follow us at instagram
Tuesday, October 27, 2020

অফিস অ্যাপ্লিকেশন শিখে দক্ষতা অর্জন করে ক্যারিয়ার গড়ুন সহজেই

ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় আজকাল খুব সহজেই ঘরে বসে যে কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন সম্ভব।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2019/07/computer-1280x822.png

অটোমেশনের এই যুগে যে কোন চাকরির প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত যোগ্যতার তালিকায় অফিস অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কে দক্ষতার উপস্থিতি লক্ষণীয়। প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানই বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনার জন্য অফিস অটোমেশনের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে একজন শিক্ষার্থী অথবা চাকরিপ্রত্যাশী এমন কি একজন চাকরিজীবীর জন্যও অফিস অ্যাপ্লিকেশনে পারদর্শিতা জরুরী। বিভিন্ন কাজের জন্য অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলো হল ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার, স্প্রেডশীট অ্যানালাইসিস সফটওয়্যার, ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার, প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার ইত্যাদি। 

অফিস অ্যাপ্লিকেশন কি?

সাধারণত অফিস ব্যবস্থাপনার জন্য অফিস অটোমেশন সিস্টেমের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয় যা অফিস অ্যাপ্লিকেশন নামে পরিচিত। বাণিজ্যিকভাবে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারগুলো কাস্টমাইজড ও প্যাকেজ এ দুইভাবে পাওয়া যায়। অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলোর ভেতর সর্বাধিক ব্যবহৃত প্যাকেজ সফটওয়্যার এর উদাহরণ হল মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপ্লিকেশন । এটির অন্তর্ভুক্ত সফটওয়্যার গুলোর মধ্যে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল, মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট, মাইক্রোসফট এক্সেস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। কম্পিউটারে হাতেখড়ি বলুন বা অফিসিয়াল কাজ, সবক্ষেত্রেই এ সকল অফিস অ্যাপ্লিকেশন গুলো সম্পর্কে জ্ঞান থাকা খুবই জরুরী।    

অফিস অ্যাপ্লিকেশন কেন শিখবেন? 

অনলাইন বা অফলাইন উভয় কর্মক্ষেত্রে কম্পিউটারের মৌলিক কাজগুলো জানার জন্য অফিস অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারগুলো বিশেষ করে মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপ্লিকেশন শেখা প্রয়োজন। এগুলো সম্পর্কে অর্জিত দক্ষতা পরবর্তিতে ব্লগিং, ফটোশপ, আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে পারদর্শিতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।  

এছাড়াও শুধুমাত্র অফিস অ্যাপ্লিকেশন ও ইন্টারনেট সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারণা থাকলে অনলাইনে ক্লায়েন্ট বা বায়ারদের চাহিদা অনুযায়ী ওয়েব থেকে ডেটা  কালেকটিং, ডেটা এন্ট্রি, টেক্সট টু এক্সেল ডেটা ট্রান্সফার, ইমেজ/ পিডিএফ  টু এমএস ওয়ার্ড টেক্সট ট্রান্সফার, পাওয়ারপয়েন্ট শর্ট প্রেজেন্টেশন ইত্যাদি  কাজের মাধ্যমেও অর্থ উপার্জন সম্ভব।   

সর্বাধিক প্রচলিত কিছু অফিস অ্যাপ্লিকেশন  সফটওয়্যার 

মাইক্রোসফট ওয়ার্ডঃ  

লেখালেখি সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজ যেমন, বায়োডেটা , দলিল,  প্রশ্নপত্র, চিঠিপত্র/ ই-মেইল টাইপিং এর পাশাপাশি ডিজাইনিং, বই তৈরি, প্রিন্টিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সহজ  ইন্টারফেসের কারণে কম্পিউটার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা সম্পন্ন যে কোন ব্যক্তি এটির মাধ্যমে প্রয়োজন অনুসারে লেখালিখির কাজ সম্পাদন, পরিবর্তন ও সংরক্ষণ করতে পারেন।

মাইক্রোসফট এক্সেলঃ 

বাজেট তৈরি, ব্যালেন্সশীট তৈরি ইত্যাদি বিভিন্ন গাণিতিক হিসাব নিকাশের কাজে স্প্রেডশীট সফটওয়্যার হিসেবে মাইক্রোসফট এক্সেল ব্যবহার করা হয়। বহুল ব্যবহারিত এই সফটওয়্যারটি ভালোভাবে শিখলে চাকরির ক্ষেত্রে, বড় ধরনের হিসাব-নিকাশসহ বিভিন্ন এডভান্স লেভেলের কাজ সহজেই করা সম্ভব। 

মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্টঃ 

মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট মূলত একটি প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার যার মাধ্যমে বিভিন্ন  বিষয়, ইলেক্ট্রনিক স্লাইডের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন  ও আকর্ষণীয় ভাবে উপস্থাপন সম্ভব। গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ শিখতে মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট সম্পর্কিত দক্ষতা খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে অনলাইনে প্রেজেন্টেশন বা বিভিন্ন কার্ড তৈরির ক্ষেত্রে  অ্যানিমেশন স্লাইড ব্যবহার, নকশার ব্যবহার ইত্যাদি করতে পারবেন এই সফটওয়্যার টির মাধ্যমে।  

মাইক্রোসফট ডেটাবেজঃ 

মূলত ডেটাবেজ তৈরির ক্ষেত্রে যেমন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যাক্তির জরুরী তথ্য, স্কুল-কলেজের সকল ছাত্র-ছাত্রী সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার  ব্যাবহার করা হয়।এগুলোর মধ্যে মাইক্রোসফট এক্সেস, মাইক্রোসফট এসকিউএল সার্ভার অন্যতম যা বর্তমানে ব্যাংকে এবং অফিসে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কিভাবে অফিস অ্যাপ্লিকেশন শিখবেন

ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় আজকাল খুব সহজেই ঘরে বসে যে কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন সম্ভব।এ জন্য প্রয়োজন ইচ্ছা শক্তি ও ধৈর্য। ইউটিউবের বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি চ্যানেল যেমন, টেন মিনিট স্কুল, শিক্ষণ, মাইক্রোসফট অফিস ৩৬৫, টিচার্স টেক ইত্যাদি ; বিভিন্ন ওয়েবসাইট যেমন , অফিস ৩৬৫ ট্রেইনিং সেন্টার, জিসিএফ লার্ন ফ্রি ,ফ্রি ট্রেইনিং টিউটোরিয়াল ইত্যাদির মাধ্যমে বিনামূল্যেই শিখে নিতে পারবেন মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপ্লিকেশন ।  

এছাড়াও  কোর্সেরা, ইউডেমি, লিঙ্কড ইন লারনিং-লিন্ডা,গো স্কিলস, ডিজিটাল ডিফাইন্ড ইত্যাদির মাধ্যম থেকে অনলাইনে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল বা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপ্লিকেশনের ওপর সার্টিফাইড কোর্স  করানো হয়ে থাকে। 

মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপ্লিকেশনের সফটওয়্যারগুলো বর্তমানে যে কোন সরকারি বা বেসরকারি চাকরি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হওয়ায় এগুলোর কাজ না জানলে বেশির ভাগ চাকরিতেই আপনি আবেদন করতে পারবেন না।এছাড়াও যারা অনলাইনে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে আয়ের পথ খুঁজছেন তারা যদি শুরুতেমাইক্রোসফট অফিস অ্যাপ্লিকেশন এর সফটওয়্যার গুলোর ব্যবহার শিখে পরবর্তীতে বড় ধরনের সফটওয়্যার এর কাজ শুরু করেন সেক্ষেত্রে খুব সহজে যে কোন কাজ শিখে ফেলতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *