follow us at instagram
Tuesday, August 11, 2020

ওয়ার্ল্ড এ্যাসসোসিয়েসন মাস্টার শেফ মেম্বার হলেন বাংলাদেশের শাহেদা

শাহেদা ইয়াসমিন ওয়ার্ল্ড  এ্যাসসোসিয়েসন অফ মাস্টার শেফ (WAMA) এর সদস্যপদ লাভ করেছেন।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/07/Daily-Sun-32-01-30-10-2016.jpg
Image Source: daily-sun.com

বছর ছয়েকের একটি বাচ্চা মেয়ে মায়ের রান্না দেখত দেখতে একদিন নিজেই ডিমের একটা ডিশ রান্না করে ফেললো। রান্না নামক খেলার ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়া শিশুটি পরবর্তীতে নিজেকে গড়ে তুললো একজন অনবদ্য রন্ধনশিল্পীতে। সেই বাচ্চা মেয়েটি হচ্ছেন বর্তমান সময়ে আমাদের দেশীয় রন্ধনশিল্পের পরিচিত মুখশাহেদা ইয়াসমিন। 

সম্প্রতি শাহেদা ইয়াসমিন ওয়ার্ল্ড  এ্যাসসোসিয়েসন অফ মাস্টার শেফ (WAMA) এর সদস্যপদ লাভ করেছেন।

WAMA প্রতিষ্ঠানটি ১৯৫০ সালে দুনিয়া জুড়ে রন্ধনশিল্পী যারা অস্ট্রেলিয়াতে পুনর্বাসিত হয়েছিলেন তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে। বহির্বিশ্বে তার এমন স্বীকৃতি আমাদের দেশীয় অন্যান্য রন্ধনশিল্পীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস। তবে বহির্বিশ্ব থেকে পাওয়া এটাই তার প্রথম স্বীকৃতি নয়।

শাহেদা ইয়াসমিনের জন্ম চট্টগ্রামে। রান্নার প্রতি ছোটবেলা থেকে ভালোবাসা থাকলেও রান্না নিয়ে কিছু করার চিন্তা মূলত আসে বড় হয়ে কোন এক রেস্টুরেন্টে খাবারের এক অভিজ্ঞতার পর থেকে, যেখানে তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে, রেস্টুরেন্টগুলোতে ভিন্ন আঙ্গিকের রান্নার দাম বেশি হলেও তার খাদ্যমান অনেক কম। এরপরই তিনি বিভিন্ন রকম খাবার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা শুরু করেন।

রান্নার প্রতি আগ্রহ থেকে ২০০৬ সালে ইন্সটিটিউট অফ কালিনারি এডুকেশন থেকেএশিয়ান কুকিংএর উপর ডিপ্লোমা শেষ করার পর ২০০৯ সালে থাইল্যান্ডে শাহেদা ইসলাম থাই হোমকুকিং এর উপর একটি মাস্টার শেফ কোর্স করেন। একই বছরে তিনিজুয়েলস কিচেননামে ঢাকায় একটি রান্না বিষয়ক স্কুল খোলেন যেখানে বিভিন্ন পেশার মানুষরা থাই রান্না শেখার সুযোগ পেয়ে আসছে। এছাড়া, ২০১৪ সালে তিনি  বিশ্বখ্যাত লি কর্ডন ব্লিউ, প্যারিসে ফ্রেঞ্চ ডেজারটের উপর একটি ওয়ার্কশপ করেন।  

দেশবিদেশের বিভিন্নরকম রান্নার উপর ডিগ্রী নেয়া সত্ত্বেও শাহেদা ইসলামের দেশীয় রান্নার প্রতি ভালোবাসার কখোনই ভাটা পড়েনি। সুযোগ পেলেই তিনি দেশীয় খাবারের উপর বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করেন। একটি পরিচিত খাবারকেই উপস্থাপন করেন ভিন্ন আঙ্গিকে, চমৎকার স্বাদে।

একজন অনবদ্য রন্ধনশিল্পী ছাড়াও তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। ২০০৪ সালে তিনিজামদানী জুয়েলনামে একটি বুটিক হাউজ গড়ে তোলেন। তার ডিজাইন করা ঐতিহ্যবাহী জামদানী শাড়ী এতোটাই সুনাম কুড়িয়েছিল যে, সাবেক শ্রীলংকান প্রেসিডেন্ট চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা, সাবেক কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধী, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর  স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জী, বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জীো তার জামদানি শাড়ি পড়েছিলেন।

শাহেদা ইয়াসমিন ২০০৪২০০৬ সাল পর্যন্ত ওমেন এন্টারপ্রিনার এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (WEAB) এর একজন সদস্য ছিলেন। এমনকি ২০০৪ সালে পাকিস্তানে সার্ক (SAARC) সামিটে WEAB এর পক্ষ থেকে তিনি যোগদান করেছিলেন। এছাড়া, ২০০৪ সালে ভারতের মুম্বাইতে ইন্টারন্যাশনাল ওমেন এ্যাসোসিয়েশন কনফারেন্সে অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তৃতা রেখেছিলেন।

রন্ধন জাদুকর শাহেদা ইয়াসমিন ২০১৪ সালেরূপচাঁদাদি ডেইলি স্টার সেরা রাঁধুনিএর বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন।

আমাদের বাংলাদেশ হরেক স্বাদের দেশ। টি বিভাগের ৬৪ জেলার মানুষেরই রান্না, স্বাদে রয়েছে স্বতন্ত্র বেশিষ্ট্য যা পৃথিবীর অন্য যেকোন প্রান্তের মানুষের কাছে অবাক করা বিষয়। রন্ধন প্রেমী শাহেদা ইয়াসমিন বিদেশী রান্নার পাশাপাশি দেশী রন্ধনশিল্পকে নিজের ছন্দে বহির্বিশ্বে পরিচিত করার প্রয়াস করেছেন বার বার।

সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড এ্যাসোসিয়েশন অফ মাস্টার শেফ (WAMA) এর সদস্যপদ লাভ করা ছাড়াও বছরের ফেব্রুয়ারিতেইতালিয়া তাভোলানামক সুপরিচিত এক গণমাধ্যমে সিলভার এ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হন। গণমাধ্যমটি WAMA এর স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবেও পরিচিত।

বর্তমানে শাহেদা ইয়াসমিন ওয়ার্ল্ড এ্যাসোসিয়েশন অফ মাস্টার শেফ (WAMA) এর শেফ ব্যাঞ্চ২০২০ প্রতিযোগিতার একজন প্রতিযোগী। প্রতিযোগিতাটি সম্পূর্ণ নতুন, সৃষ্টিশীল, বিভিন্ন দেশীয় সংমিশ্রণে একত্রে রন্ধনশিল্পকে তুলে ধরার একটি চমৎকার প্ল্যাটফরম। এই প্ল্যাটফর্মে তিনি আমাদের দেশীয় রন্ধনশিল্পকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলেই আশা করা যায়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *