follow us at instagram
Tuesday, August 11, 2020

দুর্যোগে মানুষকে তথ্য দিয়ে সহায়তার জন্য সংবাদকর্মীদের ধন্যবাদ

তারামন পরিবারের পক্ষ থেকে সকল গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি রইলো কৃতজ্ঞতা। 
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/06/53166662_403.jpg
Image Source: chattogram24.com
মার্কিন টিভি চ্যানেল সিএনএনের ক্রিস কুমো করোনা আক্রান্ত হয়েও তার নিয়মিত টকশো হোস্ট করে গেছেন, তা অনেকের জন্য অনুসরণীয়। গত ৩১ মার্চ করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে নিউইয়র্কে নিজের বাড়ির বেজমেন্ট থেকে অনলাইনে টকশো হোস্ট করেছেন। পরের সপ্তাহে তার স্ত্রী, তার পরের সপ্তাহে একমাত্র পুত্র করোনা পজিটিভ হয়েছে; কিন্তু ক্রিস কুমো তার শো চালিয়ে গেছেন। এভাবে আরও অনেক সাংবাদিক এই করোনা পরিস্থিতিতে জীবন বাজি রেখে তথ্যসেবা দিয়ে চলছেন। আমরা হয়তো সবার খবর জানি না। সিএনএনের মতো বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমের হোস্ট বলে কুমো নিজেই সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন। আমাদের দেশেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কত সাংবাদিক হয়তো করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া সংবাদ সংগ্রহের স্বার্থে দিন-রাত কাজ করে চলছেন, কয়জনের নাম জানি আমরা? সাংবাদিকতা নিছক একটি পেশা নয়, বরং এটি লাইফস্টাইলের নামান্তর।  অনেকের কাছেই জীবন ও সাংবাদিকতা সমার্থক।
তাইতো তারা ঝুঁকি নিয়েই রোজ এই ধন্যবাদবিহীণ পেশায় নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে যাচ্ছেন রোজ।
দিন দিন যেন সবকিছুই কেমন যেন বদলে দিচ্ছে করোনাভাইরাস। এমনকি গণমাধ্যমেও এর প্রভাব পড়েছে। পরিবেশের মতো কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক সংবাদ এসেছে, কিন্তু সামগ্রিক ক্ষেত্রে করোনার প্রভাবটা নেতিবাচক। কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে প্রতিদিন সারা বিশ্বের হাজারো মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন।
করোনাভাইরাস মহামারির ছোবল বিশ্বের কোনো দেশ এবং কোনো জনগোষ্ঠীকেই যেহেতু ছাড় দেয়নি, সেহেতু গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকতাও এখন এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অন্য সবকিছুর মতোই গণমাধ্যমও আর তার ছকবাঁধা নিয়মে চলছে না। করোনাভাইরাস হচ্ছে আমাদের জীবনযাত্রায় স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী। মহামারির এই ভয়াবহ ছোঁয়াচে রোগ থেকে আত্মরক্ষা করতে এবং তার অনুষঙ্গী মহামন্দায় বেঁচে থাকার উপায় অনুসন্ধানে উৎসুক মানুষের মনে এখন অসংখ্য প্রশ্ন। লকডাউন, কারফিউ কিংবা চলাচলে নিয়ন্ত্রণের কারণে ছাপা কাগজ বিতরণ ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় বিঘ্ন সৃষ্টির কারণে পত্রিকার প্রচারসংখ্যা কমেছে। কিন্তু, অনলাইনে পাঠকসংখ্যা বেড়েছে নাটকীয় হারে। টিভির দর্শকসংখ্যাও বেড়েছে। শ্রোতারা আবার রেডিওমুখী হয়েছেন। পাঠক-দর্শক-শ্রোতার চাহিদা পূরণে সাংবাদিকতা এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
করোনাভাইরাস বাংলাদেশে তার থাবা বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গেই কর্মীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাড়িতে থেকে কাজ করার জন্য বলেছে অনেক অনলাইন নিউজ পোর্টাল।অনেকদিন ধরেই ঘরে বসে কাজ করেও  প্রিন্ট ও অনলাইন উভয় ভার্সনের কাজে সামান্যতম ব্যতয় ঘটেনি অনেক অনলাইন নিউজ পোর্টালেরই।মুঠোফোন ও ইন্টারনেটের বদলৌতে এই কাজটি হয়ে উঠেছে অনেকটাই সহজ।নিজেদের মধ্যে আন্ত যোগাযোগ রক্ষা করে রাত দিন এই গণমাধ্যম কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের কাছে সবার আগে সব শেষ খবর পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে।
প্রিন্ট মিডিয়া কিছুটা সংকুচিত হলেও  ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের অনেক কর্মীরাই মাঠে আছেন। তারা সংবাদ সংগ্রহ করে দর্শক ও পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। এদিক থেকে তারা আপসহীন।
আমরা জানি যে, এ কাজের ক্ষেত্রে অনেক ঝুঁকি রয়েছে। সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করেছেন। বাংলাদেশেও ছ’জন সাংবাদিক মারা গেছেন। ইতিমধ্যে বহু সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত। অনেককে হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে হয়েছে। তাদের কেউ কেউ চিকিৎসা নিচ্ছেন, কেউ কেউ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।
যেহেতু সংবাদকর্মীদের একেবারে খবরের উৎসমূলে যেতে হয়। মাঠে-ময়দানে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা খবর সংগ্রহ করেন। মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের কাজ এড়ানোর সুযোগ নেই। কাজেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাদের জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। সেটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যেমনই হতে হবে, তেমনই সরকারের পক্ষ থেকেও করা দরকার।
করোনার মধ্যেই ঘূর্নিঝড় আম্পানের খবর সংগ্রহ করতে তাদের ছুটতে হয়েছে ঘূর্নিঝড় কবলিত এলাকায়।সবসময় তারা নিজেদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারছেন না তবুও তাদের কাজে এতটুকু ঘাটতি রাখছেন না তারা।আমাদের কাছে খবর পৌঁছে দিতে কাজ করে চলেছেন নিরন্তর।
এছাড়াও করোনাকালীন সময়ে দুস্থ মানুষের দুঃখ দূর্দশা থেকে শুরু করে কিভাবে তারা কোথায় থেকে সঠিক সাহায্য সহযোগিতা পেতে পারেন সে সব খবরও এনে দিচ্ছেন তারা।
অনেক বাসায় এমনকি এলাকাতেও সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রে আসা নিয়ে বাড়ি মালিক বা এলাকাবাসী বাঁধা দিচ্ছেন।নিজের পরিবার পরিজনের সুরক্ষা এসব কিছু উপেক্ষা করেই তারা কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
গণমাধ্যমকর্মীদের মাঠে কাজ করতে, পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে, সংবাদ সংগ্রহ করতে এবং পাঠক ও দর্শকদের কাছে সংবাদ পৌঁছাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে।এই  জায়গাটা অর্থাৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে পেশাদারিত্বে কোনো কমতি কিংবা ঘাটতি হবে না।
তাই আমাদের উচিৎ তাদের প্রতি অনেক বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যে এমন একটা সময়েও তারা আমাদের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।এই মহৎ কাজে নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন।সমাজের সবাই যদি একে অন্যের পাশে থাকি আমরা এই দুঃসময় একটা সময় কাটিয়ে উঠবো নিশ্চয়ই।
তারামন পরিবারের পক্ষ থেকে সকল প্রিন্ট,ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি রইলো অগাধ ভালবাসা এবং কৃতজ্ঞতা।
তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো (অনলাইন সংস্করণ), যুগান্তর, ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা, ডেইলি পিপলস টাইম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *