follow us at instagram
Tuesday, August 11, 2020

সহজে ইংরেজি শেখানোর পর এবার মুনজেরিনের অক্সফোর্ড যাত্রা

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাচ্ছেন বাংলাদেশের মুনজেরিন।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/07/munzerin.jpg

ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে সুপরিচিত অনলাইন শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম ব্লগ পেইজের একটি ভিডিও সামনে চলে এলো। হাস্যোজ্জ্বল, বুদ্ধিদীপ্ত এক তরুনী ভিডিওটিতে শিক্ষার্থীরা কিভাবে সহজেই ইংরেজিতে একে অন্যের সাথে পরিচিত হতে পারে, আলাপ চালিয়ে যেতে পারে তার উপায়গুলো উদাহরনসহ সাবলীল্ভাবে উপস্থাপন করছেন। এই হাস্যোজ্জ্বল তরুনীটি আর কেউ নন, এ সময়ের পরিচিত মুখ- মুনজেরিন শহীদ।

মুনজেরিন মূলত চট্টগ্রামের মেয়ে। স্কুল-কলেজের পড়াশোনা চট্টগ্রামেই করেছেন। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

সম্প্রতি তার শিক্ষাজীবনে আরেকটি ধাপ যুক্ত হচ্ছে। তিনি বিশ্ববিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে “অ্যাপ্লায়েড লিঙ্গুয়েস্টিক অ্যান্ড সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ একুইজিশন “ বিষয়ে সম্মানজনক শেভেনিং স্কলারশিপের অধীনে স্নাতকোত্তর করার সুযোগ পেয়েছেন ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড থেকে যাচ্ছেন আসল অক্সফোর্ডে পড়তে।

 এ ব্যাপারে তিনি নিজেই তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে সকলকে জানান এবং বলেন, 

এটা এখনও অবাস্তব মনে হচ্ছে। ধন্যবাদ আপনাদের প্রত্যেককে, যারা আমাকে ইংরেজি শেখা এবং শেখানোর এই যাত্রায় অপরিমেয় উদারতা ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন।…“এখন অক্সফোর্ড আমাকে ঘরে বসে অনলাইনে সেমিস্টারগুলো করতে না বললেই হয়।“

মুনজেরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই অনলাইন শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম টেন মিনিট স্কুলে একজন ব্লগ রাইটার হিসেবে যোগ দেন। পরে তার কজের পরিধি বেড়ে যায়। টেন মিনিট স্কুলের স্যোশাল মিডিয়া টিমে কাজ করার পর বর্তমানে হিউম্যান রিসোর্স বিভাগের প্রধান নির্বাহী হিসেবে কর্মরত আছেন।

অফিসিয়াল কাজের পাশাপাশি এই লকডাউনে ঘরে বসে সহজ উপায়ে ইংরেজি বলার এবং শেখার ছোট ছোট ভিডিও বানিয়ে এখন টেন মিনিট স্কুলের একজন ইংরেজি শিক্ষকও বনে গেছেন তিনি। তার ভিডিও লেকচার প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছেছে।  

সামাজিক যোগাযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে নারীদের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয় সাধারণত। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যতই সচেতনতামূলক বা শিক্ষামূলক কনটেন্ট ক্রিয়েট করুক নারী, প্রচুর নেতিবাচক মন্তব্যও শুনতে হয়। মুনজারিন বিষয়টি নিয়ে ভেবেছেন। তার মতে, এক্ষেত্রে ছেলেদের মেয়েদের চেয়ে অনেক নিশ্চিন্তই থাকতে দেখা যায়, কারণ ছেলেদের পোশাক ও আচরণ নিয়ে কারও তেমন কোন মাথা ব্যাথা থাকেনা, অথচ একজন মেয়ে কনন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে পোশাক থেকে শুরু করে আচরণ, নাড়াচাড়া সবকিছুর ব্যাপারে অতিরিক্ত সচেতন থাকতে হয় শুধু অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য এড়ানোর জন্য।

মুনজেরিনের আইইএলটিএস স্কোর নয় এর মধ্যে আট দশমিক পাঁচ। তিনি সব বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজিতে কথা বলার ৬০টি কার্যকরী ফর্মুলা নিয়ে ‘ঘরে বসে স্পোকেন ইংলিশ’ নামক একটি বইও লিখেছেন। টেন মিনিট স্কুল সাইটে বইটির অনলাইন ভার্সন পাওয়া যাচ্ছে।

অক্সফোর্ডের যাত্রী মুনজেরিন এক বছরের পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরতে চান। দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চান। আমাদের দেশে ইংরেজি শেখার ভিত মানে অবকাঠামো এখনও বেশ দূর্বল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে মানুষ মূলত বাস্তব জীবনে ব্যবহার করতে গিয়েই ইংরেজি বেশি শেখে। তাই ইংরেজি নিয়ে কাজের সুযোগ অবারিত। মুনজেরিন তার ইচ্ছের ব্যাপারে ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ সম্পর্কে বলেন, 

“আশা করি এই ডিগ্রি নিয়ে, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা নিয়ে আরো অনেক কিছু শিখতে পারবো, যাতে করে ফিরে এসে বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের আরও সাহায্য করতে পারি।“

মুনজেরিনের ইচ্ছাশক্তি,মেধা এবং পরিশ্রমে ভর করে চলা জয়যাত্রা হতে পারে  দেশের যেকোন শিক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। তার সফলতার মুকুটে আরো পালক যুক্ত হোক, শুভকামনা রইলো।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *