follow us at instagram
Friday, December 04, 2020

রসায়নে ২ নারীর নোবেল জয় মেয়েদের বিজ্ঞান গবেষণায় আগ্রহী করবে

যে গবেষণার জন্য এই বিজ্ঞানী যুগল নোবেল পেলেন সেই জিনোম বলতে কোন জীবের সামগ্রিক ডিএনএ কে বোঝায়।
https://taramonbd.com/wp-content/uploads/2020/10/148857-mfczmefkgn-1602148715.jpg
রসায়নশাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য রাজকীয় সুয়েডীয় বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি বিজ্ঞানীদেরকে প্রতিবছর রসায়নে নোবেল (সুয়েডীয় ভাষায় Nobelpriset i kemi) প্রদান করে। ১৮৯৫ সালে আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুসারে যে পাঁচ শাখায় নোবেল পুরস্কার দেয়ার কথা তার মধ্যে রসায়ন অন্যতম। বাকি বিষয়গুলো হচ্ছে পদার্থবিজ্ঞান, সাহিত্য, শান্তি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান। পরবর্তীতে অর্থশাস্ত্রকেও এই তালিকায় সংযুক্ত করা হয়। এই পুরস্কারের ব্যাপারটি দেখাশোনা করে নোবেল ফাউন্ডেশন। রসায়ন নোবেল কমিটির পরামর্শে রাজকীয় সুয়েডীয় বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি এই পুরস্কারটি প্রদান করে। প্রতিবছর নোবেলের মৃত্যু তারিখ ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে রসায়নে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় এবছর রসায়নে নোবেল পেয়েছেন দুই নারী। রসায়নশাস্ত্রে নোবেল পেলেন ফ্রান্সের এমানুয়েল শার্পেন্টিয়ার ও আমেরিকার জেনিফার এ দাউদনা। জিনোম এডিটিং এর একটি পদ্ধতির বিকাশ ঘটানোর কৃতিত্ব হিসেবে তাঁদের এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। বুধবার সুইডেনের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে (বাংলাদেশ সময় বিকেল প্রায় পৌনে ৪টা) রসায়নে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে দ্য রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে।
ফরাসি ও মার্কিন যুগলবন্দি। শারপেন্টিয়ের ফরাসি এবং দাউদনা মার্কিন৷ জিনোম এডিটিং-এর পদ্ধতি আবিষ্কার করার জন্য এই দুই নারী বিজ্ঞানী নোবেল পেয়েছেন৷তাঁরা ‘জেনেটিক সিজার্স’ আবিষ্কার করেছেন৷
নোবেল কমিটির মতে, এই আবিষ্কার জীববিজ্ঞানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে৷ এর জন্যই তাঁরা সোনার মেডেল সহ নয় লাখ পঞ্চাশ হাজার ইউরো পুরস্কার পাবেন৷
এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকরা পশু, গাছপালা এবং মাইক্রোঅর্গানিজম বা উদ্ভিজ্জাণুর ডিএনএ-তে বদল ঘটাতে সক্ষম৷ এই প্রযুক্তি জীববিজ্ঞানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাবে৷ এমনকি তার প্রভাব নতুন ক্যানসার চিকিৎসাতেও পড়বে৷ যে সব রোগ উত্তরাধিকার সূত্রে আসে, তাও নিরাময় করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷
যে গবেষণার জন্য এই বিজ্ঞানী যুগল নোবেল পেলেন সেই জিনোম বলতে কোন জীবের সামগ্রিক ডিএনএ কে বোঝায়। আসলে জিনোম থেকে ডিএনএ আলাদা করার উপায়কেই জিনোম এডিটিং বলে। তবে তার মধ্যেও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি।এর মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির বিকাশে অবদান রেখেছেন এই দুই নারীবিজ্ঞানী।
কোষের মধ্যে জিন পরিবর্তনের যে কাজটা এই দুই নারী গবেষক করেছেন তা কঠিন এবং অনেক সময়সাপেক্ষ।একসময় এসব অসম্ভব বলে মনে করা হতো৷ তাঁরা সিআরআইএসপিআর/ক্যাস৯ জেনেটিক সিজার্স ব্যবহার করে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন৷
২০১২ সালে তাঁরা এই আবিষ্কার করেন৷ তাঁদের কাজের উপর ভিত্তি করে পরে আরও অনেক কিছু আবিষ্কার হয়েছে৷ গবেষকরা নতুন নতুন দিকের সন্ধান পাচ্ছেন৷ এর ফলে নানাভাবে মানবতার উপকার সাধন হচ্ছে৷ নোবেল প্রাপ্তি প্রসঙ্গে ফ্রান্সের এমানুয়েল শার্পেন্টিয়ার বলেছেন, ”আমার ইচ্ছে যে, এই কৃতিত্ব তরুণ প্রজন্মের নারীদের ইতিবাচক বার্তা দেবে, যাঁরা বিজ্ঞানের পথ অনুসরণ করবেন এবং গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানে নারীরাও যে ছাপ ফেলতে পারেন, সে ব্যাপারে দিশা দেখাবে”।
এর আগেও যেসব নারী বিজ্ঞানী রসায়নে নোবেল পেয়েছেন তারা হলেন  মারি ক্যুরি, জ্যুলিয়া ক্যুরি (১৯৩৫), ডরোথি হজকিন (১৯৬৪) এবং আডা যোনাথ (২০০৯)।
তথ্যসূত্রঃ ডি ডব্লিউ, বেঙ্গলি.ইন্ডিয়ানএক্সপ্রেস.কম, সিবিএস নিউজ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *