follow us at instagram
Friday, December 04, 2020

মেডিক্যাল কোরে দেশের প্রথম নারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমা বেগম

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নারীদের অবস্থান অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেলেন নাজমা বেগম।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/10/fb_img_1602172713403_copy_789x4414773432083300359475.jpg
Image Source: alorjatra.com

২০০০ সালে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশে মহিলাদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়মিত কমিশন প্রাপ্ত অফিসার হিসাবে মহিলাদের প্রবেশের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। হাজার হাজার উৎসাহী নারী আবেদন করেছিলেন এবং এটি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সেই গৌরবের ইতিহাসে আরেকটি পালক যুক্ত হলো গত বৃহস্পতিবার ০৮-১০-২০২০ এ।বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিকিৎসা প্রশাসনে প্রথমবারের মত কোনো নারী কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত হলেন। বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,নারী ক্ষমতায়নের এই জ্বলন্ত সময়ে, এটি মহিলা খাতে উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন এবং মাইলফলক। আজ তারামনের পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেবো দেশের প্রথম বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাজমা বেগমের সাথে।

সেনাবাহিনীর নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম  তিনিই ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

নাজমা বেগম জাতিসংঘের ইতিহাসে সর্বপ্রথম নারী কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে দু’বার জাতিসংঘের লেভেল-২ হাসপাতাল কমান্ড করেন এবং দু’বার মিশন এরিয়ায় কান্ট্রি সিনিয়র হিসেবে  দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও  বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে থাকাকালীন তিনি দু’টি (বিএএফ বেস জহুর এবং বেস বাশার) মেডিক্যাল স্কোয়াড্রন কমান্ড করেন।

নাজমা বেগম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডার, এসআরএসজি, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রের সেনাপ্রধান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর প্রশংসাপত্র লাভ করেন। ২০১৬ এবং ২০১৯ সালের ‘মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন তিনি।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমা বেগমের অবদানের কথা উল্লেখ্য করে মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে নিযুক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত (এসআরএসজি) বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল কন্টিনজেন্টের অবদান শুধুমাত্র জাতিসংঘ ও স্থানীয়দের চিকিৎসা সেবার জন্যই সকলে স্মরণ করবে না, বরং সর্বপ্রথম নারী কমান্ডার হিসেবে কর্নেল (তৎকালীন) নাজমার জন্য ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নারীদের অবস্থান অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেলেন নাজমা বেগম। তার এই সাফল্য অনেক নারীকেই ভবিষ্যতে  সেনাবাহিনীতে যোগদানে আগ্রহী করে তুলবে।বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাজমা বেগমের প্রতি তারামন পরিবারের পক্ষ থেকে রইলো অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা।

তথ্যসূত্রঃ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ডেইলি স্টার, ট্রিবিউন বাংলা। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *