follow us at instagram
Wednesday, September 23, 2020

একটি সেলাই মেশিন থেকে একটি সফল ব্যবসার শুরু যেভাবে

আমি মনোয়ারা বেগম বলছি রাঙ্গামাটি থেকে। রিহা টেক্সটাইল এন্ড বুটিক এর পরিচালক।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/09/wicci_rangamati-final-1280x853.jpg

কিছু একটা করার প্রবল ইচ্ছা আমার ছোট বেলা থেকেই ছিল। মা চাচিরা মিলে যা তৈরি করতো আমি আমার করে তা তৈরি করে দেখাতাম যেমন সেলাই, রান্না ইত্যাদি। আমি মনোয়ারা বেগম বলছি রাঙ্গামাটি থেকে। রিহা টেক্সটাইল এন্ড বুটিক এর পরিচালক। আমার এই পথচলার গল্প অনেক দিনের সংগ্রামের।

আমি ২০০১ সালের দিকে আমার উদ্যোগ কে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেওয়া শুরু করি। তার আগে একটা মাত্র সেলাই মেশিন দিয়ে কাজ শুরু করি। যুব উন্নয়ন, তাঁত বোর্ডের ট্রেনিং নিয়ে বাসায় অর্ডার নিতে থাকি। অন্য তাঁতের কারখানা থেকে কাপড় কিনে পোশাকে ডিজাইন করে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করি। অনেক সময় দেখা যায় দোকানদার ঠিক সময়ে টাকা পরিশোধ করে না। ঐ অবস্থায় আমার ভালোই অর্ডার আসে আমি অনেকটা সাফল্যের মুখ দেখতে পাই। কিন্তু নিয়তির পরিহাস একরাতে আগুন লেগে আমার সব স্বপ্ন ছাই হয়ে যায়। মাথায় চাপে ঋনের বোঝা। খুব অসুবিধায় পড়ে যাই।

কোন উপায় খুঁজে না-পেয়ে অন্য কারখানায় চাকরি করার চেষ্টা করি এবং একটি কারখানায় বলে কোন নারীকে দিয়ে ওরা কাজ করায় না। আরেক জায়গায় একটা চাকরির ব্যবস্থা হয়। ওখানকার কর্মীরা ঝগড়াঝাটি শুরু করে আমার নিয়োগ নিয়ে, আমি যোগদান করলে নাকি ওদের ভ্যালু থাকবে না। এসব কথা আমার কানে আসার পর চাকরি আমি করিনি । মজার ব্যপার হলো ওদের কয়েকজন আমার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছে পরবর্তী সময়ে।

আমি আমার নিজের মেধা কাজে লাগাই, আমার নিজের করা ডিজাইন অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন করে সব শুরু করি। না বললে হয় না আমার দেশি পণ্যের উপর দুর্বলতা থাকায় আমি তাঁতশিল্প নিয়ে কাজ শুরু করি। পাহাড়ের নারীরা ও তাঁতের কাজ করে এটা এখানকার ঐতিহ্য। আমি ওদের কয়েক জনকে আমার সাথে সম্পৃক্ত করি।

আমি বুঝতে পারছি যে, ধীরে ধীরে তাঁতিরা তাদের কাজ ছেড়ে অন্য ক্যারিয়ারের পথে চলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের প্রজন্মগুলি তাঁত শিল্পে কম আগ্রহী।

তাঁতিরা মজুরি বাড়ানোর কথা বলে তবে এটি করার ক্ষেত্রে উত্পাদন ব্যয় খুব বেশি হয়ে যাবে। পণ্যগুলি বাজারে খুব ব্যয়বহুল এবং আলগা হয়ে উঠবে। অন্যান্য চ্যালেঞ্জগুলি হ’ল: তাদের শহর থেকে সমস্ত কিছু আনতে হবে, সেখানে কাঁচামাল পাওয়া যায় না যা ঝামেলাজনক। তাঁতের উত্পাদনশীলতা কম এবং ডিজাইনের বৈচিত্র্য করার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। যেখানে কারখানায় নিত্য নতুন প্রযুক্তি চলে আসছে সব ক্ষেত্রে।

তবে এসবের মাঝেও সব রকম সীমাবদ্ধতাকে পার করে, অনেক পরিশ্রম করে আমি আজকের এই অবস্থানে এসেছি। আমার কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি। আজ আমার মাধ্যমে পনেরো থেকে বিশ জন নিজেদের কর্মসংস্থান করতে পেরেছে, এখানে আমার আত্মতৃপ্তি আছে। তাছাড়া চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স থেকে ২০১১সালে সফল নারী উদ্যোক্তা সম্মাননা গ্রহন করি। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের সেরা নারী উদ্যোক্তা পুরস্কার গ্রহন করি। ২০১৩ সালে অর্থনৈতিক ভাবে সমাজে অবদান রাখার জন্য সরকারি সম্মাননা ”জয়িতা ” পুরস্কার পাই।

আমার প্রোডাক্ট মানসম্মত হওয়াতে বিক্রি ভালোই হয়। এখন করোনার কারনে বেচা বিক্রি বন্ধ থাকলেও, পরিস্থিতি ভালো থাকলে আমার শো-রুমে, বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রি, ও এসএমই মেলা,পার্বত্য মেলা, আমাদের চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অফ কমার্সের উইমেন্স মেলায়, আন্তর্জাতিক বানিজ্যমেলায় অংশ নিয়ে আমার প্রোডাক্ট বিক্রি করি। প্রথমে আমি একা তারপর তিন জন কর্মচারী নিয়ে কাজ করি। বর্তমানে আমার অধীনে পনেরো থেকে পঁচিশ জন মানুষ কাজ করে।

আমি ভবিষ্যতে আমার প্রতিষ্ঠানে একশো লোকের কর্মসংস্থান করতে চাই , আর দেশিও ঐতিহ্যকে সবার কাছে আকর্ষণীয় করে তুলে, সম্পূর্ণ সফল একটা দেশি পণ্যের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ধন্যবাদ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *