follow us at instagram
Tuesday, September 22, 2020

সিলিকন ভ্যালিতে বাংলাদেশের নারী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রুদমিলা

রুদমিলা বলেন,আমি আশা করি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে রোবট তৈরি করা সম্ভব।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/08/rudmila.jpg
বাংলাদেশের মেয়ে রুদমিলা নওশীন যিনি একজন ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার এবং তরুণ নারী উদ্যোক্তা। আজ আমরা শুনবো তার সাফল্যের পেছনের গল্প।
ইঞ্জিনিয়ারিং এমন একটি ক্ষেত্র যা খুব কম নারীরাই আগ্রহের সাথে বেছে নেন। ২০১৭ সালে মাত্র ৯’৭ শতাংশ নারী ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে এখনও অনেকেই নিজের ক্যারিয়ারকে এর সাথে চিন্তা করেন না কিন্তু রুদমিলা নওশীন নামে একজন সাহস করে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ক্যারিয়ারের স্বপ্ন দেখার সাহস করেছিলেন – এমন একটি ক্ষেত্র যাতে  খুব কমই নারীরাই সফল হয়েছেন। তিনি তার বাবা ফজলে সেলিম যিনি কিনা র‍্যাংগস আইইটি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা তার অফিসে সিলিকন ভ্যালির মানচিত্র দেখে বড় হয়েছেন।যেখানে সব জায়ান্ট টেক কোম্পানিগুলোর লোগো ছিল। তখনও তিনি জানতেন না যে একদিন তিনি গ্লোবাল টেক ভিলেজের দুটি রোবোটিকস-ভিত্তিক  টেক সংস্থার মালিক হয়ে উঠবেন।
রুদমিলা নওশীন স্কলাস্টিকা থেকে এ লেভেল শেষ করে San José State University থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেন।এই তরুন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রোবোটিক্সে তার আগ্রহ থেকেই ২০১৭সালে তার নিজের কোম্পানি ConfigVR শুরু করেন যা থেকে পরবর্তীতে তার দ্বিতীয় উদ্যোগ ConfigRobot শুরু হয়েছে যার সফট লঞ্জ হয়েছে বাংলাদেশেও।তার দু’টি উদ্যোগই রোবোটিক্স,আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স(AI),কন্টেন্ট ইনডাস্ট্রি যা সিলিকন ভ্যালিতে অবস্থিত।
ConfigVR ইন্টারঅ্যাক্টিভ ভিজুয়্যাল এক্সপেরিয়েন্স,ইভোলিউশন মোবিলিটি,থ্রিডি মডেলিং এবং গেইম ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করে।যা ভার্চুয়াল এবং মিক্সড রিয়্যালিটির সমন্বয়।
অন্যদিকে,ConfigRobot রোবোটিক্স, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চ্যাটবটস, সাইবার সিকিউরিটি, ইন্টারনেট অফ আইটেম (আইওটি) এবং দক্ষতা বিকাশের কোর্সগুলি নিয়ে কাজ করে।
রুদমিলা বলেন,আমি ছোটবেলা থেকে রোবটিক্স এবং গ্যাজেটগুলিতে বরাবরই মুগ্ধ হয়েছি এবং সর্বদা একটি রোবোটিক্স সংস্থা চালু করতে চেয়েছিলাম। আমি প্রথমে AR/VR সংস্থা শুরু করেছিলাম,এটা হয়ে যাওয়ার পর ConfigRobot শুরু করি।
যখন রুদমিলা তৃতীয় শ্রেণীতে পরতেন তখন পরিবারের সাথে রাশিয়ার কসমোনটিক্স যাদুঘর দেখার পর বৈদ্যুতিক প্রকৌশল সম্পর্কে আমার আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। সেখানে আমি অনেকগুলি ইলেক্ট্রনিক্স এবং স্পস ট্রাভেলে ব্যবহার করার জন্য দেখেছি।তিনি তখন বুঝতে পারেন এই ক্ষেত্রে তার আগ্রহ রয়েছে।
তিনি বলেন বাসার যত ইলেকট্রনিক্স জিনিস ছিল তা তিনি ফিক্স করতেন। যেমন ভিসিয়ার,টেলিফোন,ফ্যান ইত্যাদি।আমি সেগুলো খুলতাম ভেতরে কিভাবে কাজ হয় দেখার জন্য।আমি সার্কিট বোর্ডও চেক করতাম কিভাবে এর ভেতরে কাজ হয় দেখার জন্য।
সব সফলতার পেছনেই কেউ না কেউ থাকেন। রুদমিলা বলেন  তার বাবা মা তার কাজের জন্য পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছিলেন ছোটবেলা থেকেই। তাকে ছোটবেলা থেকেই মেশিনের প্রতি আগ্রহী করে তোলা হয়েছিল,তার বাবা তাকে জোর দেন ক্যারিয়ার হিসেবে ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিংকে বেছে নিতে কারণ এর ভবিষ্যৎ বেশ সম্ভাবনাময় হবে।
তিনি বলেন, আমি ২০১৬ সালে আমার বাবাকে হারিয়েছি।কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার আগে আমার সফলতার জন্য একটা রাস্তা তৈরি করে রেখে গেছেন।আমার দুটো কোম্পানিই তার তত্ত্বাবধানে হয়েছে। আমার সাফল্য দেখার জন্য তিনি নেই এবং আমি প্রতিদিন আমার জীবণে তার উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি।
রুদমিলা বলেন,আমি আশা করি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে রোবট তৈরি করা সম্ভব।
যুব সমাজকে প্রশিক্ষণ দিলে এ কাজ অনেক ত্বরান্বিত হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশাল জনসংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের অবশ্যই জনবল রয়েছে তবে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া আমাদের দরকার। আমাদের ইকোসিস্টেমকে শিক্ষিত করা এবং 4.0 শিল্পের চাহিদা সমর্থন করার জন্য এবং বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে অবকাঠামো তৈরি করা দরকার। আমি বিশ্বাস করি সঠিক প্রশিক্ষণ এবং দিকনির্দেশনা প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে এই শিল্পকে শক্তিশালী করতে পারে।
বাংলাদেশে রোবট তৈরি করলে অপারেটিং ব্যয় হ্রাস করার কারণে বেশিরভাগ শিল্পে অটোমেশন উপকারী হতে পারে। কাজের উপর নির্ভর করে রোবটগুলি তিন থেকে পাঁচ জনের কাজ সম্পাদন করতে পারবে বলে তিনি আশা করেন।
তার ভিশন হচ্ছে নেটফ্লিক্স এবং অ্যামাজন প্রাইমে বাংলাদেশী সামগ্রী যেমন চলচ্চিত্র, অ্যানিমেশন, ডকুমেন্টারি, ওয়েব সিরিজ ইত্যাদি প্রচার করা।এই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলির সাথে এবং বাংলাদেশ মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির সাথে যেহেতু আমার পেশাদার সংযোগ রয়েছে, তাই আমি দুই দেশের মধ্যে একটি সেতু নির্মাণের সুযোগ হিসাবে এটিকে কাজে লাগাতে চাই।” তার প্রযোজনা সংস্থা একটি সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি পডকাস্ট প্রকাশের পরিকল্পনাও করছে।
রুদমিলার বলেন,আমি মনে করি আজকের তরুণ সমাজ বেশ প্রযুক্তি-বুদ্ধিমান। ইন্টারনেটের সাথে প্রত্যেকে প্রত্যেকে নতুন কিছু শিখছে। স্মার্টফোন, ইউটিউব, ফেসবুক, ইত্যাদি বিশ্বকে সেখানে নিয়ে যাচ্ছে যেখানে আমরা বিশ্বকে দেখতে চাই।
রুদমিলা বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি আমি একজন বিশ্ব ভ্রমণকারী। আমি বাঙালি সংস্কৃতি ভালোবাসি। আমি একজন ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পী এবং পিয়ানো, তানপুরা এবং হারমোনিয়াম বাজাতে পারি। আমি একটি মিডিয়া সংস্থার প্রযোজনার প্রধান এবং বিশ্বব্যাপী প্ল্যাটফর্মে বাংলা বিষয়বস্তু প্রচার করার পরিকল্পনা করছি। আমি গ্রামীণ অঞ্চল, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী যুবকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তৈরিতে বিভিন্ন এনজিও এবং সরকারের সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি।
রুদমিলা আমাদের দেশের নারীদের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হয়ে উঠার পেছনে একজন রোল মডেল। তিনি বহুগুণে গুণান্বিতা। দেশের জন্য তার এই নতুন খাতে চিন্তা করার মাধ্যমে আমাদের দেশ অনেক এগিয়ে যাবে এবং উপকৃত হবে এই কামনা রইলো তারামনের পক্ষ থেকে।
তথ্যসূত্রঃদ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *