follow us at instagram
Wednesday, September 23, 2020

লকডাউনে ফিরে আসুক বই পড়ার অভ্যাস, দেখে নিন তালিকা

সৃজনশীলতা বিকাশে বই পড়াকে বলা যায় সব অভ্যাসের জননী হিসেবে।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2019/12/Capture.PNG-ddd.png

করোনা ভাইরাসের এই মহামারির সময় নিজেকে মানসিক শারীরিকভাবে সুস্থ রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বিশ্বের শত কোটি মানুষ এখন লকডাউনের আওতায় আছে ঘরে নিজের বা পরিবারের সাথে সময় কাটাচ্ছেন কিন্তু অখণ্ড এই অবসরে অনেকেই বিরক্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন, সেই সাথে আতঙ্কতো রয়েছেই

যদিও তথ্য প্রযুক্তির এই অবাধ প্রবাহের যুগে বিনোদন মাধ্যমের অভাব মানুষের আর নেই কিন্তু বই পড়ার যে চিরন্তন আবেদন বিনোদন আনন্দের উৎস হিসেবে, তা অপরিসীম এছাড়া শরীর মন ভাল রাখতে মনোবিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বই পড়ার অসাধারণ উপকারের বিষয়টি প্রমাণিত বহু আগে থেকেই ভিডিও গেম, সামাজিক যোগাযোগে সময় কাটানো বা কোন ভিডিও দেখার চেয়ে বই পড়লে মস্তিষ্কের বিকাশ বেশি ঘটে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা তাঁদের বক্তব্য হচ্ছে, বই তা কাল্পনিক (গল্পকবিতাউপন্যাস) বা প্রবন্ধ (গবেষণা বা সাধারণ) যা হোক না কেন, পড়ার মাধ্যমে মস্তিষ্ক শব্দ, অক্ষর ভাষার অন্যান্য উপকরণের মাধ্যমে ইমেজ তৈরি করে, বিশ্লেষণ করে এবং তথ্য গ্রহণ করে কিন্তু ভিডিও দেখলে মস্তিষ্ককে এত পরিশ্রমটা করতে হয়না, সে শুধু তথ্য গ্রহণ করে এবং সেই তথ্যকে সন্নিবেশ করে একারণে সৃজনশীলতা বিকাশে বই পড়াকে বলা যায় সব অভ্যাসের জননী হিসেবে বই পড়লে এই জটিল পরিস্থিতিতে যেসব উপকার হতে পারে তা হল

পরিবারের সদস্যদের সাথে ঝগড়াঝাঁটি এড়ানোমানসিক অস্থিরতা কমে যাওয়া, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে অন্যান্য অসুখের তীব্রতা কমে যাওয়া, অন্যদের বা পরিস্থিতিকে বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে যেকোনো সমস্যা সমাধান করতে পারা, মনোযোগ বৃদ্ধি, আচরণের উন্নতির ফলে সম্পর্ক ভাল রাখা সহজ হয় এবং নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে 

গত দশকেও যে হারে মানুষ বই পড়তো, এখন আর সেই হারে পড়ছেনা, বই পড়ার অভ্যাস হারিয়ে ফেলছে মানুষ।

এবং এটা বিশ্বজুড়েই ঘটছে তবে বই পড়াকে উসকে দিতেও শুরু হয়েছে নানা দেশে নানা কার্যক্রম  পৃথিবীতে যারা বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে সবচেয়ে উন্নত সভ্য এখন , তারাই সবচেয়ে পড়ুয়া ছিল, তাতে কোন সন্দেহ নেই যেমন ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, গ্রীস, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, কোরিয়া, রাশিয়া, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি এমনকি ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলের লোকদের মধ্যেও বই পড়া জ্ঞান চর্চার দীর্ঘ অভ্যাস রয়েছে সেই প্রাচীন কাল থেকেই 

যাহোক, আমাদের দেশে যেটা হয়, কাউকে কি বই পড়ছো, জানতে চাইলে প্রায় সবাইই বলে যে বই পড়ার সময় নেই হয়তো শিক্ষা জীবনে সিলেবাসের বাইরের বই পড়ার অভ্যাস ছিল, কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশ করার পর তা হারিয়ে গেছে কিন্তু এই লক ডাউন আমাদের জীবনে অনেক উপলব্ধির জন্ম দিয়েছে প্রকৃতিকে ভালবাসা, বিলাস ব্যাসনহীনহীন সাধারণ জীবন যাপনের পাশাপাশি বই পড়ার সুঅভ্যাস গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আমরা বুঝতে পারছিবই পড়ার অভ্যাস তৈরির সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে এই অবসরে এসব কিছু বিবেচনায় এনে এই অবসরে কি কি বই পড়া যায় তাঁর একটি সুচিন্তিত তালিকা আমরা করার চেষ্টা করেছি যা পাঠকের জন্য সর্বাঙ্গীনভাবে উপকারী হবে শিশু কিশোরদের জন্য বইয়ের একটি তালিকা এবং বড়দের জন্য আলাদা কয়েকটি বই আমরা নির্বাচন করেছি।

শিশুকিশোরদের জন্য বই:

সুকুমার সমগ্র (আবোল তাবোল, হজবরলসহ),সুকুমার রায় 

জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস সমগ্র, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল 

ডাইরি অফ আনা ফ্রাংক (অনুবাদ কিংবা ইংরেজি) –আনা ফ্রাংক 

সুকান্ত সমগ্র সুকান্ত ভট্টাচার্য 

সাগর তলের জগতআব্দুল্লাহ আল মুতি 

ছোট রাজপুত্র (অনুবাদ) – আনন্দময়ী মজুমদার 

শঙ্কু সমগ্রসত্যজিৎ রায়  

অংক ভাইয়াচমক হাসান 

উভচর মানবআলেক্সান্দার বেলায়েভ 

১০ পৃথিবীর ইতিহাসজহরলাল নেহেরু

বড়দের জন্য বইয়ের তালিকা:

মানুষের ধর্মরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভোলগা থেকে গঙ্গারাহুল সংকীর্তায়ন

কাজী নজরুল ইসলাম রচনা সমগ্র 

পার্থিবশীর্ষেন্দু চট্টোপাধ্যায়

সেই সময়সুনীল গংগোপধ্যায়

প্রথম আলোসুনীল গংগোপধ্যায়

পূর্ব পশ্চিমসুনীল গংগোপধ্যায়

সাতকাহনসমরেশ মজুমদার

কালবেলাসমরেশ মজুমদার

১০ হিমু ও মিসির আলী সমগ্র – হুমায়ুন আহমেদ

১১ যাযাবর অমনিবাসযাযাবর

১২ ফেলুদাসত্যজিৎ রায়

১৩ ক্রাচের কর্নেল -শাহাদুজ্জামান

১৪ বাঙ্গালি মুসলমানের মনআহমদ ছফা

১৫ শরত রচনাবলী – শরত চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১৬। জীবনানন্দসমগ্র – জীবনানন্দ দাস

১৭। অসমাপ্ত আত্মজীবনী- শেখ মুজীবুর রহমান

১৮। গেড়িলা থেকে সম্মুখ সমরে – মাহবুব আলম

১৯। বেগম রোকেয়া রচনাবলী – বেগম রোকেয়া

২০। জোসনা ও জননীর গল্প – হুমায়ুন আহমেদ

এছাড়া লকডাউনের সময় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মাধ্যমে বুকার বিজয়ী লেখক মার্গারেট অ্যাটউড পরামর্শ দিয়েছেন কিছু বই পড়ার। সেগুলোও একটু দেখে নেয়া যায়। 

১। অরিক্স অ্যান্ড কেক (Oryx and Cake) – মার্গারেট অ্যাটউডের এ বইটি মনুষ্য সৃষ্ট একটি ভাইরাস নিয়ে লেখা যা সমাজকে নষ্ট করছিল।

২। মার্পেল (Marple) ও হারকিউল পইরট (Hercule Poirot):  আগাথা ক্রিস্টি’র লেখা এই অপরাধকেন্দ্রীক এই লেখা অবাক করবে পাঠককে।

৩। দ্যা এজ অফ ইনোসেন্স (The Age of Innocense): এডিথ ওয়ার্টসনের লেখা এটি সারা জাগানো বিয়োগান্তক প্রেমের উপন্যাস।

৪। হার্ক! অ্যা ভ্যাগরান্ট (Hark! A Vagrant) হাস্যরসাত্মক ঐতিহাসিক এই উপন্যাসটি কেট বিটনের লেখা।

৫। গান্স, জার্মস আন্ড স্টিল (Guns, Germs and Steel ) জারড ডায়মন্ডের লেখা এই বইটির সাথে কাটানো যাবে অসাধারণ সময়। 

এছাড়া, আরও কিছু অসাধারণ বই যেগুলো সাধারণ সময়ে হয়তো পড়া হত না, এই অবসরে পড়া সম্ভব সেগুলো হতে পারেঃ 

১। ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট (Crime and Punishment)-লিও তলস্তয়

২। মেটামরফোসিস (Metamorphosis)- কাফকা

৩। কাফকা অন দ্যা শোর (Kafka on the Shore)- হারুকি মুকারামি

৪। ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিটিউড (One Hundred Years of Solitude) – গ্রাবিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ

৫। লাভ ইন দ্যা টাইম অফ কলেরা (Love in the Time of Cholera )– গ্রাবিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ

৬। গড অফ স্মল থিংস (God of Small Things) – অরুন্ধতি রায়

৭। উইংস অফ ফায়ার (Wings of Fire) – এ পি জে আবুল কালাম আজাদ

৮। ওরল্যান্দোঃ অ্যা বায়োগ্রাফি (Orlando: A Biography) – ভার্জিনিয়া উলফ

৯। অ্যা রুম অফ ওয়ান’স অউন (A room of One’s Own) – ভার্জিনিয়া উলফ

১০। মিরাকল মর্নিং (Miracle Morning) – হাল এলরড

বইকে বলা হয় মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, আর বই পড়াকে বলা হয় শ্রেষ্ঠ অভ্যাস। বই পড়া্র অভ্যাস তৈরি সময় পাওয়া না পাওয়ার উপর নির্ভর করেনা। আমরা এমনিতেই প্রচুর সময় নষ্ট করি অযথা সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজ করে, ট্রাফিক জ্যামে, টিভি দেখে, অযথা আড্ডাবাজী করে। হ্যা, এসবেরও দরকার আছে, কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সময় দিয়ে ফেলি এসবের পেছনে। সেটা না করে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে পারলে ফলদায়ক একটা কাজ হয়। ঘরে অনেক সদস্যদের মাঝে অন্তত একজন মানুষেরও যদি বই পড়ার অভ্যাস থাকে ঐঘরের শিশুর অস্থির হবার সম্ভাবনা কমে যাবে, শিশুটি সৃজনশীল হবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে এবং মাদকাসক্ত হবার সম্ভাবনা থাকবেনা বললেই চলে।

এখন ভেবে দেখুন, বদ অভ্যাসগুলো ঝেড়ে ফেলে বই পড়ার পেছনে সামান্য কিছু সময় প্রতিদিন ব্যয় করলে কত লাভ। আমাদের তালিকায় যে বইগুলো নির্বাচন করা হয়েছে প্রতিটিই কালজয়ী। যারা অনেক পড়ুয়া তাঁদের হয়তো অনেক আগেই এসব বই পড়া হয়ে গেছে, যাদের বই পড়ার অভ্যাস একেবারে নেই বা খুব কম, তাঁদের কথা ভেবেই মূলত তালিকাটি করা। বইয়ের সাথে সহজ ও সহনশীল হোক এই কঠিন সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *