follow us at instagram
Tuesday, August 11, 2020

বইয়ের পাতায় পাওয়া বাস্তবের জেদি মেয়েরা

প্রতিটি মানুষই আসলে এক একটি গল্প।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/06/9780345534187_custom-16549d50e9c82f945b3f8de3d84f5aa55778c9d0-s300-c85.jpg
Image Source: npr.org

এমন অনেক মানুষ থাকে যাদের হয়তো সবাই চেনেনা, তাঁরা নেতা নয়, অসাধারণ প্রতিভাবান বা কিংবদন্তী কেউ নন কিন্ত তবু তাঁরা আমাদের জীবনের প্রেরণা হয়ে ওঠেন তাদের কথা হয়তো খুব বেশি কেউ মনে রাখেনা তাদের নিয়ে ইতিহাসে হয়তো লেখা হয়না পৃষ্ঠার পৃষ্ঠা তাঁরা হয়তো প্রদীপের নিচে অন্ধকারে চাপা পড়ে যান কিন্ত তাঁরা না থাকলে হয়তো প্রদীপটিই আলো দিতে পারত না গুটিকয় মানুষ হয়তো তাদের কথা জানে, কেননা তাদের কাজ, তাদের স্পৃহা লক্ষণীয়, তাদের দিকে তাকাতে, প্রশংসা করতে, ভালবাসতে বাধ্য হতে হয় 

সময়ের স্রোত থেকে তুলে আনা এমন কিছু মানুষের গল্প বইয়ের পাতায় পড়া বেশ রোমাঞ্চকর আর সে গল্প যদি হয় সমাজের বিধি নিষেধের শেকল ভাঙ্গা কোন নারীর, তাহলে তো কোন কথাই নেই যারা সমাজের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে নিজের আকাঙ্ক্ষার ডানায় চেপে চার দেয়াল ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন, নিজের সমস্ত শক্তি আর মেধা দিয়ে নিজেকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন স্বপ্নের জায়গায়, যেখানে সফলতার সংজ্ঞা শুধুই সংগ্রাম, তাদের জন্যই সমতায়নের পথ মসৃণ হয়েছে আজ

আজকের মি টু আন্দোলন, আজকের পিংক রেভ্যুলেশন, আজকের সমস্ত লিঙ্গ সমতায়ন কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতির পেছনে রয়েছেন এই দুর্দমনীয় ইচ্ছাশক্তির অধিকারী নারীরা যারা সমাজকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজের ইচ্ছের বাস্তবায়ন করেছিলেন, যারা ছিলেন সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ এগিয়ে। 

এমন কয়েকজন নারীকে নিয়ে লেখা হয়েছে উপন্যাস, বলা হয়েছে অসাধারণ গল্প উপন্যাসগুলো বহুল পঠিত হলেও আমাদের দেশের পাঠকদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই লেখার অবতারণা

লাভ অ্যান্ড রুইনপলা ম্যাকলেইন (Love and Ruin – Paula Mclain)

বোহেমিয়ান অসম্ভব প্রতিভাধর বিশ্ববিখ্যাত লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়েকে কে না চেনে পাঠক দুনিয়ার? তাঁর ব্যক্তিজীবন ছিল রোমাঞ্চ, অ্যাডভেঞ্চার আর বিতর্কে ভরপুর তাঁর প্রথম দুই স্ত্রীকে নিয়ে পল ম্যাকলেইন লিখলেন উপন্যাসদ্যা প্যারিস ওয়াইফ বইটি বাজারে ব্যাপক সফলতা পাবার পর তৃতীয় স্ত্রী মার্থা গেলহর্নকে নিয়েও একটি উপন্যাস লিখে ফেলেন তিনি যার নাম লাভ অ্যান্ড রুইন মার্থা ছিলেন অসম্ভব সাহসী উচ্চাকাঙ্ক্ষী ২য় বিশ্বযুদ্ধের সেই ভয়ংকর সময়ে যখন গৃহযুদ্ধও চলছিল, যুদ্ধ সাংবাদিকতায় নাম লিখিয়েছিলেন তিনি নরম্যন্ডির রক্তাক্ত যুদ্ধ বিধ্বস্ত সৈকতে চলে গিয়েছিলেন তিনি জীবনে যা চেয়েছেন তাই পাবার দুর্দমনীয় আকাঙ্ক্ষা যেমন করেছিলেন তেমনি পেয়েছিলেনও নিজের মেধা আর শ্রমে ভর করে এমন সাহসী আনপ্রেডিক্টেবল একজন নারীর গল্প জানতে পড়তে হবে এই বইটি

ইলুমিনেশন্সমেরি শারাট (Illuminations – Mary Sharrat) 

লেখক হিসেবে মেরি শারাট অনন্য কেননা তিনি সবসময় ব্যতিক্রমী নারীদের তুলে আনেন তাঁর উপন্যাসে দ্বাদশ শতকের হিল্ডেগার্ড ভন বিনজেন নামের একজন নানের জীবনকে গল্পে গল্পে ছেকে ধরেছেন তিনি হিল্ডেগার্ড গান লিখেছেন, সুর করেছেন, বই লিখেছেন এবং সেসবের রয়্যালটিও নিয়েছেন তাঁর ছিল প্রচার ভীতি, লোকচক্ষুর আড়ালে নিভৃতচারী জীবন কাটিয়েছেন তিনি আধুনিক কালে এসে তাঁর গান সিডি আকারে বের হয় এবং ওয়ার্ল্ডওয়াইড হিট হয়কয়েক শতাব্দী বাদে যেন তাঁর সৃষ্টিকর্ম আবিষ্কৃত হল অমূল্য গুপ্তধনের মত তাঁকে নিয়েই এই অসাধারণ উপন্যাসটি লিখেছেন মেরি শারাট.

মাদাম তুসো  – মিশেল মোরান (Madame Tussaud)

বিশ্ব বিখ্যাত জাদুঘর মাদাম তুসো কথা কে না জানে! নামের পেছনের মানুষটি ছিল অসম্ভব প্রতিভাধর পরিশ্রমী একজন ভাস্কর মাদাম তুসো তার চাচার বাড়িতে মোমের ভাস্কর্য তৈরি শিখেছিলেন অভিজাত পরিবারের সদস্য হওয়ায়  ফরাসী বিপ্লবের উত্তাল সময়ে তাঁর জীবন ভেসে যাচ্ছিল অদ্ভুত সব নাটকীয়তা, অনিশ্চয়তা আর প্রতিবন্ধকতায় কিন্তু কোন কিছুই তাঁর ভাস্কর্য নির্মাণ চর্চায় বাধা হয়ে দাড়াতে পারেনি অজস্র নাটকীয়তায় ভরা এজীবনকে বইয়ের পাতায় তুলে ধরেছেন মিশেল মোরান 

দ্যা উইডো অফ দ্যা সাউথরবার্ট হিকস (The Widow of the South – Robert Hicks)

হিকসের এই অসাধারণ উপন্যাসটি রচিত হয়েছে তাঁর শহরের এক সত্যি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গল্পে ফ্রাঙ্কলিন এর টেনেসি রাজ্যের কেরি নামের এক বিধবা মহিলার গল্প বলা হয়েছে যিনি নিজের কৃষি ফার্মকে গৃহযুদ্ধের সময় রূপান্তরিত করতে বাধ্য হয়েছিলেন হসপিটাল কবর স্থানে গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ ধংস বিধ্বস্ত প্রান্তরে দাঁড়িয়ে অসম সাহসী এই নারী ১৫০০ নিহত সৈন্যকে নিজের স্থানে কবর দিয়েছেন, সেবা দিয়েছেন আহত সেনাদের আহতদেরকে শুশ্রূষা নিহতদের কবর দেয়ার কাজে সাহায্যকারী মারিয়ার বয়ানে উঠে এসেছে তাঁর এই অবদানের গল্প

দ্যা লাস্ট ন্যুডএলিস এভেরি (The Last Nude – Ellis Avery )

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধোত্তর প্যারিসে বিংশ শতকের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী টামারা ডি লিম্পিকা   তাঁর শিষ্য রাফায়েলা ফানোর প্রেম কাহিনী নিয়ে লেখা হয়েছে এই বিখ্যাত উপন্যাসটি সৃষ্টি ছাপিয়ে প্রেম, নাকি সৃষ্টির মধ্যেই প্রেম পায় পূর্ণতা, ইন্দ্রিয় ছাপিয়ে সে প্রেম হয়ে ওঠে কিভাবে জীবনের দাবি, এসব প্রশ্নেরই অসাধারণ ঐন্দ্রজালিক উত্তর আছে এলিস এভেরি সুনিপুণ বুননের উপন্যাসে 

যে বইগুলোর কথা বলা হল, প্রতিটিই ঐতিহাসিক উপন্যাস বাস্তবেই এই কাহিনীগুলোর প্রধান চরিত্র নারীরা এসেছিলেন, দেখেছিলেন, জয় করেছিলেন নিজেকে, নিজের সমাজকে, পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষই আসলে এক একটি গল্প আর সে গল্পে যে জীবন জয়ের কথা বলে তা প্রেরণা হতে পারে আরেকজনের জীবনে 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *