পেটের ভেতর থেকে ত্যাগ না করে নাক দিয়ে ছাড়তে হবে। এই যোগব্যায়াম প্রাণায়াম নামে পরিচিত। এই একটি যোগব্যায়াম স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি ত্বককেও সুস্থ রাখে।
৪.পা দুট পিছনের দিকে মুড়ে গোড়ালি দুটো কিছুটা ফাঁক রেখে তার উপর বসে মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাত দুটি দুই উরুর উপর সোজা ভাবে রাখতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে।বদহজম, কোষ্টকাঠিন্য ইত্যাদি পেটের রোগ ভাল হয়। নিয়মিত আভ্যাস করলে বিভিন্ন ধরনের বাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
৫.প্রতিটি ইয়োগা শেষে যে যোগব্যায়াম করা হয় তাকে শবাসন বলে। পা দুটো সোজা রেখে দেহ শিথিল করে শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে চিত হয়ে শুয়ে এই আসন করতে হয়। এটি শরীরের কোষ এবং টিস্যুকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। যা  ত্বককে উজ্জ্বল প্রাণবন্ত করে তোলে।
এছাড়াও আরও কিছু যোগব্যায়াম রয়েছে যেমন ভুজাঙ্গাসন, দন্ডাসন,সুখাসন, তাড়াসন, ত্রিকোনাসণ ইত্যাদি।
যোগব্যায়াম যেহেতু একটি মনোদৈহিক প্রক্রিয়া তাই এতে শুধু যে শরীর সুস্থ থাকে তা কিন্তু নয়। এই ব্যায়াম করার মাধ্যমে শরীরের পাশাপাশি মনের স্বাস্থ্যও ভাল থাকে। যেহেতু আমরা এখন একটি অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তাই যোগব্যায়াম করলে আমরা যেসব উপকার পাবো তা হলোঃ
*আমাদের মন শান্ত হবে, আমরা যে কোনো কাজ একাগ্রচিত্তে করতে পারবো।
*বাসায় শুয়ে বসে থেকে যেহেতু আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকছে না তাই এই ব্যায়াম আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
*সমসাময়িক অবস্থায় আমরা যেহেতু অনেক বেশি মানসিকভাবে অস্থিরতায় ভুগছি এতে আমাদের ঘুমের সমস্যা হয়। যোগব্যায়াম আমাদের প্রশান্তির ঘুম হতে সহায়তা করবে।
*এই ব্যায়াম আমাদের শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনবে। চলাফেরা করে এক ধরনের স্বস্তি অনুভব করা যাবে।
*কাজে আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। এই ব্যায়াম নিয়মিত করলে কাজ করার প্রতি এক ধরনের স্পৃহা তৈরি হবে।
*এই ব্যায়ামের মাধ্যমে যে কোনো কাজে আগের চেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
*বাসায় থাকার ফলে অনেকেরই নড়াচড়া কম করা হয়। এতে হজম প্রক্রিয়ায় অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যোগব্যায়াম শরীরের হজম শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে।
*এই ব্যায়াম করার ফলে শরীরের ভেতরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সাথে সাথে চুল ও ত্বকও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে উঠে।
*বাতের ব্যথাসহ শরীরের বিভিন্ন ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে যোগব্যায়াম।
*নিয়মিত যোগব্যায়াম আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যোগব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে টিস্যু এবং পেশিকে শক্তি দেয়। শ্বেতকণিকাগুলোকে আরও উজ্জীবিত করে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
সতর্কতাঃ
যে কোনো ব্যায়াম শরীরের জন্য উপকারী হলেও সবসময়ই কোনো ট্রেনার বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়াম করা ভাল। যোগব্যায়াম করতে গেলে প্রথমেই ভাল ফলাফল আশা করা যাবে না। প্রথমে কিছুদিন শরীর ব্যথা সহ বিভিন্ন ধরণের উপসর্গ দেখা দিতে পারে তবে নিয়মিত অনুশীলন করলে সুফল পাওয়া যাবে। এছাড়াও গর্ভবতী বা অন্য কোনো রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ যাদের আছে তাদের জন্য যোগব্যায়াম করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
এখন আমদের হাতে রয়েছে অফুরন্ত সময়। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে একবার যোগব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুললে এখন যেমন শরীর ও মন স্থির রাখতে সহায়তা করবে ঠিক তেমনি ভবিষ্যতেও কাজের একাগ্রতা, শারীরিক স্বস্তি, মানসিক প্রশান্তি,সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে সহায়তা করবে। তাই এ সময়ে যোগব্যায়াম করুন নিজেকে সুস্থ ও সুন্দর রাখুন দীর্ঘদিন।
তথ্যসূত্রঃ হেলথলাইন ডটকম, আনন্দবাজার পত্রিকা(অনলাইন সংস্করণ),দৈনিক প্রথম আলো,বিবিসি বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *