follow us at instagram
Tuesday, September 22, 2020

বিশ্বের প্রথম নারী চলচ্চিত্র পরিচালককে নিয়ে খনা টকিজের আয়োজন

বিশ্বের প্রথম নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যালিস গি ব্লশে।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/09/BE-NATURAL-STATIC-1b-1.jpg
Image Source: birds-eye-view.co.uk

২০১৮ সালে বিশ্বের প্রথম নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যালিস গি ব্লশের জীবনী অবলম্বনে আন্তর্জাতিক পুরষ্কার বিজয়ী পরিচালক পামেলা বি গ্রিন ‘বি ন্যাচারাল: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ অ্যালিস গি ব্লশে’ তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেন। ফ্রান্সে জন্মগ্রহণকারী অ্যালিস গি ব্লশেকে অনেকে বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতাও মনে করে থাকেন। আইনস্টাইন এবং অ্যালফ্রেড হিচককের মতন মানুষরাও চলচ্চিত্র অনুরাগী এই মানুষটিকে ভীষণভাবে শ্রদ্ধা করতেন। আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মাণ আন্দোলনকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আজীবন কাজ করে যাওয়া অ্যালিসকে নিয়ে হাতে গোণা যে কয়টি কাজ হয়েছে তার মাঝে নিঃসন্দেহে এগিয়ে থাকবে বি ন্যাচারাল। 

তথ্যচিত্রটির প্রযোজক জোডি ফস্টার তার অসাধারণ ধারাবর্ণনায় তুলে এনেছেন একজন চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষের গল্প যার শুরুটা হয়েছিলো একটি ক্যামেরা কোম্পানিতে কাজ করার মাধ্যমে। মূলত সেখান থেকেই অ্যালিসের চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ আর ভালোবাসার জন্ম। ১৮৯৬ সালে নির্মাণ করেন ‘দ্যা ক্যাবেজ ফেয়ারি’, যা সম্ভবত বিশ্বের প্রথম ন্যারেটিভ ফিল্ম। এরপর নিউজার্সির ফোর্ট লি তে একটি ফিল্ম স্টুডিও গড়ে তোলেন। হলিউডের আগে ফোর্ট লি ই ছিলো আমেরিকান চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রাণকেন্দ্র। স্বামীর সাথে ডিভোর্সের পর অ্যালিস আবার জন্মভূমি ফ্রান্সে ফিরে আসেন এবং সেখানে কাজ খুঁজে পাওয়াটা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

সিনেমায় পুরুষতান্ত্রিকতার দাপটে তাঁর নাম লোকে প্রায় ভুলেই গিয়েছিলো।  

১৯৬৮ সালের ২৪শে মার্চ ৯৪ বছর বয়সে নিউজার্সির একটি নার্সিং হোমে অ্যালিস তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বর্ণাঢ্য জীবনে অভিজ্ঞতা পেয়েছেন অনেক কিছুরই। মেয়ের সাথে একসাথে কাজ করেছেন অ্যামেরিকান ফরেন সার্ভিসে, অসংখ্য  চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন ও নির্দেশনা দিয়েছেন, নিজের পরিচালিত ‘ফার্স্টক্লাস মিডওয়াইফ’ চলচ্চিত্রে পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করেছে, দেখেছেন দুই দুইটা বিশ্বযুদ্ধ, পুরুষশাসিত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বারবার প্রত্যাখ্যাতও হয়েছেন। নারী হওয়ায় হয়রানির শিকার হয়েছেন, চলচ্চিত্রের শুরুর দিকে অসামান্য অবদান থাকা সত্ত্বেও অ্যালিসকে একসময় কাজের জন্য মানুষের দোরগোড়ায় ঘুরতে হয়েছে। ডিভোর্সের পর দুই সন্তানসহ যখন ফ্রান্সে ফিরে আসেন তখন চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি তাকে মোকাবেলা করতে হয়েছিলো। একসময় তাঁর বই, চিত্রকর্মসহ অন্যান্য অনেক মূল্যবান জিনিসপত্রও বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। নিজের জীবন সম্পর্কে অ্যালিস লিখেছিলেন, “এটা কি সাফল্য নাকি ব্যর্থতা? আমি জানিনা।“ 

২০১৮ সালে ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্র উৎসবের ক্লাসিক ক্যাটাগরিতে ‘বি ন্যাচারাল: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ অ্যালিস গি ব্লশে’ প্রদর্শিত হয়। উৎসবের L’Œild’or তথ্যচিত্র পুরষ্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলো বি ন্যাচারাল। এছাড়াও টেলুরিড ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ডিউভিল আমেরিকান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, নিউ ইয়র্ক ফিল্ম ফেস্টিভাল এবং লন্ডন বিএফআই ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল সহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তথ্যচিত্রটি বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সমালোচক পিট হ্যামন্ডের মতে, “বি ন্যাচারাল আসলে বায়োপিকের মোড়কে জড়ানো এক রহস্যগল্প। গল্পের সাথে সাথে আমার চোখে পানি চলে এসেছে। একজন অসাধারণ পরিচালকের দারুণ একটি কাজ!” চলচ্চিত্র সমালোচনা ফোরাম রটেন টম্যাটোর ৪৬টি রিভিউর মাঝে ৯৬% অ্যাপ্রুভাল পাওয়া তথ্যচিত্রটি সম্পর্কে দ্যা হলিউড রিপোর্টার লেসেলি ফেল্পেরিন মনে করেন, “ নারী চলচ্চিত্র নির্মাতারা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন এই তথ্যচিত্রে তা ফুটে উঠেছে এবং এটি চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেসব আলোচনা হচ্ছে সেখানে অসামান্য অবদান রাখবে। তাছাড়া এটি একইসাথে এমন একজন ব্যাক্তির সম্পর্কে তুলে ধরেছে যাকে নিয়ে অনেক বেশি আলোচনা হওয়া এবং রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা প্রয়োজন।  শেখানোর ক্ষেত্রে এবং সচেতনতা তৈরিতে বি ন্যাচারাল নিঃসন্দেহে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করবে।“  

অ্যালিস শুধু একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাই ছিলেন না, এর পাশাপাশি নারীদের মাঝে তিনিই ছিলেন প্রথম চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক এবং নিজস্ব স্টুডিওর মালিক। তাঁর কর্মময় জীবনের প্রতিনিধিত্বকারী এই তথ্যচিত্রটি নিয়ে আগামী ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ খনা টকিজ এর পক্ষ থেকে একটি প্রদর্শনী, এবং আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হচ্ছে।

সন্ধ্যা ৭ টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯ টা পর্যন্ত চলবে তথ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলবে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের সাথে আলোচনায় থাকবেন বি ন্যাচারাল এর পরিচালক পামেলা বি গ্রিন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে দর্শকদের প্রশ্নের জবাব দেবেন। আয়োজনটি সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক একটি আয়োজন এবং আসনসংখ্যা সাপেক্ষে  রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে কেবলমাত্র সীমিতসংখ্যক দর্শকই এতে অংশ নিতে পারবেন। আগ্রহীরা এই লিংকে যেয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *