follow us at instagram
Tuesday, August 11, 2020

প্রকৃতির বার্তা কি আমরা শুনতে পাচ্ছি?

মহামারীর কোন ইতিবাচক দিক কি লক্ষ্য করেছেন? শুনেছেন কি বলছে প্রকৃতি ?
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2019/09/jol-1.jpg

 

তিনি তো তোমাদের একার ঈশ্বর নন।

তিনি হয়তো ডলফিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন-

তিনি হয়তো সাগরের মোনাজাত কবুল করেছেন-

তিনি হয়তো বনের প্রার্থনা মন দিয়ে শুনেছেন-

তিনি হয়তো পাহাড়ের দাবিগুলো যৌক্তিক ভেবেছেন-

তারাও হয়তো টিকে থাকার জন্য দুহাত বাড়িয়েছিল!

হয়তো তারাও বাঁচতে চেয়ে কেঁদেছিল রাতের পর রাত-

নইলে আজ আকাশ কেন হবে এত নীল!

নইলে পাখিরা কেন আজ মুখরিত হবে দুরন্ত কোলাহলে

তিনি তো তোমাদের একার ঈশ্বর নন, 

আর পৃথিবীও নয় তোমাদের একার। 

-মিনার বসুনিয়া

কবির এই অসাধারণ কবিতায় যে বার্তা আছে, তা কি আমরা অনুভব করতে পারি?  এই যে প্রতিবছর অ্যামাজনের গহীন বনে আগুন জ্বলে, মাইলের পর মেইল বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যায়, বনের প্রাণীরা অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যায় কিংবা হারিয়ে যায়, এই যে আমাদের কোটি কোটি অতিরিক্ত মানুষের জন্য এত বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প যার জন্য বনাঞ্চল সাফ করতে হচ্ছে, পাহাড় কাটতে হচ্ছে, নদীর উপর বাধ দিতে হচ্ছে, সেতু বানাতে গিয়ে নদীর ভূমি আর গতির দফা রফা হচ্ছে, নদীগুলো মরে যাচ্ছে, নদীর পানিতে বেড়ে ওঠা প্রাণ প্রকৃতি মরে যাচ্ছে আর কিছু মানুষের সম্পদ ফুলে ফেঁপে উঠছে। মানুষের বেপরোয়া ও অপ্রয়োজনীয় সম্পদ মজুদের বিরুদ্ধে মানুষ জাগেনি, কিন্তু প্রকৃতি ঠিকই নিজেকে রক্ষার জন্য জেগে উঠেছে। 

পৃথিবী জুড়ে রীতিমত প্রকৃতি বনাম মানুষের যুদ্ধ চলছে । বিজ্ঞানীরা অবশেষে অনুসন্ধান শেষে একমত হয়েছেন যে, করোনা ভাইরাস গবেষণাগারে মানুষের সৃষ্টি নয়, প্রকৃতি থেকেই এসেছে। উহানের একটি বন্য প্রাণীর বাজার থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে। সেখানে বাদুর, প্যাংগোলিনসহ নানা জাতের বিলুপ্ত প্রায় ও বিরল প্রজাতির পশু পাখি শিকার করে কেটে বিক্রি করা হত।  

মানুষ প্রকৃতির সন্তান। প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা মানুষ যখন প্রকৃতিকে জয় করতে শিখল, তখনই সভ্যতার বিকাশ শুরু হল। কিন্তু সেই বিকাশই একসময় কাল হয়ে দাঁড়ালো, মানুষের নিজের জন্য, পৃথিবীর জন্যও। অপরিকল্পিত নগরায়ন, মাত্রাতিরিক্ত শিল্পায়নের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা গেল বেড়ে। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হল পৃথিবীর নানা অঞ্চল। পশু পাখির খাদ্য শৃঙ্খলে দেখা দিল চরম ভারসাম্যহীনতা। অকাতরে পশু পাখির নানা প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে শুধু মানুষের সীমাহীন লোভ আর অদূরদর্শিতার কারণে। স্বাভাবিকভাবেই প্রকৃতি যেভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে মানুষের মাধ্যমে, তাঁর ভয়াবহ প্রভাব আবার ফিরে আসবে মানুষের উপরেই এবং প্রতিনিয়ত এমন চলতে থাকলে, সবসময় ফিরে আসবে। মূলত এই বার্তাই কিন্তু আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে পাচ্ছি। 

অতএব প্রকৃতিকে বিপর্যস্ত করা যাবে না, প্রকৃতির ক্ষতি হয়, এমন কোন কাজ আর করা যাবেনা। এই সচেতনতা শুধু রাষ্ট্রীয়ভাবে নয়, পথিবীর প্রতিটি মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করতে হবে, সচেতন হতে হবে, কার্যকরভাবে দৈনন্দিন জীবন ও জাতীয় জীবনে প্রয়োগ করতে হবে।

মানুষের চিরকালীন অভ্যাস বদলাতে হবে

তারা আরও একটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন আর তা হল, মানুষের ক্ষতিকর পরিবেশ বিধ্বংসী অভ্যাসই যেকোনো মহামারী ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী আধুনিক বিশ্বে। কেননা মানুষ বন্য প্রাণী ও প্রকৃতির খাদ্য শৃঙ্খলের ভারসাম্য নষ্ট করছে। মানুষের এমন আত্ম বিধ্বংসী অভ্যাসগুলোকে তারা ‘আগুন নিয়ে খেলা’র সাথে তুলনা করেছেন।

করোনা ভাইরাস মহামারির লকডাউনের ফলে শিল্প কারখানা আর গাড়ির কালো ধোয়া অর্থাৎ কার্বনসহ ক্ষতিকর নানা রাসায়নিক নিঃসরণ বন্ধ হয়েছে। এর ফলে বায়ু দূষণ, পানি দূষণ কমে গেছে একেবারেই। এমনকি পৃথিবীর বিধ্বস্ত ক্ষতিগ্রস্ত ওজোনস্তরও সেরে উঠেছে। লকডাউনের এক মাসের মাথায় বন্য প্রাণী নিধন বন্ধ হবার ফলে তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে। এমনকি এখবরও মিলেছে যে প্রাণী বিলুপ্তির একেবারে দ্বার প্রান্তে ছিল, তাঁদের প্রজাতিরা বিলুপ্ত না হয়ে আবার বংশ বৃদ্ধি শুরু করেছে। প্রাণ প্রকৃতির খাদ্য শৃঙ্খলে ফিরে আসতে শুর করেছে সুসামঞ্জস্য। শুধু প্রকৃতি আর বন্য প্রাণীই যে ক্ষতি কাটিয়ে উঠছে তা নয়, ক্ষতি কাটিয়ে উঠছে মানুষেরা নিজেরাই। বায়ু দূষণ জনিত সব ধরণের রোগ যেমন অ্যাজমা, কিডনি, হৃদরোগ, ফুসফুসজনিত অসুখ ইত্যাদির হার ৪০% কমে গেছে বিশ্বজুড়ে এই মাত্র একমাসে। 

এখন দেখা যাক, প্রকৃতির বার্তা অনুযায়ী মানুষের কি কি অভ্যাস ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে হবে:

১। রাসায়নিক জ্বালানী ব্যবহারের পরিবর্তে বায়ো গ্যাস ও সৌর জ্বালানী ব্যবহারে মনোযোগী হতে হবে। এখন বিশ্বব্যাপী আমরা পানি বিদ্যুৎ, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উদ্ভূত ও রূপান্তরিত জ্বালানী, প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত জ্বালানীর উপর নির্ভরশীল। এসব জ্বালানী প্রাণ ও প্রকৃতির জন্য বিপজ্জনক তো বটেই, নিঃসরণ করে চলে অবিরত কার্বনসহ নানা রাসায়নিক যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ায় এবং বায়ু দূষণ সহ নানারকম দূষণ ঘটায়। অন্যদিকে সৌরকেন্দ্রিক জ্বালানী ও বায়োজ্বালানী তা করেনা। এধরণের জ্বালানী নিয়ে গবেষণা করে আরও উন্নতি ঘটাতে পারলে এবং এর ব্যবহার বাড়ালে পৃথিবীর চেহারা অনেকটাই বদলে যাবে বলে মনে হয়।  

২। ইঞ্জিন চালিত পরিবহন ব্যবহারের পরিবর্তে পরিবেশ বান্ধব পরিবহন ব্যবহার করা। সাইকেল, স্কেটিং কিংবা বায়ো জ্বালানী চালিত যেকোনো পরিবহন যা কম শব্দ তৈরি করে এবং কোন ধরণের ধোয়া তৈরি করেনা, এমন পরিবহনের ব্যবহার বায়ু দূষণ কমিয়ে দেবে। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণ পরিবহনের ব্যবহারও ট্রাফিক কমাবে, সময় বাঁচাবে। 

৩। আমিষ খাওয়া কমানো। মাছ মাংসের শিল্প কারখানা অনেক সারা দুনিয়া জুড়ে, বিশেষত ইয়োরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া এসব শিল্পের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এসব থেকে নিঃসৃত কার্বন পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ায়। তাছাড়া অত্যধিক মাংস খাওয়ার অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় ও নানা রোগ তৈরি করে। এতে ঔষধ শিল্প প্রভাবিত হয়। যত বেশি ভোগ তত বেশি শিল্পায়ন। যত বেশি শিল্পায়ন তত পরিবেশ ধ্বংস করতে বাধ্য হয় মানুষ। ফইলে সপ্তাহে ১ বা দুইদিনের বেশি মাংস খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা শুধু নিজের জন্য নয়, পৃথিবীর জন্য ভাল।

৪। কৃষি নির্ভর অর্থনীতি তৈরি করা সবচেয়ে ভাল উপায় প্রকৃতির সাথে সহাবস্থানের। এর মানে হল কৃষি কাজ করতে হবে মানুষকে। তবে পৃথিবীর অনেক অনুর্বর দেশের জন্য সেটা সম্ভব নয়। তাঁদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা কেন্দ্রিক অর্থনীতি তৈরি করা সবচেয়ে ভাল উপায় বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

৫। বন্য প্রাণী বেচা কেনা, শিকার এমনকি চিড়িয়াখানায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে জীব জন্তুদের প্রদর্শনী বন্ধ করার সময় এসে গেছে। সারা পৃথিবী ব্যাপী বন্য প্রাণী শিকার ও কেনা বেচা হয় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের। এর ফলে হাজার হাজার প্রজাতির বন্য প্রাণী পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে চিরতরে। ফলে প্রকৃতির খাদ্য শৃঙ্খলে তৈরি হয়েছে বিপর্যয়। বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন এপর্যন্ত পৃথিবীতে যত ধরণের মহামারী হয়েছে তা বন্যপ্রাণীর শরীরে থাকা ভাইরাস ও ব্যক্টেরিয়া থেকে এসেছে। আর মানুষ যখন এসব বন্য প্রাণীর সংস্পর্শে গেছে, এদের খাদ্য শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে, কেবলমাত্র তখনই মহামারী ছড়িয়েছে। আদতে বন্য প্রাণীরা এজন্য দায়ী নয়। ফলে বন্য প্রাণী শিকার ও ধরে বেচা কেনা নিষিদ্ধ তো করতেই হবে, চিড়িয়াখানায়ও বিনোদনের জন্য কোন ধরণের বন্য প্রাণী প্রদর্শন করা বন্ধ করতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চিড়িয়াখানার প্রচলন হয়েছিল মূলত বন্যপ্রাণীদের প্রজাতি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য। কিন্তু আমাদের মত দেশগুলোতে সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। মূলত সীমিত পরিসরে চিড়িয়াখানা চালু রাখা উচিৎ বন্য প্রাণীর প্রজাতি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন ও গবেষণার উদ্দেশ্যে দেখানোর জন্য। এটা বিনোদন কেন্দ্র না হয়ে গবেষণা কেন্দ্রগুলোর অংশে পরিণত করতে হবে।

৬। বন্য প্রাণী ও পরিবেশ আইন বাস্তবায়ন ও কার্যক্রম। দেশে দেশে সংশ্লিষ্ট আইনগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং এর বাস্তবায়ন ঘটানো এখন সময়ের দাবি। 

৭। এই পৃথিবীতে এখন ৭০০ কোটি মানুষ। যা আসলে পৃথিবীর ধারণ ক্ষমতার তুলনায় বেশি। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে গিয়েই মূলত। তবে পৃথিবীর কোন দেশে জনসংখ্যা কমছে, আর কোন দেশে অত্যধিক বৃদ্ধি পাচ্ছে নানা কারণে। এটা শুধু কোন দেশের একার সমস্যা নয়। তবু যে দেশগুলোতে বাড়ছে তাঁদের এই সমস্যাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া জনসংখ্যার সুষম বণ্টনের জন্য আন্তঃদেশীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে পৃথিবীব্যাপী জনসংখ্যার অনুপাত সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। না হলে আজকের মহামারীতে বহুল কথিত সামাজিক দূরত্ব কখনই পালন করা সম্ভব হবে না। এই সামাজিক দূরত্ব কিন্তু শুধু মহামারীর সময় না মহামারী শেষ হলেও স্থায়ীভাবে মানুষকে পালন করার অভ্যাস করতে হবে।

৮। স্বাভাবিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস তৈরি করতে হবে স্কুলে ও পরিবারের মাধ্যমে। হাত ধোয়ার পাঁচটি নিয়ম আছে। দিনে মূলত পাঁচবার হাত ধুতে হয় – খাওয়ার আগে ও পরে, টয়লেট সারার পরে, বাচ্চাকে ধরার আগে, রান্নার আগে এবং পরিবেশনের আগে ও পরে। এছাড়া মুখে মাস্ক ব্যবহার করা, গ্লাভস ব্যবহার করা, সর্দি কাশি হলে সঠিক নিয়ম মেনে চলা ইত্যাদি অভ্যাসগুলো মহামারীর পরেও চালু রাখতে হবে আজীবন।

৯। ভ্রমণের মাধ্যমে যেন কোনভাবে প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং বন্য প্রাণীদের জীবন যাপন বাধাপ্রাপ্ত না হয় সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেমন আমাদের দেশে অনেকে সুন্দরবন ও সেন্ট মার্টিনস ও পাহাড়ের মত প্রাকৃতিক স্থান ঘুরতে গিয়ে খাবারের প্যাকেট ফেলে আসে, উচ্চ স্বরে গান বাজিয়ে হই হই করে বনভোজন করে এমনকি অনেকে হরিণ শিকার করে। এধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে তাঁর জন্য ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতন হতে হবে। এছাড়া প্রবাল দ্বীপে কোন কনক্রিটের আবাস বা হোটেল নির্মাণের অনুমতি দেয়াও বন্ধ করে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে।

১০। আমাদের মত ছোট দেশে একক বাড়ি তৈরি না করে তলা ভিত্তিক বাড়ি নির্মাণ করা উচিৎ। একটি জমিতে একাধিক সন্তান সন্ততিরাও নিজেদের মত পৃথকভাবে থাকতে পারে যদি না কয়েক তালা বাড়ি তৈরি করা যায় অন্য জমি নষ্ট না করে। বাড়িঘর তৈরির সরঞ্জামের দাম মানুষের হাতের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে এজন্য। এতে কৃষি জমি বা ফসল উৎপাদনের জমি নষ্ট কম হবে। আবার পরিবারের বন্ধনও শক্ত হবে। জমির মালিকরা যাতে কৃষি বা কোন ফলদায়ক জমিতে বাড়ি তৈরি না করে এজন্য তাঁদের কর ছাড় দেয়ার নীতিমালা নিতে হবে এমনকি প্রণোদনাও দেয়া যেতে পারে।

এই অভ্যাসগুলো ব্যক্তি পর্যায়ে শুরু করতে হবে। একসময় এগুলোই দেশ, সমাজ ও পৃথিবীকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। তবে প্রত্যেক দেশের সরকারগুলোকে এ ব্যাপারে একমত ও ঐক্যবধ্য হয়ে একসাথে এসব নীতিমালা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *