follow us at instagram
Tuesday, August 11, 2020

বিশ্বের সেরা ৫০ চিন্তাবিদের তালিকায় বাংলাদেশের স্থপতি মেরিনা

বিশ্বের সেরা ৫০ চিন্তাবিদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশি স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/07/merina-1200x709.jpg

করোনার এই কঠিন সময়ে চারিদিকে দুঃসংবাদের ছড়াছড়ি। অর্থনীতি, রাজনীতি ছাপিয়ে সামাজিক সংঘর্ষ, নারী নির্যাতন, করোনা মোকাবেলায় অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতির খবরে যখন সংবাদ মাধ্যম ছেয়ে আছে, আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি যখন হুমকির সম্মুখীন তখন কিছু কিছু খবর স্বস্তি দেয়। মেরিনা তাবাসসুম দেশের জন্য এমন সময় বয়ে এনেছেন বিরল সম্মান। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক খ্যাতনামা ম্যাগাজিন ‘প্রসপেক্ট’ সেরা ৫০ চিন্তাবিদের তালিকা প্রকাশ করেছে যেখানে নাম এসেছে বাংলাদেশী স্থাপত্যবিদ মেরিনা তাবাসসুমের।

মেরিনা প্রাকৃতিক উপকরণ নিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে ভবনের নকশা করেছেন এবং নির্মাণ করেছেন।

প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে যে চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন হয়েছেন সেগুলো সমাধান করেই তিনি নকশা প্রণয়ন করেছেন। একারণেই মূলত তিনি এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে জানিয়েছে ম্যাগাজিনটি।

এ প্রসঙ্গে প্রসপেক্ট ম্যাগাজিন লিখেছে, ব্যবহারিক ধারণা ও চিন্তা সম্পর্কে অজানা প্রশ্নের উত্তর দিতে মানুষের মাঝে উপলব্ধি তৈরির চেয়ে প্রয়োজনীয় এখন অন্য কিছুই নেই। স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমের নকশা করা স্থানীয় উপকরণের হালকা ওজনের বাড়িগুলো স্টিলের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম এবং পানির মাত্রা বেড়ে গেলে সেগুলো স্থানান্তরও করা যাবে। নদী বা সমুদ্রের পানি বাড়ার সাথে সাথে বাংলাদেশকে নিয়মিতই যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তার একটি সমাধান দেবে তাঁর এ নকশা। তাঁর এই নকশা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের বন্যা কবলিত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত অঞ্চলে রূপায়নযোগ্য। তাঁর স্থাপত্যের এই গ্রহণযোগ্যতা আন্তর্জাতিকভাবে স্থাপত্য দুনিয়ায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

রাজধানীর বায়তুর রউফ মসজিদের নকশা করেছেন মেরিনা। এই মসজিদটি টেরাকোটা ইট দিয়ে নির্মিত। এটির নকশা করে স্থাপত্যে আগা খান পুরস্কারও পেয়েছেন এই স্থপতি। বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে তিনিই প্রথম আগা খান পুরস্কার বিজেতা। ২০১৬ সালে প্রথম বাংলাদেশের দুজন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম ও কাশেফ মাহবুব চৌধুরী স্থাপত্যে অনন্য এ সম্মান লাভ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৪৮টি প্রকল্পের ভেতর থেকে ১৯টি প্রকল্পকে চূড়ান্ত মনোনয়নের জন্য বাছাই করা হয়েছিল যেখানে স্থাপত্যের স্বকীয়তায় স্থান করে নেয় স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমের ঢাকার ‘বায়তুর রউফ মসজিদ’ এবং স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরীর গাইবান্ধার ‘ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার। এর আগে বাংলাদেশের তিনটি স্থাপত্য এই পুরস্কার অর্জন করলেও সেগুলোর স্থপতি ছিলেন বিদেশি। 

স্থাপত্যের ভুবনে নোবেলতুল্য ‘প্রিত্জকার স্থাপত্য পুরস্কারের পরই অত্যন্ত সম্মানজনক পুরস্কার ‘আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার, যা ১৯৭৭ সালে আগা খান প্রতিষ্ঠিত ‘আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক এর একটি উদ্যোগ। এর আর্থিক মূল্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার। পুরস্কারটিতে স্থাপত্যে শ্রেষ্ঠত্ব, পরিকল্পনা ও ঐতিহাসিক সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি স্থাপত্যের মাধ্যমে সামাজিক প্রত্যাশা পূরণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হয়। 

 

স্থাপত্য জগতে মেরিনা তাবাসসুম একজন শিল্পী ও সাধক। স্থাপত্য বিজ্ঞান হলেও এর সাথে যোগসূত্র রয়েছে শিল্পকলা ও দর্শনের। তাবাসসুম সেসবের সমন্বয়ই ঘটিয়েছেন তাঁর কাজে। ইট কাঠ পাথরকে তিনি প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন না করে বরং প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে নকশা প্রণয়ন করেন।

ঢাকার বেড়ে ওঠা মেরিনা তাবাসসুমের দাদা দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গ থেকে ঢাকায় এসেছিলেন পাকাপাকিভাবে। ঢাকার হলিক্রসে স্কুল কলেজের পাঠ চুকিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন স্থাপত্য বিষয়ে। নিজের তৈরি প্রতিষ্ঠান ‘উর্বানা’য় তিনি প্রধান প্রকৌশলী। এছাড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন। বেঙ্গল ইন্সটিটিউট ফর আর্কিটেক্ট এর অ্যাাকাডেমিক শাখার পরিচালক হিসেবেও কর্মরত আছেন

মেরিনা তাবাসসুম ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মিত ভূগর্ভস্থ স্বাধীনতা জাদুঘরের দু’জন নকশাবিদের অন্যতম। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরস্কার লাভ করেন তিনি। এছাড়া অনন্য টপ টেন পুরস্কার এবং ইন্ডিয়ান ভাইস প্রেসিডেন্ট ভাইরন শিখ শেখোয়াত কর্তৃক আর্কিটেক্ট অফ দ্যা ইয়ার পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

স্থাপত্য জগতে নারীর পথ চলা আজকের নয়। সৃষ্টির সেই ঊষা লগ্ন থেকেই। কিন্তু কখনই তেমন করে নারীর সৃজনশীলতা এবং কৃতিত্ব স্বীকৃতি পায়নি। বাংলাদেশের অনেক যোগ্য এবং মেধাবী নারী স্থাপত্যবিদ রয়েছেন। যারা এখন স্থাপত্য নিয়ে পড়ছেন এবং ভাল স্থাপত্যবিদ হতে চান, তাদের জন্য মেরিনা তাবাসসুম এক প্রেরণার নাম।

 

তথ্যসূত্রঃ সময় নিউজ, বণিকবার্তা, টিবিএস নিউজ, উইকিপেডিয়া

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *